kalerkantho


প্লিজ, তোমরা এমন কোরো না

ক্যাসিডি ১০ বছরের মেয়ে। স্কুল বন্ধুরা তার কষ্টের কারণ। সে বুলিইংয়ের (পীড়ন) শিকার। ফেসবুকে ভিডিও আপ করে নিজের কষ্টের কথা জানিয়েছে বিশ্ববাসীকে। ক্যাসিডির জন্য মন খারাপ হলিউডের হিউ জ্যাকম্যানেরও। ইয়াহু, সিএনএন, এবিসি নিউজ, ডেইলি মেইল, গ্লোবাল নিউজ থেকে জেনেছেন আহনাফ সালেহীন

২১ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



প্লিজ, তোমরা এমন কোরো না

এপ্রিলের ৪ তারিখ ছিল সেদিন। পেনসিলভানিয়ার জেন স্লেটার ফেসবুক মারফত তাঁর মেয়ের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। মেয়েটির নাম ক্যাসিডি। বয়স মাত্রই ১০। ফোর্থ গ্রেডের ছাত্রী। ভিডিওতে ক্যাসিকে অনেকগুলো কাগজ তুলে ধরতে দেখা যায়। সেগুলোতে লেখা—আমার নাম ক্যাসিডি। আমি জন অ্যাডামস এলিমেন্টারি স্কুলে পড়ি। ফার্স্ট গ্রেডে পড়ার সময় থেকেই ওরা আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। আমার দিকে ওরা থুতু ছোড়ে, ওরা ধাক্কা দেয়। আমি টিফিন খেতে টেবিলে গিয়ে বসলে অন্যরা সেখান থেকে উঠে যায়। আমি খুব একা বোধ করি। মনে হয় আমার কেউ নেই। শেষ বাক্যটি ছিল—এই আমার গল্প।...স্টপ বুলিইং।

জেন ভিডিওটি আপ করার আগে এটি ছিল ক্যাসিডির নিজের ফেসবুক পাতায়। কিন্তু জানাজানি হতে থাকলে স্কুল কর্তৃপক্ষ ফেসবুককে জানায়, ক্যাসির বয়স ১০ বলে, তার ফেসবুক পেইজটি বন্ধ করে দিতে (১৩ বছরের আগে ফেসবুক ব্যবহার নিয়মসিদ্ধ নয়)। পরে জেন ভিডিওটি নিজের পেইজে আপ করে এই বলে যে আমিই হব আমার মেয়ের কণ্ঠস্বর। এক লাখ ৬০ হাজার লাইক পড়ে জেন ভিডিওটি আপ করার পর। শেয়ার হয় হাজার হাজার বার। নজর কাড়ে উলভারিনখ্যাত হিউ জ্যাকম্যানেরও। তিনি ক্যাসিডিকে উদ্দেশ করে লিখেন, ‘আমি হিউ। আমি তোমাকে বলতে চাই যে তুমি অনন্য এবং চৌকস। তুমি সাহসী, মজার মানুষ ও সুন্দর। বুলিইং মোটেও ভালো কিছু নয়। কখনো অন্যের কাছে সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবে না। এমন সব জায়গা ও মানুষের কাছ থেকে এটা তুমি পাবে, যার কথা তুমি কখনো ভাবোইনি। এই যেমন আমি তোমার বন্ধু।’

ক্যাসিডির বাবার নাম জেমস ওয়ার্নার। তিনি এবিসি নিউজকে বলেছেন, আমি প্রথম ভিডিওটি দেখি ক্যাসিডির ফেসবুক পাতায়। আমাকে এটি বিধ্বস্ত করে। আমি আপনাকে বোঝাতে পারব না কেমন লাগছিল। শুধু বলছি, আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে চাইছিল।

জেমস আর জেনের চারটি সন্তান। জেমস আরো বলেছেন, আমরা এপ্রিলের ২ তারিখে ক্যাসির স্কুলের প্রিন্সিপালের কাছে গিয়েছিলাম। চাইছিলাম ক্যাসির জন্য স্কুলটাকে আরেকটু আরামদায়ক করতে। প্রিন্সিপালকে বলেছিলাম, ওকে আর কোনো ক্লাসে দেওয়া যায় কি? অথবা ওর লাঞ্চ টাইম কি বদলানো যায়? তখন ক্যাসিডিই দুঃখ পেয়ে বলেছিল, আমি তো কোনো অন্যায় করিনি। আমাকে কেন সব পাল্টাতে হবে? 

