kalerkantho


মাটির মধ্যে মাকে খোঁজেন হরিপদ

৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিমা গড়ে চলেছেন হরিপদ পাল। বিদেশে গিয়েও দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হেনরি গ্লাসির বইয়ে ঠাঁই পেয়েছে হরিপদের কাজ। এ বছর গুলশান পূজামণ্ডপসহ ঢাকার চারটি মন্দিরে প্রতিমা গড়েছেন। গুণী এই প্রতিমাশিল্পীর সঙ্গে দেখা করে এসেছেন পিন্টু রঞ্জন অর্ক ছবি: তারেক আজিজ নিশক

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মাটির মধ্যে মাকে খোঁজেন হরিপদ

‘ভাই, হরিপদ পালের দোকানটা কোনদিকে?’ যানজট এড়িয়ে শাঁখারীবাজারে ঢুকেই জিজ্ঞেস করলাম একজনকে। বললেন, ‘আরেকটু সামনে গিয়ে হাতের বামে।

পাশে দাঁড়ানো এক রিকশাওয়ালা বললেন, ‘মামা, হরিপদ দার কাছে যাইবেন, আগে কইবেন না। বসেন, লইয়া যাইতাছি। ’ শাঁখারীবাজার কালীমন্দিরের পাশেই ৫২ নম্বর দোকান। ‘শিমুলিয়া ভাস্কর শিল্পালয়’। তার ঠিক সামনেই থামল রিকশা। রিকশাচালক বললেন, ‘এইটা তার কারখানা। দাদা মনে অয় ভেতরে কাম করতাছে। ’

ঝাঁপ বন্ধ। দরজাটাই শুধু খোলা।

ভেতরে ঢুকলাম। এককোনায় খড় আর মাটির স্তূপ। অন্য পাশে দুর্গা, গণেশ, লক্ষ্মীসহ বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমা। দেয়ালে বিভিন্ন দেবদেবীর ছবি টাঙানো। দুর্গা প্রতিমায় তুলির আঁচড় দিচ্ছেন একজন। ছোটমোটো গড়ন। পরনে লাল রঙের চেক শার্ট আর লুঙ্গি। চুল-দাড়িতে পাক ধরেছে। তাঁকে সাহায্য করছেন আরো চারজন কারিগর। তাঁরাও ভীষণ ব্যস্ত। কেউ রং লাগাচ্ছেন, কেউ মাটির প্রলেপ দিচ্ছেন। পূজা আসতে যে আর দেরি নেই।

শাঁখারীবাজারে নিজ কারখানায়

নিজের পরিচয় দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘এখানে হরিপদ পাল কে?’ ভদ্রলোক পেছন ফিরে একবার তাকালেন। পাশে একটা প্লাস্টিকের টুল রাখা ছিল। হাতের ইশারায় সেখানে বসতে বলে আবার কাজে মন দিলেন। কয়েক মিনিট হয়ে গেল। কোন সাড়া নেই। ভদ্রলোক এমনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, যেন গভীর ধ্যানে মগ্ন! মিনিট দশেক পর সামনে এলেন। হাসিমুখে বললেন, ‘কিছু মনে করবেন না। আপনাকে অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখলাম। আসলে কাজে একবার মন বসে গেলে দুনিয়াদারির খেয়াল থাকে না! আমিই হরিপদ। ’

দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করছেন তিনি। এলাকার সবাই এক নামে চেনে। এ সময়টায় দম ফেলারও যেন ফুরসত নেই। দিন-রাত কাজ আর কাজ। জানালেন, ‘পূজার আগের এক মাস আমাদের ওপর দিয়ে খুব ধকল যায়। রাত জেগে কাজ করতে হয়। খুবই পরিশ্রমের কাজ। ’

