kalerkantho

ফেসবুক থেকে পাওয়া

শীতলপাটি

১৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কয়েক দিন আগের কথা। শাহবাগে হাঁটতে হাঁটতে ঢুকে পড়ি জাতীয় জাদুঘরে। ইউনেসকো নাকি আমাদের ‘শীতলপাটি’কে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই প্রদর্শনী হচ্ছে সেই পাটির। ভেতরে ঢুকতেই অবাক হয়ে গেলাম। চমৎকার সব পাটির পর পাটি। নানা রঙের, নানা নকশার। কিভাবে বানাতে হয় সেটাও দেখানো হচ্ছে। হঠাৎ একটি শীতলপাটির সামনে গিয়ে থমকে গেলাম। খুব চেনা চেনা লাগছে পাটিটা। মনে পড়ে গেল ২৫ বছর আগের কথা। কালচে বাদামি, এমন একটা শীতলপাটি ছিল গ্রামের বাড়িতে। বিদ্যুৎ চলে যেত প্রতি সন্ধ্যায়। একতলা বাড়িটার ছাদে সেই পাটিতে বসে শুরু হতো গল্পের আসর। অলস কার্তিকের সন্ধ্যায় আমরা পড়া থেকে ছুটি পেয়ে যেতাম প্রায়ই। হারিকেনের ক্ষীণ আলো চোখের ক্ষতি করতে পারে। দুইটা ঘণ্টা না পড়লে কী আর হবে! শীতলপাটিটা নিয়ে দৌড়ে যেতাম ছাদে। আমাদের কোনো চার্জ দেওয়া বাতি বা আইপিএস ছিল না। আমার জীনের মধ্যে তাই খোদাই হয়ে যায়—বিদ্যুৎ চলে যাওয়া মানে ছুটি, সন্ধ্যার অন্ধকার মানে ছাদে শীতলপাটিতে বসে গল্প করা। মেঘ আর চাঁদের লড়াই দেখা। এই মেঘ জিতে কি এই চাঁদ। মুড়ির সঙ্গে সরিষার তেল, পেঁয়াজ কিংবা গুড় মেখে আমরা প্রকৃতির রাতের আয়োজন দেখতাম। ব্যস্ততা, প্রতিযোগিতা, শব্দগুলো ছিল না সেদিন। হয়তো একসময় বিদ্যুৎ চলে আসত। নিচে কেউ একজন বলত, ‘ম্যাকগাইভার শুরু হইছে’, আমরা চলে যেতাম শীতলপাটি হাতে নিয়ে। জাদুঘরে শীতলপাটিটাকে কেন যেন মনে হচ্ছে ‘টাইম মেশিন’। একটু ছুঁয়ে দিলেই ভোঁ করে নিয়ে যাবে ২৫ বছর আগের সন্ধ্যায়। আমি হাত বাড়িয়ে দিই। কিন্তু কর্তৃপক্ষের ‘পাটিতে হাত দেওয়া নিষেধ’ লেখাটা দেখে ফিরে আসি। জীবনের নানা বাঁকে রংবেরঙের সহস্র ‘কর্তৃপক্ষ’র রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শীতলপাটির কোলে ফিরতে পারি না আমরা কোনো দিন।

 

আহাদ আদনান

মাতুয়াইল, ঢাকা



মন্তব্য