kalerkantho

ফেসবুক থেকে পাওয়া

আজ অনেক দিন পর

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ছোটবেলায় খেলনা বাটি ছিল, রোজ তা নিয়ে খেলতাম আর বাবাকে বারবার জিজ্ঞেস করতাম, বাবা, তোমার জন্য কী রান্না করব? বাবাও সুন্দর একের পর এক খাবারের নাম বলতেন। আমি অপেক্ষা করতাম বাবা কখন আসবেন, আমি খেতে দেব। তখন ওগুলো আমার কাছে বাস্তব মনে হতো। বাবা অফিস থেকে ঘেমে আসতেন, আমি এর মাঝেই বাবার কাছে বায়না জুড়ে দিতাম আমার রান্না করা খাবার খেতে। বাবা একটুও রাগ না করে মিথ্যা খাবার ভান করতেন। আজ অনেক দিন পর আমার খেলনার জিনিসগুলোর দিকে নজর গেল, ধুলাবালি জমে আছে। ২০ বছর আগে এই খেলনাকে ঘিরে বাবা-মেয়ে কত ভালোবাসার ক্ষণ কাটিয়েছিলাম। আগে আমার মতো আমার দুনিয়াও ছোট ছিল, দুনিয়া ছিল মা আর বাবা। আমি বাবার মাঝে সুখ খুঁজতাম। আজকাল বড় হয়েছি বেশ, সারা দুনিয়ায় সুখ খুঁজে বেড়াই। তাই আজকাল মিথ্যা ব্যস্ততায় বাবার সঙ্গে একটু সময়ও দেওয়া হয় না। বাবাকে অনেক দিন জিজ্ঞেস করা হয় না, বাবা, তুমি কী কী খাবে? খেলনাগুলো স্পর্শ করলেও আমি বাবা-বাবা ঘ্রাণ পাই এখনো। অনেক দিন পর আজ বাবার কাছে জানতে চাইলাম, বাবা, তোমার জন্য আজ কী কী রান্না করব? বাবা একটু চুপ করে বলেন, যা রান্না করবা তা-ই খাব। বাবার মুখে আমি অনেক দিন পর কেমন যেন খুশি দেখতে পেলাম, যার খোঁজ রাখিনি আমি বহুদিন। খুব ভালোবাসি বাবা। সুখ খুঁজতে সারা দুনিয়া ঘাঁটা লাগে না। বাবার ঠোঁটের কোণে হাসিটা খুঁজুন, তাতে যে বেশ আনন্দ। বাবারা কষ্টের সঙ্গে সঙ্গে আনন্দও প্রকাশ করতে পারেন না। তাঁরা আনন্দে অট্টহাসিও দিতে পারেন না। শুধু বুক ভরে সন্তানের জন্য দোয়া করতে পারেন। ভালো থাকুক সব বাবা।

 

উম্মে নিপা



মন্তব্য