kalerkantho


সাতকাহন

জ্যাক স্প্যারো

২০ মে, ২০১৭ ০০:০০



জ্যাক স্প্যারো

পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান সিরিজের নতুন ছবি এলো বলে। এর জ্যাক স্প্যারো চরিত্রটির কথা ভুলে গেছেন—এমন মানুষ পাওয়া সহজ হবে না।

তবে অনেকেরই হয়তো জ্যাক স্প্যারোর সঙ্গে চেনা-পরিচয়-জানা হয়নি। তাই আহনাফ সালেহীন কিছু খোঁজখবর করেছেন

 

সেই দিনগুলো

প্রচণ্ড ঝড়ের সময় সাগরেই জ্যাকের জন্ম। সতেরো শতকের কোনো একদিন। সম্ভবত সেটা ছিল ভারত মহাসাগর। তাঁর বাবা ক্যাপ্টেন টিগ ছিলেন জলদস্যুদের নেতা। সেসব দিনে মসলা, স্বর্ণ আর রেশমভর্তি জাহাজ চলাচল করত লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগর হয়ে। মাদাগাস্কার ছিল জলদস্যুদের স্বর্গরাজ্য। টিগের জাহাজের নাম ছিল মিস্টি লেডি। ২৮টি কামান ছিল জাহাজের।

তখন ফরাসি আর ইংরেজ সেনাদের সঙ্গে খুব যুঝে চলতে হতো জলদস্যুদের। তাই জ্যাকের মায়ের পক্ষে দীর্ঘসময় জাহাজে থাকা হয়তো সম্ভব হয়নি। তবে একটু বুঝ হওয়ার পর থেকেই জ্যাক কিন্তু বাবার কাছছাড়া হয়নি।

 

জ্যাকের ছোটবেলা

অভিযানে যাওয়ার আগ্রহ তাঁর বরাবরই ছিল। মিস্টি লেডিতেই কেটেছে তাঁর শৈশব। দারুণ সব ডাকাতির গল্প শুনে দিন কাটত তাঁর। গল্পগুলো বলত বাবার জাহাজের অন্য দস্যুরা। তাঁর বাবা ভালো স্প্যানিশ গিটার বাজাতে পারতেন। শুনে জ্যাকের মন উদাস হয়ে যেত। তবে জলদস্যুদের জীবন সহজ ছিল না। খুব নিয়ম মেনে চলতে হতো জ্যাককেও। ১২ বছর বয়সেই জ্যাক মিস্টি লেডিতে পাকাপোক্ত হয়ে যায়। জ্যাকের নামের শেষে স্প্যারো যোগ হয় সম্ভবত এ কারণে যে সাত সাগর পাড়ি দেওয়া হয়ে যায় তাঁর অল্প বয়সেই। সে দুরন্ত ছিল খুব। ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ চড়ুই পাখির মতোই।

 

পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ানের নায়ক

চিত্রনাট্যকার টেড এলিয়ট ও টেরি রোসিও তৈরি করেছেন জ্যাক স্প্যারো চরিত্রটি। চরিত্রটি পুরোই কাল্পনিক। ছবিতে স্প্যারো একজন দস্যুনেতা, যিনি তাঁর জাহাজটিকে (ব্ল্যাক পার্ল) হেক্টর বারবোসার কাছ থেকে ফিরে পেতে চান। ২০০৩ সালে নির্মিত দ্য কার্স অব দ্য ব্ল্যাক পার্ল ছবিতে চরিত্রটিকে প্রথম দেখা যায় জ্যামাইকার পোর্ট রয়্যালে। গভর্নরের মেয়ে এলিজাবেথকে ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচান জ্যাক। তবু তাঁকে দস্যুতার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতের বেলায় ব্ল্যাক পার্লের ক্যাপ্টেন হেক্টর বারবোসা পোর্ট রয়্যালে আক্রমণ চালিয়ে এলিজাবেথকে অপহরণ করে। তখন এলিজাবেথকে ফিরিয়ে আনার শর্তে মুক্তি দেওয়া হয় জ্যাককে। সিরিজের দ্বিতীয় ছবিতে ডেভি জোনসের (ভৌতিক জাহাজ ফ্লাইং ডাচম্যানের ক্যাপ্টেন) ঋণ শোধ করতে হন্যে হয়ে ছুটতে দেখা যায় জ্যাককে। তার পরের ছবি অ্যাট ওয়ার্ল্ডস অ্যান্ডে জ্যাক বাবা টিগের সঙ্গে একত্র হন। চতুর্থ ছবি অন স্ট্রেঞ্জার টাইডসে জ্যাককে দেখা যায় লন্ডনে। খুঁজতে এসেছেন এমন একজনকে, যে তাঁর নাম ভাঙিয়ে খাচ্ছে। ২৬ মে আসছে জ্যাকের নতুন ছবি ডেড মেন টেল নো টেলস।

