kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



ফেসবুক থেকে পাওয়া

আজও মনে আছে তার

ট্রেনে সিট পাইনি। ভার্সিটি থেকে ষোলোশহর পর্যন্ত দাঁড়িয়েই আসতে হলো। তারপর একটা সিট পেলাম। বসে মোবাইলটা হাতে নিলাম। একটা অচেনা নম্বর থেকে তিন তিনটি কল! চার বা পাঁচ মিনিট হবে কলগুলো এসেছে। একটু পর আবারও কল। ওপাশ থেকে মেয়েলি কণ্ঠ ভেসে এলো।

হ্যালো, আপনি কি ইরফান?

হ্যাঁ। কে বলছেন, প্লিজ!

আমি মিতিশা, চিনতে পেরেছেন?

স্যরি, এই নামে তো আমার পরিচিত কেউ নেই। আপনি বোধ হয় ভুল নম্বরে কল করেছেন।

না তো, আমি সঠিক জায়গায়ই কল করেছি।

কেমনে বুঝলেন?

আমি সানজিদা মিতিশা বলছি, ওই যে দেবিদ্বারের।

থতমত খেয়ে গেলাম। একটু একটু করে মনে পড়তে লাগল। আচ্ছা, আমি এখন খুব ব্যস্ত। বাসায় গিয়ে কল দিচ্ছি, কেমন!

এই বলে ফোনটা কেটে দিলাম। ধীরে ধীরে পুরো ব্যাপারটা পরিষ্কার হতে থাকে। সর্বশেষ ওকে কবে দেখেছি, ঠিক মনে নেই। হয়তো এসএসসির ফল প্রকাশের দিন। একই গ্রামে বাড়ি। সেই প্রাইমারি থেকে একসঙ্গে স্কুলে যাওয়া-আসা। হাই স্কুলে এসে তেমন একটা আগের মতো করে একসঙ্গে ছিলাম না; কিন্তু কেমন জানি একটা ভালো লাগা তৈরি হয়েছিল। আমার প্রতি তারও যে দুর্বলতা ছিল কিছুটা হলেও বুঝতাম; কিন্তু এ নিয়ে কোনো কথা বলিনি। এভাবেই এসএসসি দিয়ে চলে আসি শহরে। এখন আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। গ্রাম ছাড়ার পর থেকে ওর সঙ্গে আর দেখা বা যোগাযোগ কোনোটাই হয়নি। সেইবার বাড়িতে যাওয়ার পর আম্মুর মুখে শুনেছি, ওর নাকি বিয়ে হয়ে গেছে গত বছর। ভাবতে ভাবতে ততক্ষণে বাসায় চলে আসি। গোসল আর খাওয়াদাওয়া সেরে কল দিলাম। কুশলাদি বিনিময়ের পর হঠাৎ একটা প্রশ্ন করে বসে মিতিশা।

এই, তুমি কি আমাকে ভালোবাসতে?

এমন আচমকা প্রশ্নের জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না। আমতা আমতা করে বললাম—হঠাৎ এ প্রশ্ন?

না, আসলে একটা কথা কি জানো? সেই হাই স্কুলে পড়ার সময় থেকে তোমাকে আমার কেমন জানি ভালো লাগত; কিন্তু বলতে পারিনি সাহস করে। বিয়ের পর থেকে সব স্মৃতি এসে নাড়া দেয় মনে। ইদানীং তোমাকে খুব ফিল করি। ভুলে থাকতে চেয়েও পারি না।

কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেলে মিতিশা। আমার চোখেও কখন পানি চলে আসে টেরই পাইনি। কয়েক মুহূর্তের জন্য ফিরে গেলাম সেই সোনাঝরা দিনগুলোতে।

—মাহবুব এ রহমান

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

 

