kalerkantho


পরিবেশ রক্ষায় গেরিলা যোদ্ধা

জুরাইনের মানুষের কাছে মিজানুর রহমান এক ভরসার নাম। বয়স ৫০ ছুঁই ছুঁই। এই বয়সেও তরুণদের নিয়ে বইমেলা, রক্তদান কর্মসূচি, জলাবদ্ধতা নিরসনসহ নানা সচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন পরিবেশ রক্ষার নানা আন্দোলন-সংগ্রামে। সম্প্রতি পরিবেশ রক্ষায় ‘গেরিলা যোদ্ধা’ হিসেবে সুইডেন থেকে প্রকাশিত রি: পাবলিক ম্যাগাজিনে উঠে আসে তাঁর নাম। লিখেছেন পিন্টু রঞ্জন অর্ক

২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



পরিবেশ রক্ষায় গেরিলা যোদ্ধা

বছর দশেক আগের কথা। ঘড়িতে তখন রাত এগারোটার মতো।

বাড়ির সামনের রাস্তায় বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন মিজানুর রহমান। হঠাৎ একটা চিৎকার ভেসে এলো—‘ছিনতাইকারী, ছিনতাইকারী, ভাই বাঁচান, বাঁচান। ’ পূর্ব জুরাইনের আশ্রাফ মাস্টারের স্কুলের গলি বলে একটা জায়গা আছে। চিৎকারটা সেদিক থেকেই আসছে। তড়িঘড়ি এগিয়ে গেলেন। কিন্তু ততক্ষণে কেউ-ই নেই! রাস্তায় শুধু ফোঁটা ফোঁটা রক্ত। ঘটনা কী, জানার জন্য রক্তের দাগ অনুসরণ করে এগোলেন মিজান। এভাবে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া ব্যক্তিটির বাসা পর্যন্ত গেলেন। ছেলেটার হাত থেকে তখনো রক্ত ঝরছিল। কেঁদেকেটে বললেন, ‘সঙ্গে থাকা কয়েক হাজার টাকা আর মোবাইল নিয়ে গেছে। দিতে চায়নি বলে হাতে-পিঠে ছুরি বসিয়ে দিয়েছে। ’ এমনিতেই খুব গরিব মানুষ। অর্থকড়িও নেই যে হাসপাতালে যাবেন। ভয়ও পেয়েছিলেন খুব। এক বন্ধুকে সঙ্গে করে ছেলেটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে এলেন মিজান। ওষুধপত্র মিলিয়ে সেবার হাজার দুয়েক টাকার মতো খরচ হয়েছিল। বলাবাহুল্য, ধার করেই সে খরচ মিটিয়েছিলেন মিজান! আর ফেরত পাননি। তবু মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ এই সমাজকর্মীর মুখের হাসি মিলিয়ে যায় না। বললেন—‘টাকা-পয়সা অবশ্যই একটা সমস্যা। কিন্তু ছেলেটা যে শেষ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে, এটা অনেক বেশি আনন্দের। ’ মিজানুর রহমানের ঝুলিতে এমন অনেক অভিজ্ঞতা জমা আছে। এলাকার মানুষ এক নামে চেনে। তাদের কাছে ‘মিজান ভাই’ যেন এক ভরসার নাম। মহল্লায় পানি নেই, তাঁর ডাক পড়ে। পাড়ায় ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধে প্রাণ যায়, মিজান ভাইয়ের কাছে চলো। কারো আত্মীয়ের জন্য রক্ত মিলছে না? কিংবা মধ্যরাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েছে, হাসপাতালে নিতে হবে। ভয় কী। মিজান ভাই আছে না? এলাকায় মাদকবিরোধী আন্দোলনে মিজানুরের অবদানও কম নয়। এ কারণে হামলা-মামলারও শিকার হতে হয়েছিল তাঁকে।

মিজানুর রহমানের জন্ম রাজধানীর পূর্ব জুরাইনে। সাত ভাই-বোনের মধ্যে পঞ্চম। এখন বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। চুল-দাঁড়িতে পাক ধরেছে। এই বয়সেও তরুণদের নিয়ে বইমেলা, রক্তদান কর্মসূচি, জলাবদ্ধতা নিরসনসহ নানা সচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন পরিবেশ রক্ষার নানা আন্দোলন-সংগ্রামে। প্রায় ৪০ বারের মতো রক্ত দিয়েছেন। অন্যদেরও উৎসাহিত করছেন রক্তদানে। রক্ত দিতে গিয়ে বিচিত্র অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। কখনো কখনো গাঁটের পয়সা খরচ করে রোগীর ভাড়াটা পর্যন্ত দিয়ে এসেছেন।

