kalerkantho


রূপ বদল

চঞ্চল হলেন মিসির আলি

হুমায়ূন আহমেদের মিসির আলিকে ঘিরে কৌতূহলের শেষ নেই। দেবী চলচ্চিত্রে মিসির আলি হয়েছেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। চঞ্চলের সঙ্গে গল্পে বসেছিলেন নাঈম সিনহা

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



চঞ্চল হলেন মিসির আলি

সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না চঞ্চলের জন্য। বললেন,‘প্রথমে আমি এই চরিত্রে অভিনয় করব কি না তা নিয়ে সংশয়ে ছিলাম। কারণ আয়নাবাজি সিনেমার পর দর্শকদের প্রত্যাশা বেড়েছে। তাই চাপ বেশি। তার ওপর হুমায়ূন আহমেদের এ চরিত্রটি পাঠকের ভেতরে বাস করে। পাঠকরা নানাভাবেই মিসির আলিকে কল্পনা করে। অনেকে নিজেই মিসির আলি হয়ে দিন কাটায়। সবার রকম তো আবার এক নয়। তাই সবার সঙ্গে মিলিয়ে মিসির আলিকে বাস্তবে আনা বিরাট চ্যালেঞ্জ। দুই থেকে আড়াই মাস ভাবার পর এই চ্যালেঞ্জ নিয়েছি।’

 

চঞ্চলের মিসির আলি

কলেজজীবন থেকেই মিসির আলির সঙ্গে পরিচিত চঞ্চল। দেবী তখনই পড়া হয়ে গেছে দুই-তিনবার। ছোট পর্দায় মিসির আলিকে দেখেওছেন। তবে চঞ্চল নতুন মিসির আলি হতে চেয়েছেন। তাই পরিচালকের সঙ্গে দিনের পর দিন আলোচনা করেছেন—মিসির আলি কিভাবে হাঁটবে, কী জামা পরবে, চশমাটা গোল না চারকোনা হবে ইত্যাদি নিয়ে। বললেন চঞ্চল, ‘মিসির আলি বাস্তবের নয়, উপন্যাসের একটি চরিত্র। যখন যে অভিনয় করবে, সে তার মতো করেই ফুটিয়ে তুলবে। আগের মিসির আলিগুলোর মতো হতে চাইনি। দেবদাস চরিত্রটি যেমন সৌমিত্র, বুলবুল আহমেদ আর শাহরুখ খান করেছেন। যার যার মতো করেই চরিত্রটি তাঁরা দর্শকের সামনে হাজির করেছেন।’

‘হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং তাঁর লেখা পড়ে মনে হয়েছে তিনি নিজেই মিসির আলি। তাঁর হাঁটাচলা, কথা-বার্তার সঙ্গে হিমু আর মিসির আলীর মিল খুঁজে পাওয়া যায়। আমার মিসির আলিতে হুমায়ূন আহমেদও আছেন।’

 

মিসির আলির লুক

চঞ্চলকে দর্শকরা অনেকবার ভিন্ন রূপে দেখেছেন। এবার চঞ্চলকে মিসির আলি রূপে দেখবেন। মেকআপ আর্টিস্ট বিভিন্ন লুক দিয়েছেন চঞ্চলকে। পরিচালকসহ সিনেমা দলের অন্যরা তাতে মিল-অমিল খুঁজেছেন। বলছিলেন চঞ্চল, ‘আমার মনে হয় ১৫ থেকে ২০টি লুক দেওয়া হয়েছিল। কখনো দাড়িসহ, কখনো গোঁফ ছাড়া। কখনো চশমাসহ ও চশমা ছাড়া মিসির আলিকে দেখা হয়েছে। যেন  পর্দায় চঞ্চলকে নয়, মিসির আলিকেই দেখেন দর্শক।’

 

চুল ও দাড়ি

চুল : উষ্কখুষ্ক পাগলাটে স্বভাবের মিসির আলির চুল কেমন হবে। তা নিয়ে চলেছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। চঞ্চল বললেন, ‘প্রথমে কয়েক ধরনের কৃত্রিম চুল (উইগ) আনা হলো। সেগুলো পরে ট্রায়াল দিলাম। সেখান থেকে চুলের ধরন ঠিক হলো; কিন্তু স্ক্রিন টেস্টে দেখা গেল পরচুলা ক্যামেরায় বোঝা যাচ্ছে। তারপর উইগ না লাগিয়ে কী করা হয়েছিল সেটি কিছুটা রহস্য হয়েই থাকুক। পুরোটা জানতে হলে দেখতে হবে সিনেমাটি।’

দাড়ি : নানা রকম দাড়ি রেখেছিলেন চঞ্চল। বুঝতে চেয়েছিলেন কোনটা মিসির আলির সঙ্গে যায়। শেষে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিল হালকা দাড়ি থাকবে মিসির আলির মুখে। 

 

