kalerkantho

ফেসবুক থেকে পাওয়া

মায়ের ডায়েরি

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মাঝেমধ্যে তোমার প্রতিও আমার খুব অভিমান হতো। ভাবতাম অন্য সবার মতো বুঝি তুমিও আমাকে বোঝা ভাবো। মাঝেমধ্যে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা হতো, মা জন্মের আগে যদি তুমি জানতে আমি মেয়ে, তাহলে কি তুমি আমায় আনতে? খুব জানতে ইচ্ছা হতো, ভাইদের যেমন করে আদর করে শান্তি পাও, তেমনি কি আমায় আদর করে শান্তি পেতে? জন্মের দিন তুমি কি কেঁদেছিলে, আমি কালো বলে? আজ সব প্রশ্নের উত্তর আমি পেয়ে গেছি মা। যখন পুরনো ব্যাগ ঘেঁটে  দেখছিলাম, সারা ব্যাগ আমার ছোটবেলার পোশাকে ভরা। কী যত্ন করে আমার ছোট জামাগুলো রেখে দিয়েছিলে মা তুমি। কিছুক্ষণ পর চোখ যায়, জামার নিচে পুরনো এক ডায়েরির দিকে। ডায়েরিটি দেখলেই মনে হয় খুব পুরনো। পাতাগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি লেগে আছে। ১৯৮৮ সালের। আমার জন্মের সাত বছর আগে তুমি লিখেছিলে। খুব কৌতূহল নিয়ে ডায়েরিটি খুললাম। প্রথম পাতা পড়েই আমার চোখে পানি ভরে গেল। কী অদ্ভুত, তুমি সাত বছর আগে থেকেই মনের ভেতর আমায় লালন করেছিলে। পুতুলবউ খেলতে খেলতে কবে যে তুমি নিজেই নিজেকে মা বানিয়ে ফেলেছিলে, তা তুমি নিজেই জানতে না। লেখা ছিল, জানি একদিন আমার জীবনে একটি ছোট পুতুল আসবে, সে আমার মেয়ে সন্তান। কী অদ্ভুত তাই না মা! তুমি তোমার প্রথম সন্তান হিসেবে মেয়েই চেয়েছিলে। ডায়েরির প্রতিটা ভাঁজেই আমায় কল্পনা করে লেখা। এমনকি আমার নামও তুমি আমার জন্মের আগে দিয়েছিলে। কী কপাল আমার! জন্মের আগ থেকেই কেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করত। শেষ লেখা পড়ে আমি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতেছি... লেখার তারিখ ১৯৯৫, ১৭ অগাস্ট... আমার জন্মের দিন.... লেখাটা আমি বারবার পড়েছি আর তোমার ঘ্রাণ পাচ্ছি মা... লেখাটা তুমি লিখেছিলে, জানি না আজ আমার বারবার কান্না পাচ্ছে কেন? এত আনন্দ আমি রাখার জায়গা পাচ্ছি না, তাই অতি আনন্দে বারবার চোখ পানিতে ভরে যাচ্ছে। খুব ক্লান্ত থাকা সত্ত্বেও আমি না লিখে পারলাম না... এ আনন্দের সাক্ষী এ আমার ডায়েরি... আমার পুতুল, আমার কন্যাসন্তান আজ আমার কোলে এসেছে। জাদুকরী গাল ছুঁলেই কেন যেন বুক ভরে যায়। আমার মেয়ে আমার কল্পনার চেয়েও সুন্দর। এত সুন্দর কিভাবে মানুষ হয়! ওকে যখন আমি আমার গালের সঙ্গে লাগালাম, আমার শান্তিতে চোখে ঘুম এসে যায়। এ ঘুম কী শান্তির ঘুম... আগে কখনো আসেনি। মনে হচ্ছে আমার পাঁজরের হাড় ডাক্তাররা আবার জোড়া লাগিয়ে দিয়েছে। এ আমার সেতারা... তারপর কিছু হিবিজিবি লেখা... হয়তো মা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে গিয়েছিলে, আর লিখতে পারোনি... সব অভিমান আজ বিলীন হয়ে গেল মা। আজ আমার চোখও ভরে যাচ্ছে পানিতে। আজ আমারও ডায়েরি লিখতে ইচ্ছা হচ্ছে বারবার... যেখানে আমিও আমার মেয়েকে নিয়ে লিখব... আমার মেয়ের নাম কিন্তু মা তোমার নামেই দিব...

উম্মে নিপা



মন্তব্য