kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

আমার বন্ধু ফজলু

১৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



ম্যাট্রিকের পর আর দেখা না হওয়ায় ফজলুল হকের বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। এই ছয় বছরে বেশ কয়েকবার আমাদের ব্যাচের সবাই ঈদের পরে গেটটুগেদার করেছি। কিন্তু টেস্টে ফেল করা ফজলুল আসেনি। এখনো নাকি তার লজ্জা করে। ম্যাট্রিক পাস করতে পারেনি। বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করে। আমাদের ব্যাচের মধ্যে শুধু ওর কোনো খোঁজ-খবর রাখতে পারতাম না। ও বৃত্তের বাইরে চলে গিয়েছিল। গ্রামেই থাকত। তবে পাশের বাজারেও নাকি খুব কমই যেত। ফজলুল মোবাইল ব্যবহার করত কি না জানি না। তো ঈদের পর ওর খোঁজ-খবর নিতে থাকলাম। আমাদের ব্যাচের সবার সঙ্গে মোটামুটি যোগাযোগ আছে। কিন্তু ওর ফেসবুক আইডিও নেই। ওর বাড়ি ছিল প্রায় মাইল চারেক দূরে। তার গ্রামের অন্য বন্ধু কাতার থাকে। তাই সে সাহায্য করতে পারল না। যাব যাব করছি এমন একদিন ফেসবুকে দেখলাম আরেক বন্ধু লিখেছে ‘ফজলুল হক আর নেই’। বুকটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে ওকে ইনবক্সে জিজ্ঞেস করলাম—আমাদের ব্যাচের ফজলুল নাকি? ও আমাকে একটা ছবি দিল। হ্যাঁ, সেই ফজলুল হক, যে পড়া পারত না বলে পেছনের বেঞ্চিতে বসে থাকত। আমার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল। ওকে পড়ায় সাহায্য করতাম। কিন্তু টেস্টের পর আর কোনো পাত্তা পেলাম না। আমারও কি দোষ কম? টেস্টের পর রাত-দিন পড়া। ভালো রেজাল্ট হলে কলেজ, তারপর ভার্সিটি। হয়তো ফজলুল হকের বড় অভিমান ছিল—কেউ তার খবর নেয়নি। যা হোক, ওর জানাজায় আর যাইনি। জীবিত মানুষকে একটা দিন দেখতে গেলাম না, মরা মানুষ দেখে কী লাভ? যেখানে আছিস ভালো থাকিস বন্ধু।

—নিষাদ তৌহিদ

ঠিকানা পাওয়া যায়নি।



মন্তব্য