kalerkantho


ভুল সবই ভুল

হৃদযন্ত্র আবার চালু করে সিপিআর

সবাই সত্যি জানে—এমন অনেক কথা পরে যাচাই করে দেখা গেছে সেগুলো মিথ্যা। লিখেছেন আসমা নুসরাত

২১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



হৃদযন্ত্র আবার চালু করে সিপিআর

সিনেমা আর নাটকে প্রায়ই দেখবেন কেউ একজন হাঁটু গেড়ে বসে শায়িত আরেকজনের বুকে ক্রমাগত চাপ দিয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরেই শায়িত মানুষটি খকখক কেশে উঠে জীবনে ফিরে আসে। একটি জরিপে দেখা গেছে, হলিউডে এভাবে জীবন ফিরে পাওয়ার হার ৭৫ ভাগ। যুক্তরাজ্যের ছবিগুলোতে অবশ্য বাস্তবের সঙ্গে মিল রাখার চেষ্টা লক্ষণীয়। সেখানে সাফল্যের হার ২৫ ভাগ। এই চাপ দিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটিই সিপিআর। পুরোটা হলো কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেইশন। কার্ডিও শব্দের মানে হৃত্সংক্রান্ত। পালমোনারি হলো ফুসফুসসংক্রান্ত আর রিসাসিটেইশন হলো নতুন জীবন দান। এখানে লক্ষণীয় শব্দটি হলো ফুসফুসসংক্রান্ত। বলতে চাইছি, সিপিআর শুধু হৃদযন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যাপার নয় এবং সিপিআর দিয়ে হৃদযন্ত্র আবার চালুও করা হয় না। সিপিআর দিয়ে মূলত সময় কেনা হয়। যারা আচম্বিত হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হন, তাঁদের ক্ষেত্রে সিপিআর বেশি প্রযোজ্য। তাঁদের হৃদযন্ত্র এত কম পরিমাণে শরীরে রক্ত সঞ্চালন করতে পারে যে মস্তিষ্কে রক্তের প্রবাহ কমে যায়। সিপিআর দিয়ে মূলত তাঁদের ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয় যেন মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা না পাওয়া পর্যন্তই সাধারণত এটা করা হয়ে থাকে। তাই সিপিআর সাফল্যের হার নির্ভর করে হাসপাতাল থেকে কত দূরে আপনার বাড়ি তার ওপর। শেষ কথা হলো, সিপিআর দেওয়া হয় মস্তিষ্ক সচল রাখার জন্য, হৃদযন্ত্র চালু করতে ইলেকট্রিক শক লাগে।



মন্তব্য