 

জনি ডেপ হলেন জ্যাক

ওয়ার্ল্ড ডিজনি স্টুডিওতে জনি ২০০১ সালে গিয়েছিলেন একটি পারিবারিক ছবির খোঁজে। যখন তিনি পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান চলচ্চিত্রায়িত হবে শুনে উত্তেজিত হয়ে পড়লেন। চিত্রনাট্য পড়ে তিনি চরিত্রটিতে মজা খুঁজে পেলেন। ডেপকে চরিত্রটির জন্য মনোনীত করা হয় ২০০২ সালের জুন মাসে। প্রযোজক ভাবলেন, জনি ডিজনির গতানুগতিকতা ভাঙবে। সবাই ভাবে ডিজনি ছোটদের জন্য মোলায়েম ছবি বানান। জনি পারবে একইসঙ্গে কিশোর ও বয়স্কদের সিনেমা হলে টেনে আনতে।

 

জনির পোশাক ও সজ্জা

ডেপ নিজেকে চরিত্রটির জন্য সাজিয়েছেন রোলিং স্টোনের গিটারিস্ট কিথ রিচার্ডসের মতো করে। কিথ ট্যুরে গেলে নানা সাজ উপকরণ সংগ্রহ করতেন।   জ্যাক একটি লাল টুপি পরেন এবং চুলে অনেক পুঁতি লাগান। জ্যাক চোখে সুরমা লাগান। জনি সুরমার ব্যাপারটি খুঁজে পেয়েছেন বেদুইনদের কাছে। জ্যাকের কয়েকটি সোনার দাঁতও আছে। সেগুলোর মধ্যে দুটি জনির নিজের। জ্যাকের দাড়িতে দুটি বিনুনি আছে। অনেক ট্যাটু আছে তাঁর শরীরে। নিজের ট্রেডমার্ক ট্যাটুটি আছে তাঁর বাম বাহুতে। কস্টিউম ডিজাইনার পেনি রোজের সঙ্গে মিলে জনি জ্যাকের পোশাক বানিয়েছেন। জ্যাক একটি হালকা রেশমের ফ্রক পরিধান করেন। পায়ে লাগান বুট। জ্যাকের অস্ত্রগুলো সব হুবহু সতেরো শতকের। তাঁর তরবারিটি ১৭৪০ ও পিস্তলটি ১৭৬০ সালের। জ্যাক চারটি আঙটি পরেন, যেগুলোর মধ্যে দুটি জনির নিজের। এর মধ্যে সবুজ আংটিটি ১৯৮৯ সালে কিনেছিলেন জনি।

 

এক নজরে

চোখের রং : বাদামি

চুল : বাদামি

উচ্চতা : ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি

জন্ম : ষোলো শতকের কোনো একসময়

জন্মস্থান : ঝড়ের সময় একটি জলদস্যু জাহাজে

বাবা : এডওয়ার্ড টিগ

খেতাব : ক্যারিবীয় সাগরের দস্যু সর্দার

চরিত্র : স্বার্থপর কিন্তু দয়ামায়াহীন নয়

ভালোবাসার জিনিস : সাগর ও ব্ল্যাক পার্ল (জাহাজ)

 

 

 

 

 

জ্যাক স্প্যারোর অমর বাণী

►  যখন আপস করা যায় তখন যুদ্ধ কেন?

►  যদি হূদয়খানি দূরে পাঠিয়ে দিয়ে থাকো, জেনে রাখো একদিন হারিয়ে ফেলবে নিশ্চিত

►  হোক সাগর বিক্ষুব্ধ, ক্যাপ্টেন তো সেই আমিই

►  সমস্যা কিন্তু সমস্যা নয়, সমস্যা হলো তুমি এটাকে সমস্যা ভাব

►  আফসোস করা জ্যাকের কাজ নয়

►  তুমি আমাকে হত্যা করতে পার কিন্তু অপমান করতে পার না 

►  আমার ভূত বেঁচে আছেং


মন্তব্য