‘দ্য পটারস আর্ট’ বইয়ে হরিপদের তৈরি কৃষ্ণের ছবি

দাদুর হাতে হাতেখড়ি

হরিপদ পালের জন্ম সাভারের শিমুলিয়া গ্রামে। তিন ভাই, চার বোনের পরিবার। ভাইদের সবার বড় তিনি। বংশপরম্পরায় প্রতিমা গড়ার কাজে যুক্ত তারা। ছোট থেকে বাপ-দাদাদের দেখেছেন প্রতিমা গড়তে। দাদুর হাতেই হাতেখড়ি। তাঁর বাবা ঝরু পাল অবশ্য চাইতেন না হরিপদ এই পেশায় আসুক। বলতেন, ‘আগে লেখাপড়া ঠিকমতো করো। এইটা পরেও শেখা যাবে। ’ বাবার অনুৎসাহে হরিপদের কৌতূহল বেড়েছে বই কমেনি। প্রতিমা বানানোর সময় দাদুর পাশে বসে থাকতেন। এটা-ওটা জানতে চাইতেন—মুখটা কিভাবে বানায়, হাতের জোড়া কিভাবে দেওয়া হলো কিংবা চক্ষু কিভাবে ফুটিয়ে তোলা হলো ইত্যাদি। নাতির আগ্রহ দেখে দাদুও যত্ন করে কাজটা শিখিয়ে দিলেন। স্কুলে থাকতে সরস্বতী পূজার সময় প্রতিমা বানানোর কাজটা পড়ত হরিপদের ঘাড়ে। খুশি মনে বানিয়ে দিতেন। কিন্তু একাডেমিক পড়াশোনায় মন বসছিল না। ক্লাস এইটের পর আর স্কুলে যাওয়া হয়নি।  

 

সেবার সেরা হয়েছিলেন

হরিপদের বয়স তখন ১৩ কি ১৪। এক আত্মীয়ের সঙ্গে চলে গেলেন নরসিংদী। উদ্দেশ্য সরস্বতী পূজার প্রতিমা বানানো। হরিপদের গড়া প্রতিমা সেবার পাতিলপাড়ায় সেরা হয়েছিল। নগদে ৪৫০ টাকার পাশাপাশি পূজা কমিটির কাছ থেকে গোল্ড মেডেলও পেয়েছিলেন। বছর দুয়েকের মতো নরসিংদীতে ছিলেন। সেখান থেকে ঢাকার তাঁতীবাজারে। ১৯৬৩ সালে বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে ভর্তির সুযোগ পান। এখান থেকেই শিখেছেন শিল্পকলার খুঁটিনাটি। আরো ভালোমতো কাজ শিখবেন বলে মাঝখানে একবার কলকাতায় গিয়েছিলেন। বছরখানেক ছিলেন। সেখানে রাখাল পালের কাছ থেকে শিখেছিলেন অনেক কিছু। এরপর ঠিকানা শাঁখারীবাজার। এখানে ৫২ নম্বর দোকানের ভাড়াটে তিনি। সারা বছর এখানে বসেই প্রতিমা বানান আর বিক্রি করেন।

 

ছুটে গেছেন নানা প্রান্তে

মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, সিলেট, লক্ষ্মীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে প্রতিমা গড়েছেন হরিপদ পাল। যৌবনে যখন যেখানে ডাক পড়েছে চলে গেছেন। প্রতিমা বানানোর বিনিময়ে যা পেতেন তা নিয়েই চলে এসেছেন। কখনো পেয়েছেন, কখনো খালি হাতেই ফিরেছেন। কিন্তু মন খারাপ করেননি। আবার নতুন উদ্যমে কাজে ডুব দিয়েছেন। কাজও শিখিয়েছেন অনেককে। সংখ্যা ৮০-র কম না। বললেন, ‘আমাকে চেনে না। কিন্তু আমার নাম জানে এমন লোক অনেক। এখন ঢাকায় প্রতিমাশিল্পী হিসেবে যাদের দেখেন তারা প্রায় সবাই আমার কারিগর। ’ কথা বলতে বলতে দোকান থেকে বের হয়ে শাঁখারীবাজারে কালী মন্দিরের সামনে এলাম। তিনি বললেন, ‘এই যে মন্দিরটা দেখছেন, এর ভেতরে-বাইরে যত ধরনের বিগ্রহ দেখছেন সবই আমার হাতে করা। ’ তবে আগের মতো একেবারে গায়েগতরে খেটে কাজ করতে পারেন না প্রবীণ এ শিল্পী। ডিজাইনটা এঁকে দেন। কারিগররা সেটার ওপরে কাজ করে। ’ সঞ্জয় পাল, কৃষ্ণ পাল, তপন পাল, চিত্ত পাল ও সুজন পাল—এই পাঁচজন কারিগর তাকে সহযোগিতা করেন। বছরজুড়েই কমবেশি ফরমাশ থাকে। তবে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় দুর্গাপূজা এলে ব্যস্ততা বহু গুণ বেড়ে যায়। সকালের নাশতা খেয়ে কাজ শুরু করেন। শেষ হতে রাত ১২টা বেজে যায়। পূজা ঘনিয়ে এলে রুটিন বদলে যায়। কাজ চলে সারা রাত। এই কটা দিন তারা শৈল্পিক রূপ দেন দেবীর।  

হেনরি গ্লাসির লেখা ‘দ্য পটারস আর্ট’