মিসির আলির চশমা

৪০-৫০টি চশমা আনা হয়েছিল মিসির আলি চরিত্রের জন্য। চলেছে সেগুলো নিয়ে যাচাই-বাছাই। ফুল ফ্রেম, হাফ ফ্রেম, চিকন ফ্রেম, মোটা ফ্রেম—বিভিন্ন রকম ফ্রেম আনা হয়। সব ফ্রেমই ৮০-৯০ দশকের সময়টাকে ধারণ করে। শেষ পর্যন্ত কালো মোটা ফ্রেমের যে চশমাটি মিসির আলি পরেছেন, সেটি সিনেমার পোস্টার ও ট্রেইলারে দেখা গেছে। সেই চশমার সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে ‘মিসির আলির চশমা’ নামের বইয়ের প্রচ্ছদের।

 

পোশাক

পাঞ্জাবি, শার্ট নাকি ফতুয়া—মিসির আলির পোশাক আসলে কী হবে? চঞ্চল জানালেন, পোশাক নির্ধারণের জন্য প্রথমে আনা হয়েছিল বিভিন্ন কাটিংয়ের পাঞ্জাবি। সেগুলোর স্টাইল ছিল বিভিন্ন সময়ের। তবে দেখা গেল, তা ঠিক মিসির আলির সঙ্গে যাচ্ছে না। এরপর শার্ট পরানো হলো। পোশাক বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ৭০ বা ৮০ দশককে মাথায় রাখা হয়েছিল। খেয়াল রাখা হয়েছিল মিসির আলির পেশাগত দিকটাও। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক। কিছুটা উষ্কখুষ্ক পাগলাটে স্বভাবের, খিটমিটে মেজাজের। বয়স তাঁর ৪৫-৫০ বছর। থাকেন একটি দালানের ছাদে। তাঁর ঘরে হাজার হাজার বই। সিদ্ধান্ত হয় পাঞ্জাবি নয়, ঢিলেঢালা শার্ট ও প্যান্ট পরবেন মিসির আলি। সে অনুযায়ী দর্জির কাছে কাপড়ের অর্ডার দেওয়া হয়। ওই বয়সের সেই সময়ের একজন লোক এই সময় কেমন পোশাক পরতে পারেন। সে ধারণা থেকেই পোশাক পছন্দ করা হয়েছে।

 

ফাইনাল ফলাফল

মিসির আলির মাথায় কাঁচা-পাকা চুল। চোখে কালো মোটা ফ্রেমের চশমা। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। পরেন শার্ট ও ক্যাজুয়াল প্যান্ট।

 

কণ্ঠ ঠিক চঞ্চলের নয়

চঞ্চল বললেন, ‘আমাদের বয়স তো এক নয়। তাই মিসির আলির কণ্ঠ আমার কণ্ঠ হবে না। এডিটিং টেবিলে গিয়ে পরিচালকের মনে হলো কণ্ঠের কিছু পরিবর্তন দরকার। আমার কণ্ঠ কিছুটা লাউড শোনাচ্ছিল। ডাবিংয়ে গিয়ে তাই ভয়েস পরিবর্তন করা হলো। কয়েক রকম কণ্ঠ করে রেকর্ড করলাম। এরপর যখন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বসল তখন আবারও কিছু পরিবর্তন হলো। এভাবে কয়েক ধাপে মিসির আলির কণ্ঠ ও উচ্চারণ ঠিক হলো। যেটা শুনলে ঠিক চঞ্চলের কণ্ঠ মনে হবে না। দর্শকরা হলে গিয়ে চমকেও যেতে পারেন। তবে কণ্ঠ আসলে আমারই।’

 

মিসির আলির ঘড়ি

মিসির আলির ঘড়ি কেমন হবে, সে জন্য বিভিন্ন রকম ঘড়ি আনা হয়। অবশ্যই সেটা আধুনিক ডিজিটাল ঘড়ি নয়। তাই তাঁর জন্য পুরনো মডেলের কিছু ঘড়ি আনা হলো। সেখান থেকে পুরনো মডেলের সিকো ফাইভ অ্যানালগ ঘড়ি বেছে নেওয়া হলো। ঘড়িটিকে প্রতিদিন চাবি দিতে হয়। ভুলো মনা স্বভাবের কারণে হয়তো চাবি না দেওয়ায় ঘড়িটি মাঝেমধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। সেটাই সিনেমায় পরতে দেখা যাবে মিসির আলিকে।

 

মিসির আলির মোবাইল

যেহেতু দেবী সিনেমায় বর্তমান সময়ে দেখা যাবে মিসির আলিকে, তাই তাঁর হাতে একটি মোবাইল ফোন থাকা স্বাভাবিক। তবে সেই ফোনটি কেমন হবে! মিসির আলির লুক সত্তর বা আশির দশকের; কিন্তু গল্পটি এই সময়ের। দেখা যাবে মিসির আলি ফেসবুক চালাচ্ছেন। একটি পুরনো মডেলের বাটন ফোন ব্যবহার করছেন। মোবাইলটা বারবার হারিয়ে যায়। তাই ঝুলিয়ে রাখেন গলায়।



মন্তব্য