 

তখন ক্লাস সিক্স

সেটা ’৮৮ সালের ঘটনা। বন্যার ঠিক আগে আগে। জুরাইনের মানুষজনের কপালে চিন্তার ভাঁজ। কারণ ডিএনডি (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা) বাঁধের মধ্যে পানি ঢুকলে তো সব শেষ। তখন প্রথম বুড়িগঙ্গা ব্রিজের নির্মাণকাজ হচ্ছিল। সেখানে থাকা বালু থেকে বস্তা ভর্তি করে বাঁধের ওপর ফেলা হয়েছিল, যাতে বাঁধ উঁচু হয়। ছোট-বড় অনেকের সঙ্গে এলাকায় বস্তা সংগ্রহ, বস্তায় বালু ভরা, বস্তাভর্তি ঠেলাগাড়ি ঠেলে বাঁধের কাছে নিয়ে যাওয়া এসব কাজ এলাকার বড় ভাইদের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে করেছিলেন মিজানুর রহমান। সেটাই ছিল তাঁর প্রথম স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড। তখন ক্লাস সিক্সে পড়েন তিনি। সেই যে শুরু, আজ অবধি চলছে।

 

ব্যবসা আমার জন্য না

এইচএসসির পর ইচ্ছা ছিল চারুকলায় পড়বেন। কোচিংও শুরু করেছিলেন। কিন্তু আর্থিক অনটনে তা আর সম্ভব হয়নি। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে চলচ্চিত্র নিয়ে কোর্স করেছিলেন। সেটাও বেশি দূর এগোয়নি। কিছুদিন ব্যবসা করেছেন। সেখানেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। মানুষজনকে বিশ্বাস করে ধার দিয়েছেন। বাকি দিয়েছেন। বেশির ভাগই আর ফেরত পাননি। শেষমেশ ছেড়ে দিতে বাধ্য হলেন। বললেন, ‘ব্যবসা আসলে আমার জন্য না। এই লাইনে মানুষের লগে দুই নম্বরি করতে হয়। যেটা আমার দ্বারা সম্ভব না। ’ জীবিকার তাগিদে বছর দেড়েক গাড়িচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।

১৯৯৮ সাল থেকে জুরাইনে বইমেলা অনুষ্ঠিত হতো। সেই মেলার আয়োজকদের একজন ছিলেন মিজানুর রহমান। জাতীয় দুর্যোগে এলাকার তরুণ-যুবাদের নিয়ে যথাসাধ্য ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদের বাড়িতে ক্যাসেট প্লেয়ার ছিল। ভুপেন হাজারিকার ‘মানুষ মানুষের জন্য’, ‘আমি এক যাযাবর’—এসব গান শুনতে শুনতেই বড় হয়েছেন। একসময় মাথায় ভূত চাপল যাযাবর জীবনযাপন করবেন। যেই ভাবা সেই কাজ। ২০০২ সালে দুই বন্ধু মিলে সাইকেলে চেপে ঢাকা থেকে কক্সবাজার গিয়েছিলেন। ইচ্ছা ছিল দুই চাকায় ভর করে ৬৪ জেলা ঘুরবেন। পরে বাইরের দুনিয়া। সেটা এখনো বাস্তব রূপ পায়নি।

 

সক্রিয় দলীয় রাজনীতিও করেছিলেন

ছোটবেলায় কৌতূহলবশত মিছিলের ভিড়ে যেতেন। অন্যদের সঙ্গে বুঝে না-বুঝে নানা স্লোগান আওড়াতেন। ‘মশালের আলো ঘরে ঘরে জ্বালো’—এই স্লোগানটা এখনো মনে আছে। কলেজে ওঠার পর সরাসরি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেন। দলীয় কর্মসূচিতে ব্যানার-ফেস্টুন লেখার দায়িত্ব নিজেই নিজের ঘাড়ে নিতেন আনন্দের সঙ্গে। ’৯৫ কি ’৯৬ সালের ঘটনা। নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি ছিল। সেই মিছিলে পুলিশ ও সরকারদলীয় ক্যাডারদের বাধার মুখে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। ফার্মগেটে গুলিতে বদিউর বদি নামে একজন নিহত হন। মিজানও গোলাগুলির মধ্যে পড়েছিলেন। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান সেবার। আদর্শিক কারণে ১৯৯৮ সালের পর সক্রিয় দলীয় রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন।

