kalerkantho


রাজপুত্রের বিয়েতে মিনহাজের উপহার

২৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



রাজপুত্রের বিয়েতে মিনহাজের উপহার

হ্যারি অ্যান্ড মেগান : আ রয়াল রোমান্স ছবির একটি দৃশ্য

রাজপুত্র হ্যারির বিয়ে হলো ১৯ মে। আর ১৭ মে মিনহাজ হুদা দেখালেন তাঁর নতুন ছবি হ্যারি অ্যান্ড মেগান : আ রয়াল রোমান্স। মিনহাজ দেশি মানুষ জানতে পেরে খুশি হয়েছেন তাহসিন চোকদার

 

একজন মিনহাজ হুদা

এখন লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকছেন হুদা। তিনি একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ চলচ্চিত্র ও টিভি নির্মাতা। বেশি পরিচিত কিডাল্টহুড চলচ্চিত্রের জন্য। তিনি বাংলাদেশে (তখন পূর্ব পাকিস্তান) জন্মেছেন ১৯৬৭ সালে। তবে যুক্তরাজ্যে চলে এসেছিলেন শিশুবেলায়ই এবং লন্ডনেই বেড়ে উঠেছেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি প্রকৌশল বিষয়ে ডিগ্রি নিয়েছেন। টেলিভিশনে তিনি শুরুতে কাজ করেছেন এডিটর হিসেবে। ১৯৯৩ সালে নির্মাণে আসেন। সে সময় হিপনোসিস ছিল একেবারে নতুন ধারার ডান্স মিউজিক শো। হিপনোসিস করেছিলেন চ্যানেল ফোরের জন্য। ১৯৯৮ সালে তিনি জাম্প বয় নামের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর ছবি লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউ ইয়র্কেও প্রদর্শিত হয়। ১৯৯৯ সালে তিনি কুইয়ার অ্যাজ ফোক টু নামের টিভি সিরিজ নির্মাণ করেন। কিডাল্টহুড চলচ্চিত্রের জন্য তিনি ২০০৬ সালে ডগলাস হিকক্স অ্যাওয়ার্ডে সেরা ডেব্যু পরিচালক হন। তাঁর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র এভরিহয়্যার অ্যান্ড নোহয়্যার মুক্তি পায় ২০১১ সালে। তাঁর হরর থ্রিলার কামডাউন মুক্তি পেয়েছে ২০১২ সালে।

     সূত্র : ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজ (আইএমডিবি)

 

 

মিনহাজের কিছু ছবির তালিকা

ইজ হ্যারি অন বোট? (২০০১)

কিডাল্টহুড (২০০৬)

ওয়েস্ট টেন লন্ডন (২০০৮)

স্লাকিস্তান (২০১০)

এভরিহয়্যার অ্যান্ড নোহয়্যার (২০১১)

কামডাউন (২০১২)

 

 

‘আমি অ্যাকশন ছবি পছন্দ করি’

আরেকটি এই সময়ের গল্প নিয়ে এলেন (এভরিহয়্যার অ্যান্ড নোহয়্যার)। আপনার জীবনের ঘটনার কি প্রতিফলন আছে এর মধ্যে?

হ্যাঁ, এই ছবির নায়ক অ্যাশও ডিজে হতে চায়। কিন্তু তাঁর বাবা এটা পছন্দ করে না। আমার জীবনে অবশ্য এই সংঘাত দেখা দেয়নি।

 

আপনার কি মনে হয় জেনারেশন গ্যাপটা রয়েই যাচ্ছে?

হ্যাঁ, এখনো আছে। আমাদের মতো পরিবারগুলোর (অভিবাসী) ভালো-মন্দের নিজস্ব হিসাব রয়েছে। আগের (দ্যাশের) অভিজ্ঞতা তারা চাইলেও ঝেড়ে ফেলতে পারে না। তারা থাকছে এখানে; কিন্তু জীবনযাপন করছে ওখানকার। কাজেই নতুনদের সঙ্গে তো সংঘাত লাগবেই।

 

আপনি কিভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণে এলেন?