 

জেমস আরো বলেছেন, আমি স্কুলকে কোনোভাবেই দোষারোপ করতে চাই না। আমাদের উদ্দেশ্য এটাই—সবাই বুঝুক বাচ্চাদের এত কষ্টের জীবন দেওয়া ঠিক নয়। আমরা কিন্তু ভাবিইনি ভিডিওটি এত মানুষ দেখবে। এখন সারা পৃথিবী থেকেই ক্যাসি আদর পাচ্ছে। আমি আশা করি মা-বাবারা তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে বসবেন এবং বলবেন বুলিইং কতটা খারাপ! অত্যাচারিত হওয়া যেমন খারাপ, অত্যাচারী হওয়াও খারাপ।

 

ডাক্তারের কাছে গিয়েছিল গ্লোবাল নিউজ

ফ্যামিলি স্পার্কস ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা ড. জিলিয়ান রবার্টস। একজন শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞও। গ্লোবাল নিউজকে তিনি বলেছেন, জেন তাঁর মেয়ের পোস্টটি আবার আপ করে ঠিক কাজই করেছেন। মা-বাবার উচিত সন্তানকে বোঝানো যে সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে আছে। শিশুরা যা বলতে চায় মা-বাবার তা মন দিয়ে শোনা দরকার। দেখুন জেমস কিন্তু জানতেনই না তাঁর মেয়েটি কী কষ্টেই না আছে! মা-বাবারা এমন সুযোগ তৈরি করেন যেন শিশুরা মনের কথা তাঁদের খুলে বলবে। সন্তানের যেকোনো জটিল সমস্যাতেই মা-বাবার যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। মা-বাবা শিক্ষকদের সঙ্গে ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করুন, যেন তাঁরাও সমাধান খুঁজতে বের হন।

 

জেন স্লেটারের ফেসবুক পেইজে কিছু মন্তব্য

টিফানি মার্টিনো হ্যালোজ : ক্যাসিডি তুমি একটা দারুণ সুন্দর মেয়ে। স্রষ্টার অনিন্দ্য সৃষ্টি। আমরা ফ্লোরিডা থেকে তোমার জন্য প্রার্থনা করছি, তুমি সব সময় সাহসী থাকো।

 

ক্যারোলিন রিলে : তোমরা সবাই ক্যাসিকে ভালোবাসা দাও। ও সত্যি সাহসী মেয়ে। ও যেন আর কখনো একা না বোধ করে। পৃথিবীর সবাই এখন তোমার সঙ্গে আছে ক্যাসি। একজন মা হিসেবে আমি জানি, মায়েদের জন্য এটা কতই না কষ্টের!

 

কাসিয়া বিয়েরনাকি : মিষ্টি ক্যাসিডি—তুমি কতই না সাহসী আর শক্তিশালী! মাথা উঁচু করে রাখো আর সাহসী থাকো। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে তোমাকে শক্তি পাঠাচ্ছি আমরা।

বনি রাডাফশার : ক্যাসিডি তুমি তো দারুণ দেখালে। আমার মেয়েও স্কুলে কঠিন সময় পার করেছে। সে একটু বেশি মোটা ছিল। এখন সে সুন্দরী ও বিবাহিতা।

 

জেসিকা লেই : তোমরা ভালো মা-বাবা। সন্তানকে সহমর্মী আর ভদ্র করে গড়ে তুলেছ। ক্যাসি তুমি ভেব না। নিজের কাজ করে যাও। আমি নিউ ইয়র্কে তোমার জন্য একটা সুন্দর পৃথিবী নিয়ে অপেক্ষা করছি।

 

নানা রাসেল : জেন ছেড়ে দিয়ো না। তুমি আর ক্যাসিডি ঠিক কাজটি করেছ। বুলিংয়ের বিরুদ্ধে তোমরা নীরব থাকোনি। তুমি আর তোমার মেয়ে দারুণ সাহসী। টেক্সাস থেকে তোমাদের জন্য শুভেচ্ছা।



মন্তব্য