 

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে

জুরাইনের আদি বাসিন্দা মিজানুর। এখানকার নাড়ি-নক্ষত্র চেনা। জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের দুর্ভোগ দেখেছেন একেবারে কাছ থেকে। এলাকার তরুণদের সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছেন। ওদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নর্দমা পরিষ্কার করেছেন। এসব কাজ করতে গিয়ে অনেকের চক্ষুশূলও হতে হয়েছে। কিন্তু দমে যাননি। ‘জুরাইন নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর সমন্বয়কারী তিনি। এলাকার নাগরিক সমস্যা সমাধানে সভা-সমাবেশের পাশাপাশি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনও পালন করেছে সংগঠনটি। ২০১২ সালে সাড়ে তিন হাজার মানুষের স্বাক্ষর নিয়ে ওয়াসা, তিতাস গ্যাস এবং সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বরাবর স্মারকলিপিও জমা দিয়েছিলেন। মিজানুর রহমান বলেন, ‘এই এলাকায় মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই, এটা ভুক্তভোগী মানুষ ছাড়া কারো পক্ষে অনুধাবন করা সম্ভব না। পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে কিছুদিন পরপর শুধু রাস্তা উঁচু করা হয়। ফলে বছরের প্রায় ১২ মাস এখানে জলাবদ্ধতা থাকে। আর এতে সব বর্জ্য ভেসে বেড়ায়। তৈরি হয় অসহনীয় পরিবেশ। মাসখানেকের মধ্যে আবার রাস্তা ভাঙা শুরু হয়। অনেক বছর ধরে এখানে গ্যাসের সমস্যার কারণে মানুষ কষ্ট করছে। অথচ গ্যাসের বিল দিয়ে যাচ্ছে মানুষ। আর ওয়াসার পাইপলাইন ফুটো হয়ে যাওয়ায় নর্দমার বর্জ্য পাইপলাইনে ঢুকে যায়। ওই পানি আর ব্যবহার উপযোগী থাকে না। এমন ভোগান্তি থেকে মুক্তির জন্য নানা প্রতিকূলতা মাথায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি আমরা। স্থানীয় সাংসদকেও অবহিত করেছি। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটছে না কেউ-ই। ’

সমকালীন নানা বিষয়ে খোঁজখবর রাখেন। এসব করতে গিয়েই ২০০২ সালে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির কথা জানতে পারেন। এরপর থেকে খবর পেলেই তাদের কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। গ্যাস রপ্তানির বিরুদ্ধে জাতীয় কমিটির ডাকে ঢাকা থেকে বিবিয়ানা পর্যন্ত লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে অংশ নিয়েছিলেন। লংমার্চ থেকে ফিরে নিজের অভিজ্ঞতা লিখেছেন কবি আলফ্রেড খোকন সম্পাদিত ‘নন্দন’ পত্রিকায়। এরপর কুষ্টিয়ায় লালনের সমাধির পাশে অবকাঠামো নির্মাণবিরোধী আন্দোলন, কনোকোফিলিপস বিরোধী আন্দোলন, দিনাজপুরের ফুলবাড়ি আন্দোলনসহ অনেকগুলো আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন। পুলিশের দমন-পীড়নেরও শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকবার।

 