আমার শুরুটা মিউজিক ভিডিও দিয়ে। আশির দশকের শেষ দিকে আমি ডিজেয়িং শুরু করি। কিন্তু আমি টিভির জন্য কাজ করতে চাইতাম। আমি পরে ভিডিও এডিটর হওয়ার প্রশিক্ষণ নিলাম। তারপর ১৯৯৩ সালে চ্যানেলফোরের জন্য একটি মিউজিক শো নির্মাণ করি। আমি প্রথম একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করি ১৯৯৮ সালে।

 

নির্মাতাদের মধ্যে আপনার পছন্দের তালিকায় কে কে আছেন?

টনি স্কট এক নম্বরে। আমি তাঁর ছবি গোগ্রাসে গিলি। লুক বেসোঁর ছবিও পছন্দ করি।

 

আপনার কামডাউন তো হরর ধাঁচের ছবি। আপনি কি হরর ছবি পছন্দ করেন?

আমি আসলে অ্যাকশন ছবি পছন্দ করি। তবে এই ছবিটি করতে গিয়ে আমি সত্তর ও আশির দশকের কিছু হরর ছবি দেখেছি। বিশেষ করে সেই সময়ের জন কার্পেনটারের ছবি দেখেছি।

 

আমেরিকান ও ব্রিটিশ হররের মধ্যে ফারাক কেমন?

এখানে (ব্রিটেনে) অনেক সৃজনশীল হতে হয়, বিশেষ করে গল্পের ব্যাপারে। আমেরিকানরা স্পেশাল অ্যাফেক্টের ওপর বেশি নজর দেয়।

 

এখনকার ছেলে-মেয়েদের কাছে হরর ছবির আবেদন আছে?

এটা অনেক পুরনো বিনোদন মাধ্যম। বলা যেতে পারে দর্শকের ডিএনএতে ঢুকে পড়েছে। গ্ল্যাডিয়েটরদের রক্তারক্তিও রোমানরা পছন্দ করত। মানুষকে সিংহের মুখে ছুড়ে দেওয়ার ঘটনায়ও আনন্দ পেয়েছে মানুষ। এখন অবশ্য রকম কিছু বদলেছে। দর্শক আর সরাসরি রক্তপাত দেখতে পছন্দ করে না; কিন্তু পর্দায় দেখতে অপছন্দ করে না।

 

সূত্র : হেইইউগাইজডটকম. ৯ মে ২০১১ এবং

স্টারবার্স্টম্যাগাজিনডটকম. ১৭ মার্চ ২০১৩

 

হুদা এখন আলোচনায়

হ্যারি অ্যান্ড মেগান : আ রয়াল রোমান্স ছবিটি চ্যানেল সেভেনে মুক্তি পেয়েছে ১৭ মে। প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মারকেলের বিয়ের বাজনার মধ্যেই। গেল নভেম্বরের ২৭ তারিখে হ্যারি আর মেগানের জোড় বাঁধার (এনগেজমেন্ট) খবর আসে। ওই দিনই প্রযোজনা সংস্থা লাইফটাইম তাঁদের প্রেমকথা নিয়ে একটি ছবি বানানোর পরিকল্পনা করে। দেরি না করে চিত্রনাট্যকার স্কারলেট লেসিকে ফোনও দেয় লাইফটাইম। স্কারলেট ছবিটির স্ক্রিপ্ট লিখেছেন টেরেন্স কোলির সঙ্গে বসে। ‘ডিসেম্বর থেকেই আমরা লিখতে শুরু করে দিই এবং জানুয়ারিতে লেখা শেষও হয়ে যায়।’ বলছিলেন টেরেন্স। ছবিটি বানানোও শুরু হয় ওই জানুয়ারিরই শেষ দিকে। কোলি আরো বললেন, ‘খুবই দ্রুত ছবির কাজ শুরু হয়। খুব দ্রুত। মেগানের ব্লগ (এখন নিষ্ক্রিয়) আমাদের কাজ সহজ করে দিয়েছিল। তাঁর ব্লগ পড়েই আমরা ব্যক্তি মানুষটিকে বুঝতে পারছিলাম। চরিত্র নির্মাণ তাই সহজ হয়ে গিয়েছিল।’  