‘বাবা’ বলে ডাকতে ইচ্ছা করে

‘বাবা’ ও ‘মা’ ডাকটা খুব প্রিয় আমার। কেমন যেন একটা স্বস্তি লাগে। মাকে তো মা, আম্মু, আম্মা, মাম্মা—সব ডাকি! একবার না হাজারবার ডাকি। কারণে-অকারণে ডাকি। বিরক্ত করি। মজা পাই। কিন্তু ছোট থেকে বাবাকে আব্বু বলে ডেকে আসছি। আর তাঁর সঙ্গে একটু দূরত্বও আছে। যার কারণে আব্বুটাই ডাকা হয়। বাবা ডাকতে গিয়েও ডাকা হয় না। এক দিন তো ডেকেই দিছিলাম, ভাগ্যিস বাবা শোনেননি। পরে আব্বুতে ফিরে আসি। এখনো মাঝেমধ্যে আগে আস্তে করে বাবা ডাকি, তারপর আব্বু; কিন্তু বাবা কেমন যেন বুঝতে পারেন। ‘হু-ও-ও’ করে একটা জবাব দেন, যা আমাকে অবাক করে। মনে হয় আমার ডাকাটা বুঝি বাবার কান পর্যন্ত গেল।

ছোটবেলা থেকে বাবা আমার আইডল। বাবার ফুটস্টেপ ফলো করাকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম; কিন্তু ফুটস্টেপ ফলো করতে করতে ছোট ভাইটার চেয়েও বেশি ভুল আমি করেছি। এখনো করি, রোজ ভুল করি আর বাবা কখনো বকা দিয়ে, কখনো আদর করে বুঝিয়ে আসছেন। বাবা, তুমি এত ভালো কেন?

সোহানা

বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি

 

হানিমুন

হানিমুনের জায়গা নির্বাচনের সুযোগ পাইনি। জুমার নামাজ পর্যন্ত অপেক্ষা করারও সুযোগ ছিল না। তাই বিয়ে হয়েছে সকালেই। বিকেলের ট্রেনেই রওনা দিতে হবে। মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে ওর সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জয়েন করার লাস্ট ডেট ছিল বিয়ের এক দিন পরই। বিয়েতে যাঁরা উপস্থিত হয়েছিলেন, সবার একটাই আফসোস—আহারে! বাসর তাহলে ট্রেনে!

আমার খুব ভালো লাগছিল। কারণ ট্রেন ছাড়লেই আমি অপলক দৃষ্টিতে সম্পাকে দেখতে পারব। সারা রাত জেগে থাকব। সম্পা যখন সারা দিনের ক্লান্তি ভুলে আমার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাবে, তখন যেন ওর কোনো কষ্ট না হয়, তাই আমাকে রাত জেগে থাকতে হবে। আরো অনেক চিন্তা মাথায় ঘুরছিল। মনে পড়ল কী তাড়াহুড়া করেই না আমাদের বিয়ে হলো! অথচ বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে ছিল প্রায় ১৪ মাস আগে। আরো ভাবছিলাম, সম্পা কী আমাকে বিয়ে করে আসলেই খুশি! একজন ডাক্তার মেয়ের সঙ্গে সাধারণ একটি কলেজের প্রভাষক—সত্যিই তো বেমানান, হোক না সেটা জাপানিজ কলেজ। নিজ এলাকায় পোস্টিং হলে হয়তো এভাবে বিয়ে হতো না। ধুমধাম করে পূর্বনির্ধারিত ডেটেই হতো। কিন্তু দূরে পোস্টিং হওয়ার কারণেই এমন তাড়াহুড়া।

সাতক্ষীরা পৌঁছে আমরা জানলাম, সিভিল সার্জনের ফরওয়ার্ডিং লেটার ছাড়া জয়েন করা যাবে না। শনিবার সিভিল সার্জনের অফিস বন্ধ। তার মানে আরো এক দিন বিলম্ব হবে। হোটেলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আমরা বের হলাম সম্পার নামের সিল বানানোর জন্য। সিল বানাতে এক ঘণ্টা সময় লাগবে। পাশের একটা চায়ের দোকান সম্পার বেশ ভালো লাগল। দোকানের পেছনটাও সুন্দর। বসার ব্যবস্থা আছে। পাশের লেকটার অপূর্ব দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা আসার ভোগান্তিটা যেন মুহূর্তেই ভুলে গেলাম। চা যখন শেষের দিকে, সম্পা বলল, ‘এখানে বসে খুব ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে, আমরা আসলে এখানে কাজে আসিনি, একটা অপরিচিত জায়গায় হানিমুনে এসেছি।

সায়েক সজীব

গাজীপুর



মন্তব্য