kalerkantho


দুঃসাহসী

আলোকচিত্রী ক্যাম নেভিল

গেল জুলাইয়ে বিবিসি নেভিলকে নিয়ে একটি লেখা প্রকাশ করেছে। শিরোনাম—আলোকচিত্রী হলেন অগ্নিনির্বাপক। শিরোনাম দেখেই আহমেদ বায়েজীদ আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন। এবিসি নিউজ ও নেভিলের ওয়েবসাইট থেকেও জেনেছেন আরো অনেকটা

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আলোকচিত্রী ক্যাম নেভিল

প্রায় প্রতি গ্রীষ্মেই অস্ট্রেলিয়ার বনাঞ্চলে দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। পত্র-পত্রিকায় তার ছবি ছাপা হয়।

কিন্তু নেভিল সেসব ছবি দেখে সন্তুষ্ট হতে পারছিলেন না। মনে হচ্ছিল আরো নিবিড় ছবি পাওয়ার সুযোগ আছে। নেভিলের বেশি আগ্রহ ফায়ারফাইটারদের (যারা আগুন নেভায়) ব্যাপারে। নেভিল কুইন্সল্যান্ডের একটি ফায়ার ব্রিগেডের স্বেচ্ছাসেবক হলেন। নেভিল পেশায় একজন ওয়েডিং ফটোগ্রাফার। ১৮ বছর বয়স থেকেই ছবি তোলা শুরু। বাড়ির কাছের এক জেলেপল্লীর ছবি তুলতেন। সাধারণ জীবনের অসাধারণ ছবিই তাঁকে আকৃষ্ট করে বেশি। ভারতের পাহাড়ি গাঁয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান দেখে বিয়ের ছবি তুলতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ক্রমে এটি তাঁর রোজগারের উপায় হয়ে ওঠে। তাঁর বাড়ি ইংল্যান্ডে হলেও থাকেন অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে।

 

সেটি ছিল ২০১৩ সাল

গ্রিষ্মের আগেই নেভিল যোগ দেন স্বেচ্ছাসেবী ফায়ারফাইটারদের দলে। অস্ট্রেলিয়ায় দাবানল একটি নিয়মিত দুর্যোগের মতো। প্রায় প্রতি গ্রিষ্মেই দাবানলে পুড়ে যায় শত শত মাইল বনাঞ্চল। পোড়ে বসতভিটা আর প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। দাবানল প্রতিরোধে তাই দেশটিতে রয়েছে এক বিশাল স্বেচ্ছাসেবী দমকলবাহিনী। শুধু নিউ সাউথ ওয়েলসেই এমন স্বেচ্ছাসেবীর সংখ্যা ৭০ হাজারের বেশি। যা-ই হোক প্রশিক্ষণ নিয়ে ওই গ্রিষ্মেই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন নেভিল। বলছিলেন, আগুনের ভয়াবহতা আর মানুষের প্রচেষ্টা—দুই ব্যাপারেই আমার আগ্রহ। দুটিই ধরব ক্যামেরায়।

 

বিবিসি ও এবিসিকে নেভিল বলেছেন

প্রথম রাতটিতে আমি খুব নার্ভাস ছিলাম। ইংল্যান্ডে বড় হয়েছি। এমন ভয়াবহতার মুখোমুখি হতে হয়নি জীবনে। যেখানে আমরা ছিলাম তার কাছেই ঘন জঙ্গল। আগুনের তীব্রতা মারাত্মক ছিল। সেবার আমি দুটি ডিএসএলআর আর বড় বড় লেন্স নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে কাছেই যেতে হচ্ছিল। কারণ আগুনের তীব্রতা দীর্ঘ লেন্স দিয়ে ধরে বোঝানো যাবে না। আর ফায়ারফাইটারদেরও কাছ থেকে ধরতে চাইছিলাম। বস্তুত স্বেচ্ছাসেবকদের শক্তি আর মনোবল ছিল আমার আগ্রহের কেন্দ্রে। এই স্বেচ্ছাসেবদের মধ্যে পুরুষ, নারী সবাই আছে। তারা আমাদের মতোই সাধারণ মানুষ। কিন্তু কী অসাধারণ কাজ তারা করে! আমি সেই অসাধারণ কাজের সাক্ষী হতে চেয়েছিলাম।

 

নেভিল আগুন টের পাইয়েছে

বিশ্বের নামিদামি অনেক সংবাদমাধ্যম নেভিলের ছবি লুফে নিয়েছে। ২০১৪ সালে নেভিল বিশ্বখ্যাত মোরান কনটেমপরারি ফটোগ্রাফিক প্রাইজের ফাইনালিস্ট হয়েছিল। যারাই তাঁর ছবিগুলো দেখেছে, বলেছে আগুন টের পাচ্ছি। আর সঙ্গী ফায়ারফাইটাররা যখন দেখেছে তখন তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছে। বিবিসিকে নেভিল বলেছেন, এখন কিন্তু আমি আর বড় বড় লেন্স নিয়ে আগুন তুলতে যাই না; বরং ২৫ এমএম লেন্স নিয়ে যাই। আরো অনেক ছবি বাকি আছে। মুহূর্তগুলো সব সময় ধরা দেয় না। একেকটা মুহূর্তের জন্য অনেক অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়।

 

নেভিল আশা করেন

ছবিগুলো ফায়ারফাইটারদের সংগ্রাম, সাহস আর আত্মত্যাগের কথা বলবে। এটাই আশা করেন নেভিল। ‘এই মানুষগুলো প্রতি গ্রিষ্মে তাদের সপ্তাহের ছুটিগুলো আগুনে আত্মাহুতি দেয়। মানুষ হিসেবে তারা অনন্য। ’

 


মন্তব্য