বয়স এখন ৭০

হরিপদের বয়স ৭০ ছুঁই ছুঁই। কিন্তু কাজের গতি দেখে বয়স বোঝার উপায় নেই। দুর্গাপূজায় হরিপদ আগে প্রায় ১০টার মতো প্রতিমার ফরমাশ নিতেন। সেটা এখন কমে তিন-চারে ঠেকেছে। মাটি ছাড়াও পিতল, সিমেন্ট দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিমা গড়েন। এবার গুলশান, শাঁখারীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, টিপু সুলতান রোডের একটা মন্দিরসহ মোট চারটি মন্দিরের প্রতিমার অর্ডার নিয়েছেন। বললেন, ‘আগে তো অনেক জায়গা থেকে অর্ডার নিতাম। এখন তা কমিয়ে দিয়েছি। অর্ডারের চেয়ে কাজের মান আগে দেখতে হয়। ’

পূজার সামগ্রী কিনতে মুন্সীগঞ্জ থেকে শাঁখারীবাজারে এসেছিলেন অনাদি নাথ। আগে থেকেই পরিচয় ছিল। সেই সুবাদে হরিপদের সঙ্গে দেখা করতে এলেন। তিনি বললেন, ‘হরিপদদার কাজের আলাদা একটা স্টাইল আছে। প্রতিমার মুখ দেখেই বলে দেওয়া যাবে—এটা হরিপদ পালের না অন্য কারো বানানো। প্রতিবছর সরস্বতীর প্রতিমা উনার কাছ থেকেই নিয়ে যাই। ’

 

এটা আমার রন্ধ্রে মিশে গেছে

গুলশান পূজা মণ্ডপে প্রতিমা বানাতে গিয়ে রাত জেগেছেন হরিপদ। মশার কামড় খেয়ে চিকুনগুনিয়া বাঁধিয়েছেন। শরীরে এখনো ব্যথা রয়ে গেছে। এ অবস্থায়ও দোকানে চলে এসেছেন। বললেন, ‘শরীর এখনো ফিট হয় নাই। কিন্তু এত বছর ধরে কাজ করছি। এই সময় ঘরে মন টেকে না। প্রতিমা দেখতে ইচ্ছা করে, ধরতে ইচ্ছা করে। এটা আমার রন্ধ্রে মিশে গেছে। তাই চলে আসি। ’

১৯৭৮ সালে মালবিকা পালের সঙ্গে গাটছড়া বাঁধেন হরিপদ পাল। তাদের এখন একটা সন্তান। মালবিকা পাল বললেন, ‘উনি কাজ ছাড়া কিছুই বোঝেন না। বাসায় আসেন, ভাত খান, ঘুমান। তা ছাড়া সংসারে আর কিছুই যেন দেখার নেই। অবশ্য কাজ করে যা পান সবই আমার হাতে দিয়ে দেন। হাতখরচটা চেয়ে নেন। সময় দিত না বলে প্রথম প্রথম মন খারাপ হতো। তারপর মেনে নিয়েছি। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল—এঁরা নিজের কর্মের মাঝেই বেঁচে রইবেন যুগ যুগ। উনিই আমার রবীন্দ্রনাথ। আমার বিশ্বাস, উনিও বেঁচে থাকবেন তাঁর শিল্পকর্মের মাধ্যমে। ’

‘দ্য পটারস আর্ট’ বইয়ে হরিপদের তৈরি জগধার্থীর ছবি

যেভাবে মূর্ত হয় প্রতিমা

হরিপদ পাল জানালেন, প্রথমে প্রতিমার নকশা করা হয়। তারপর সেই নকশা অনুযায়ী কাঠামো বানানো হয়। শ্রাবণ মাসের শেষের দিকে প্রতিমা বানানোর কাজ শুরু হয়। প্রতিমা বানাতে মাটি, পানি, বাঁশ, খড়, পাট এসব লাগে। মাটির মধ্যে বেশি লাগে এঁটেল মাটি। বেলে মাটি, দো-আঁশ মাটিও লাগে পরিমাণমতো। সাভার থেকে মাটি আনা হয়। মাটিতে পাটের আঁশ দেওয়া হয় বন্ধনটা শক্ত করার জন্য। মূল কাঠামোর সঙ্গে হাত, মাথা ইত্যাদি জোড়া লাগানোর কাজে খড় ব্যবহার করা হয়। বাদামতলী, সোয়ারিঘাট এসব জায়গা থেকে খড় আনেন। কাঠামো বানানো শেষে তাতে নকশা অনুসারে মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়। এরপর তিন থেকে সাত দিন শুকানোর জন্য রাখা হয়। এবার রং লাগানোর পালা। প্রথমে কাঠামোর পুরো অংশে সাদা রং করা। শুকানোর পর সেই রঙের ওপর দরকারমতো লাল, সবুজ, বেগুনিসহ বিভিন্ন রং দেওয়া হয়। আগে তুলা, ন্যাকড়া এসব দিয়ে প্রতিমার গায়ে রং লাগানো হতো। এখন স্প্রে করে রং লাগানো হয়। এরপর চলে অলংকরণের কাজ।