সুন্দরবনের বিকল্প নাই

সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনে শুরু থেকেই সক্রিয়ভাবে যুক্ত মিজানুর। এরই অংশ হিসেবে ২০১১ সালে রামপালেও গিয়েছিলেন। ২০১৩ ও ২০১৫ সালে সুন্দরবনের জন্য জাতীয় কমিটির ডাকে লংমার্চ হয়। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে তাতে অংশ নিয়েছিলেন। বললেন, ‘২০১৫ সালের লংমার্চের সময় প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি ছিল। বাসের ছাদে ছিলাম আমরা। সেখানে বসে বসে প্রায় প্রতিদিনই ভিজেছি। ’ চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে হরতাল ডাকে জাতীয় কমিটি। সেদিন সকালে আন্দোলনে যোগ দিতে তিনি ও সমমনা কয়েকজন জুরাইন থেকে পল্টনে পৌঁছান। সেখানে শোনেন, শাহবাগে গণ্ডগোল হচ্ছে। চলে এলেন সেখানে। বললেন, ‘আগেও আমি বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। কিন্তু এমন একটা আন্দোলনে এই মাত্রায় টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও জলকামান থেকে পানি ছুড়তে কখনো দেখিনি। ’ হরতালের শেষ পর্যায়ে হঠাৎ দেখেন মাহতাব (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র) পুলিশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে সুন্দরবন আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর হাত ভেঙেছে। সে অবস্থাতেই তিনি আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। পুলিশ যখন তাঁকে মারতে শুরু করে তখন মিজানুর আর থেমে থাকতে পারেননি। রাগে-ক্ষোভে জলকামানের ওপর উঠে গেলেন। ‘আমি তখন জলকামানের ওপর উঠে সেটির সামনে থাকা লোহার খাঁচাটি ঝাঁকাতে থাকি। পুলিশ এসে আমাকে টেনে-হিঁচড়ে ওখান থেকে নামায়। তারপর লাথি মারতে শুরু করে। একসময় আমাকে থানার ভেতরও নিয়ে যাওয়া হয়। আমাকে মাটিতে ফেলে যখন পেটায় তখন শুধু আমি বুট দেখতে পেয়েছি। আর কিছু না। একটা লাথি এসে অণ্ডকোষে লাগে। চোখ-মুখে অন্ধকার দেখছিলাম। মনে হচ্ছিল, আজই বুঝি জীবনের শেষ দিন। ’ মারধরের কারণে মিজানুরের পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে এই আশঙ্কায় পরে পুলিশের একজন কর্মকর্তা দুজন কনস্টেবল দিয়ে তাঁদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

 

পরিবেশ রক্ষায় ‘গেরিলা যোদ্ধা’

সুইডেন থেকে প্রকাশিত ডকুমেন্টরি ম্যাগাজিন ‘রি: পাবলিক’ (RE: PUBLIC)-এ বিশ্বের পাঁচজন পরিবেশ আন্দোলনকর্মীর চিন্তা আর লড়াই তুলে ধরা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় ‘গেরিলা যোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে তাঁদের। এই তালিকায় অন্যান্যের মধ্যে আছেন মিজানুর রহমান। ৫ অক্টোবর প্রকাশিত ‘Climate Guerrilla Fighter (Klimatets gerillakampar) শিরোনামের এই বিশেষ সংখ্যায় মিজানুর রহমান ছাড়াও ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং হন্ডুরাসের চারজন পরিবেশ আন্দোলনকর্মীর লড়াই-সংগ্রামের বয়ান তুলে ধরা হয়। রি: পাবলিক আন্তজার্তিকভাবে ভিন্ন ধারার গণমাধ্যম হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের নানাপ্রান্তে ঘটতে থাকা তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনা সাধারণ মানুষের বয়ানে তুলে ধরে তারা।

২৬ জানুয়ারির হরতালে মিজানুর রহমানকে রাজপথে বুট-বন্দুকের বাঁট দিয়ে পেটানোর ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দেশে-বিদেশে নিন্দার ঝড় তোলে। ওই দিনের ঘটনাসহ সুন্দরবন আন্দোলনের নানা বিবরণ প্রকাশিত হয় শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘mongabay’-তে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সুইডেনের পত্রিকা রি: পাবলিক যোগাযোগ করে মিজানুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানালেন, ‘মাস দেড়েক আগে ওরা ফোনে আমার সাক্ষাৎকার নিয়েছিল। ’ প্রকাশিত নিবন্ধে মিজানুর রহমানের বর্ণনায় বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষায় সুন্দরবন রক্ষার গুরুত্ব উঠে আসে। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুেকন্দ্রের বিকল্প আছে। কিন্তু সুন্দরবন একটাই। তা ছাড়া উপকূলবর্তী পাঁচ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার অবলম্বনও এই সুন্দরবন। ফলে এটাকে কোনো ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলা যাবে না। তাই এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছি। আন্দোলনের সঙ্গে ছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত থাকব। ’

 

ছবি : খোরশেদ আলম, হাফিজ আজাদ, সুমন ও ব্রাত্য আমিন


মন্তব্য