 ইউএন ওম্যান কনফারেন্সও সাহায্য করেছে লেখকদের। সেখানে মেগান বক্তৃতা দিয়েছিলেন। লেসি বলছিলেন, মেগানের নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছিল সে বক্তৃতায়।’

পারিশা ফিৎস-হেনলি এবং মারে ফ্রেজার যথাক্রমে মেগান ও হ্যারি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ফ্রেজার প্রস্তুত হওয়ার জন্য কম সময়ই পেয়েছেন। বলছিলেন, ‘আমাকে কখনো কেউ বলেনি যে আমি দেখতে হ্যারির মতো। কখনোই বলেনি।’ স্কটিশ এই অভিনেতা আরো বলছিলেন, ‘চুল আর দাড়ি রাঙিয়েও কিন্তু আমি প্রিন্স হয়ে উঠতে পারিনি। আসলে সময় এত কম পেয়েছি যে ভাবছিলাম সব ছেড়েছুড়ে চলে যাই।

তবে পারিশার মেগান হতে বেশি কষ্ট হয়নি। সে বুঝি জন্ম থেকেই মেগানের মতো হাসে আর হাত ঝাঁকায়।’

রেইনা ভ্যালেন্টিনা নামের এক দর্শক সিএনএন এন্টারটেইনমেন্টে লিখেছেন, মেগানের চরিত্রে পারিশা দারুণ ভালো করেছে। হ্যারির চরিত্র যে করেছে সে-ও ভালো করেছে।

সিমন স্কট লিখছেন, পারিশার কণ্ঠও মনে হলো মেগানের মতো।

ম্যাডিসন ম্যাকলিন লিখছেন, কেন যে নির্মাতা কেট (হ্যারির ভাবি কেট মিডলটন) আর উইলিয়ামকে (হ্যারির ভাই) এত ঠাণ্ডা দেখাল, বুঝলাম না। কেট তো দারুণ মেয়ে, ওকে এতটা কম দেখানো ঠিক হয়নি।’

ছবিটির প্রথম দৃশ্যে দেখা যায় উইলিয়াম আর হ্যারি পিতা প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে হাঁটছে আফ্রিকায়। বাস্তবিকই ডায়ানা মারা যাওয়ার কিছুদিন পরে চার্লস ছেলেদের আফ্রিকায় নিয়ে গিয়েছিলেন। হ্যারিও বলেছেন, আমি প্রথম আফ্রিকায় যাই ১৯৯৭ সালে। আমার মা মারা যাওয়ার অল্পদিন পরেই। বাবা আমাকে আর ভাইকে বলেছিলেন, ব্যাগ গোছাও। আমাদের এখন বিশুদ্ধ বাতাস দরকার। ওখানে আমি সত্যি ভালো বোধ করেছিলাম। আরো কিছুদিন থাকতে পারলে ভালো হতো।’

এই ছবিটা হ্যারি আর মেগানের প্রথম দেখা হওয়ার দিনের খবরও দেয়। তাঁদের প্রথম ডেটের আগে কেউ কাউকে সরাসরি দেখেননি। হ্যারি নাকি ৪০ মিনিট দেরি করে এসেছিল। মেগান তাঁকে সরি বলতে বাধ্য করে। তাঁরা দুজনে নাকি রাতভর কথা বলে। হ্যারি কিন্তু আবার দেখা হওয়ার প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়েছিল মেগানের কাছ থেকে।

এক ঘণ্টা ২৫ মিনিটের ছবিটিকে আইএমডিবি দশের মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় দিয়েছে। ছবিটির পরিচালক আমাদের মিনহাজ হুদা।

সূত্র : ইডাব্লিউডটকম, সিএনএন এন্টারটেইনমেন্ট, কসমোপলিটান ও   হলিউডলাইফডটকম

 


মন্তব্য