প্রতিবার কাজ করার সময় শিল্পকর্মকে কিভাবে নতুন করে মানুষের সামনে উপস্থাপন করব সেই চিন্তা থাকে। হরিপদ বললেন, সব মিলিয়ে একেকটি প্রতিমা বানাতে ৭ থেকে ১৫ দিনের মতো সময় লাগে। পূজার দুই থেকে তিন মাস আগে ফরমাশ নেওয়া হয়। আকার, নকশা ও মানভেদে একেকটা প্রতিমার দাম ২০ হাজার থেকে শুরু করে লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

২০০২ সালের জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘স্মিথসোনিয়ান ফোকলাইফ ফেস্টিভাল’-এ

আমেরিকায়ও গিয়েছিলেন

প্রতিমাশিল্পী হিসেবে অনেকেই চেনেন হরিপদ পালকে। বিভিন্ন সময় দেশ-বিদেশের অনেকেই এসেছেন তাঁর কাছে। এদের মধ্যে হেনরি গ্লাসি একজন। আমেরিকার ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও  ফোকলোর গবেষক। গবেষণার কাজেই বাংলাদেশে এসেছিলেন। ১৯৯৮ সালের দিকে হরিপদ পালের সঙ্গে দেখা হয়। হরিপদের কাজ দেখে মুগ্ধ হন তিনি। তাঁর কাছ থেকে বেশ কিছু মডেল কেনেন। পরে গ্লাসির মাধ্যমেই ২০০২ সালের জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘স্মিথসোনিয়ান ফোকলাইফ ফেস্টিভাল’-এ অংশ নিয়েছিলেন হরিপদ। সেখানেও সুনাম কুড়িয়েছেন। ‘অত বড় একটা আয়োজনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্বিত আমি। বিদেশিরা আমার কাজের অনেক প্রশংসা করেছেন। ’ হেনরি গ্লাসির লেখা ‘দ্য পটারস আর্ট (১৯৯৯)’ বইয়ে হরিপদ পালের ছবিসহ তাঁর কাজের বিবরণ আছে। একই লেখকের ‘দ্য স্পিরিট অব ফোক আর্ট’ বইয়েও হরিপদের কথা উল্লেখ আছে।

 

একদিন মাটির ভেতরে হবে ঘর

মানুষের ভালোবাসাই কাজের প্রেরণা বলে জানালেন হরিপদ। বললেন, ‘সুন্দর করে প্রতিমা তৈরি করে প্রশংসা পাই। আমি জানি, মা তার চেয়েও সুন্দর। প্রতিমা বানানোর সময় মনে মনে বলি, মাগো, তুমি সাজো। আরো সুন্দর হও। ’

দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন দিয়ে মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা হাতে থাকে। তাতে সংসার টানাপড়েন লেগে থাকে। ধারদেনা করে চলতে হয়। তবু শিল্পীমনকে দমানো যায় না। হরিপদ বললেন, ‘আমার খুব বেশি কিছু চাওয়ার নেই। এই দেহ তো একদিন মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। মাটি নিয়েই তো জীবনটা পার করে দিলাম। মাটির মধ্যেই আমি মাকে উপলব্ধি করি। সংসারে টানাটানি হলে দুঃখ আসে। তখন শিল্পকর্মে ডুব দিই। এটাই আমার আশ্রয়। ’ বলতে বলতে চোখজোড়া ভিজে ওঠে তাঁর।

 

জননীর বিদায় নেই

বিসর্জনের দিন হু হু করে কেঁদে উঠে হরিপদের মন। তাঁর জীবনে সবচেয়ে কষ্টের দিন ওটা। কোনোমতে ভুলে থাকতে পারলে যেন বাঁচেন। বিসর্জনের সময় কখনো উপস্থিত থাকেন না। বললেন, ‘তখন যে কী খারাপ লাগে! আমি তো নিজে বানাই। চোখ দিয়ে সুন্দর করে গড়ে তুলি মাকে। আচ্ছা, আপনার সন্তানকে কেউ চোখের সামনে থেকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেলে আপনার খারাপ লাগবে না?’ পরে বিসর্জনের কষ্ট ভুলে আবার নতুন উদ্যমে কাজে নেমে পড়েন। নিজেই নিজেকে সান্ত্বনা দেন—‘আসলে জননী চিরদিনের। জননীর কোনো বিদায় নেই!’


মন্তব্য