kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

বৃষ্টিময় শৈশব

২০ মে, ২০১৭ ০০:০০



বৃষ্টি হলে নদী বা পুকুরে নেমে মাথাটা ওপরে রেখে ভেসে থাকতাম। একটু পরপর ডুব দিতাম।

বৃষ্টির পানিতে লুকোচুরি খেলা জমত না। ঝুম ঝুম করে তীব্র বৃষ্টি হতো। বৃষ্টির ফোঁটা পানিতে পড়তেই ভালো লাগত। মনে হতো ফুল ফুটছে। শুক্র ও শনিবার বৃষ্টি হলে মন খারাপ থাকত! বাবার অফিস বন্ধ। ঘরে থাকতেন। আমাকেও বাধ্য হয়ে ঘরে থাকতে হতো। ঠাণ্ডা লাগবে, জ্বর হবে—এ জাতীয় কথা বুঝিয়ে আমাকে ঘরে বন্দি করে রাখা হতো। পাড়ার ছেলেদের বড় অংশই বৃষ্টিতে হৈচৈ করত। মনে মনে বাবাকে গালি দিতাম! ছটফট করতাম বাইরে যেতে। কান্না করতাম। মায়ের মন গলত। আচ্ছা যা, তাড়াতাড়ি চলে আসবি। বলে মা বাইরে যাওয়ার ছাড়পত্র দিতেন। আমি এক দৌড়ে গিয়ে ঝাঁপ দিতাম নদী, নয়তো এসপি অফিসের পুকুরে। কখনো কখনো হাজির পুকুরে। ইচ্ছামতো ডোবাডুবি করে ঘরে আসতাম। বাবা রেডি হয়ে থাকতেন খপ করে ধরে মারার জন্য। পারতেন না। ধরলেও মারার সুযোগ তিনি কমই পেতেন। তিনি যদি র‌্যাব হোন, তো আমার মা সেনাবাহিনী! আমাকে আমার মা রক্ষা করতেন। সন্তানদের রক্ষা করার জন্যই পরম দয়াময় মায়েদের মনে এত মায়ামমতা দিয়ে পৃথিবীতে পাঠান!

 

সঞ্জয় দেবনাথ, নাজিরহাট, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম


মন্তব্য