kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

রাকিনের অভিমান

২০ মে, ২০১৭ ০০:০০



সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে, রংধনুটার আভাস এখনো কিছুটা রয়ে গেছে, বৃষ্টি থেমে গেছে সেই বহুক্ষণ আগেই। চারদিক ধীরে ধীরে অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে।

কিন্তু সেদিকে রাকিনের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। সে দিব্বি খোলা মাঠে বসে আকাশপানে চেয়ে কী যেন ভাবছে। মনে হয় আজ তার মনটা ভীষণ খারাপ। সারা বিকেল গেল, কারো সঙ্গে একটা কথাও বলেনি। অথচ সে খুবই চঞ্চল প্রকৃতির ছেলে। সবাইকে সারাক্ষণ আনন্দে মাতিয়ে রাখে। এ জন্য সবাই তাকে খুব পছন্দ করে। করবেই বা না কেন! সে যেমন চঞ্চল, তেমন দেখতে সুদর্শনও বটে। কিন্তু আজ তার এমন কী হলো যে সে সবার সঙ্গ ছেড়ে, একা নির্জনে চুপচাপ বসে আছে, মাঝেমধ্যে দুই হাত দিয়ে চোখ থেকে অনিচ্ছাকৃত গড়িয়ে পড়া জল মুছছে! মনে হয় আজ সে কোনো কারণে কারো ওপর খুব অভিমান করেছে। কিন্তু কেন? তার মা কি তাকে খুব কড়া স্বরে বকাঝকা করেছে? তার কোনো বন্ধু-বান্ধব শহর ছেড়ে অন্য কোনো শহরে গিয়ে উঠেছে? নাকি তার প্রেমিকা রিয়ার সঙ্গে কোনো ঝামেলা পাকিয়ে বসেছে? অবশ্য রিয়ার সঙ্গে তো এমনটা হওয়ার কথা না। সে খুবই শান্তশিষ্ট স্বভাবের মেয়ে। কেউ তাকে কিছু বললে মুখ বুজে সহ্য করবে, নিজে একা কেঁদে বুক ভাসাবে, তবু কারো সঙ্গে শেয়ার করবে না। খুবই লাজুক ও বিনয়ী মেয়েটা! তা ছাড়া তারা একে অপরকে খুবই ভালোবাসে! রাকিনের সঙ্গে তার সম্পর্কের দুই বছর গত হলো। এই দুই বছরে রাকিনের সঙ্গে তার কোনো প্রকার ঝামেলা হয়নি। হওয়ার কথাও না। তাহলে? নাহ, রাকিনের মনে হয় অন্য কোনো কারণে মন খারাপ! কিন্তু সেটা কী? জানা যায়নি, কখনো জানা যাবে বলেও মনে হয় না। —এমন সহস্র রাকিন আছে, যাদের ভেতরের অভিমান, চাপা কষ্ট কখনো প্রকাশ হয় না। এরা কষ্টে নিজেকে পোড়ায়, হঠাৎ হঠাৎ ফুঁপিয়ে ওঠে, রাতে কেঁদে বালিশ ভাসায়; কিন্তু কারো সঙ্গে নিজের কষ্ট শেয়ার করে না। এ রকম মানুষ আর যা-ই হোক, স্বার্থপর হয় না। রাত বাড়ছে, ঘুটঘুটে অন্ধকার ঠিক অমাবস্যার মতো। কোথাও একটি ঝিঁঝি পোকা থেমে থেমে ডাকছে। কিন্তু রাকিন এসবের কোনোই তোয়াক্কা করছে না। সে কি এভাবেই সারা রাত পার করে দেবে?

 

শামীম আহমাদ, রায়পুরা, নরসিংদী


মন্তব্য