kalerkantho


সুখবর বাংলাদেশ

আমিনুর সম্মান পেলেন

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



আমিনুর সম্মান পেলেন

একজন ডা. আমিনুর রহমান

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন ১৯৮৬ সালে। যুক্তরাজ্যের ড্যান্ডি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর হন ১৯৯৭ সালে। ২০১০ সালে তিনি স্টকহোমের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের পাবলিক হেলথ সায়েন্স বিভাগ থেকে ডক্টরেট হন। তিনি প্রিভেনশন অব চাইল্ড ইনজুরিজ থু্র সোশ্যাল ইন্টারভেনশন অ্যান্ড এডুকেশন শিরোনামের কমিউনিটিভিত্তিক গবেষণাকর্মের অন্যতম প্রধান গবেষক। তিনি ডাব্লিউএইচওর গ্লোবাল রিপোর্ট অন ড্রাউনিং প্রিভেনশনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য। কানাডায় ২০১৭ সালে ইন্টারন্যাশনাল লাইফ সেভিং ফেডারেশন তাঁকে পানিতে ডুবে মৃত্যুহার প্রতিরোধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান করে। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পাবলিক হেলথ বিভাগেও তিনি পাঠদান করেন।

ডা. আমিনুর রহমান দেড় যুগ ধরে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে কাজ করছেন। সম্প্রতি তিনি দ্য রয়েল লাইফ সেভিং সোসাইটি কমনওয়েলথের ড্রাউনিং প্রিভেনশন ডিরেক্টর নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে আলাপে বসেছিলেন

ইমরোজ বিন মশিউর

 

শুধু আমার নয়, দেশের জন্যও সম্মানের ব্যাপার

পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু বিষয়ে পিএইচডি করেছেন। বিষয়টি আনকমন। গোড়ার দিকের কথা কিছু জানতে চাইছি।

১৯৯৭ সালের কথা। শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে আমি সহকারী অধ্যাপক। দুজন মানুষের সঙ্গে দেখা হলো সেখানে—একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর এম কিউ কে তালুকদার, অন্যজন ডা. এ কে এম ফজলুর রহমান। ফজলুর রহমান তখন সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটে পিএইচডি করছিলেন। তাঁর একটি প্রবন্ধ পড়ে জানতে পারি শেরপুর সদর উপজেলায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর ২৫ শতাংশই ঘটে পানিতে ডুবে। ডা. রহমান আমাকে বললেন, সারা দেশের জরিপ কিন্তু করা হয়নি। তাই তেমন তথ্য-উপাত্তও নেই। আরো বললেন, পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে আজ পর্যন্ত আমাদের এখানে কোনো গবেষণা হয়নি। আমার খুব চিন্তা হলো। ডা. রহমানের সহযোগিতায় ২০০২ সালে ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটে পিএইচডি করার সুযোগও পেয়ে গেলাম। প্রফেসর লেইফ এসভ্যানস্ট্রমের সঙ্গে ডা. রহমানও আমার সুপারভাইজার হলেন। সেই থেকে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের উপায় খুঁজে চলেছি। ২০০৫ সালে আমরা কয়েকজন সহকর্মী মিলে গড়ে তুলি সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)।

 

আপনাদের গবেষণার ফলাফল কিছু বলুন।

সিআইপিআরবির সর্বশেষ জরিপটি হয় ২০১৬ সালে। নাম ছিল বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভে ২০১৬। এ থেকে আমরা জানতে পেরেছি প্রতিবছর ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়। গড়ে প্রতিদিন ৫০ জনেরও বেশি। এদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ মানে ১৪ হাজার হলো ১৮ বছরের কম বয়সী, মানে দিনে ৪০ জনেরও বেশি। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে এক থেকে চার বছরের শিশুরা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ৫ থেকে ৯ বছর বয়সীরা। দুই-তৃতীয়াংশ শিশুমৃত্যু ঘটে বাড়ি থেকে মাত্র ২০ মিটার দূরের পুকুর বা ডোবায়। এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের অর্ধেকই ডোবে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে। কারণ ওই সময় মায়েরা বাড়ির দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত থাকেন বেশি। বর্ষাকালে মৃত্যুর হার বেশি। প্রতিরোধ করতে চেয়ে সিআইপিআরবি কয়েকটি কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। উল্লেখযোগ্য হলো ‘আঁচল’ ও ‘জীবনের জন্য সাঁতার’ কার্যক্রম। আঁচল হচ্ছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার। দেশের ছয়টি উপজেলায় দুই হাজার আঁচল চালু রয়েছে এখন।  প্রতিটি সেন্টারে দুজন মহিলা ২৫ জন শিশুর যত্ন নেয়। আর জীবনের জন্য সাঁতার কার্যক্রমে ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের সাঁতার শেখানো হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিশ্ব পরিস্থিতি জানতে চাইছি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রতিবছর প্রায় তিন লাখ ৬০ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়। এশিয়া ও আফ্রিকার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতেই ঘটে বেশি প্রাণহানি। পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। ধনী দেশগুলোতে সুইমিং পুল আর সমুদ্রসৈকতেই বেশি প্রাণহানি ঘটে। তবে ওই সব দেশে সতর্কতা অনেক বেশি। তারা পানি নিরাপত্তা আইন তৈরি করেছে। নির্ধারণ করেছে পানি নিরাপত্তা সূচক।  

 

আপনি দ্য রয়েল লাইফ সেভিং সোসাইটি কমনওয়েলথের ড্রাউনিং প্রিভেনশন ডিরেক্টর নির্বাচিত হয়েছেন। বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন?

নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। এই সম্মান শুধু আমার নয়, আমার দেশেরও বটে। পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে দেশের অবদানেরই স্বীকৃতি এটি। এটি একটি বড় দায়িত্ব। আমার চেষ্টা থাকবে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে যেন পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার কমানো যায়।

 

কাজ করতে গিয়ে কোনো বাধা পেয়েছিলেন?

ঠিক বাধা নয়, আমাদের জরিপের তথ্য-উপাত্ত অনেকে মানতে পারেননি, এমনকি নীতিনির্ধারকরাও। পানিতে ডুবে মৃত্যু বিষয়টি নীরবে ঘটে যায়। যে পরিবারে ঘটনাটি ঘটে, তারা নিয়তির হাতে নিজেদের সঁপে দিয়ে কষ্ট মেনে নেয়। অনেক সময় পুলিশ রিপোর্টও হয় না। তাই প্রকৃত সংখ্যাটি অজানাই থেকে যায়। তবে এখন অনেকেই মানছেন জরিপের ফল। তাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে পারছে।

 

 



মন্তব্য