kalerkantho


উৎসব

আয়রে মোরা ফসল কাটি

ইন্দোনেশিয়ার বালি পর্যটকদের প্রিয়। বালির প্রধান ফসল ধান। বালির ঘরে ঘরে ধান উঠছে এখন। বালিতে তাই চলছে ফসল উৎসব। ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবের খোঁজখবর জানাচ্ছেন ওমর শরীফ পল্লব

২০ মে, ২০১৭ ০০:০০



আয়রে মোরা ফসল কাটি

ধানের দেবী শ্রী

বালির ধানের দেবীর নাম শ্রী। ভালো ফসল পেয়ে দেবী শ্রীকে কৃতজ্ঞতা জানায় বালির মানুষ। মে মাসের প্রথম দিন থেকেই উৎসবের সাজ-পোশাক পরে বালি। শেষ দিন পর্যন্ত অনুষ্ঠানাদি চলতে থাকে। নেচে-গেয়ে মন্ত্র পড়ে তারা এ সময় জমি থেকে অশুভ আত্মাও তাড়ায়, সেই সঙ্গে ফসলের দেবীর সন্তুষ্টিও কামনা করে। বালির শষ্যক্ষেত্রগুলোতে এ সময় দেবতাদের প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়। রাস্তায় রাস্তায় রংবেরঙের পতাকা উড়তে দেখা যায়। ষাড়দৌড়সহ আরো নানা খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। পর্যটকরাও ইচ্ছা করলে উৎসবে অংশ নিতে পারে।

 

দেবী শ্রী পরিচিতি

শ্রী একজন প্রাগৈতিহাসিক দেবী। জাভা অঞ্চলে পূজিত হন ধান ও উর্বরতার দেবী হিসেবে।

খ্রিস্টীয় প্রথম শতকে জাভা অঞ্চলে হিন্দু ধর্মের প্রসার ঘটলে শ্রীর সঙ্গে সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মীর সম্পর্ক পাতিয়ে দেওয়া হয়। লোকে বিশ্বাস করে, শ্রীর রাজত্ব বিস্তৃত পাতালপুরীতে ও চাঁদে। তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন জন্ম ও জীবন। ইন্দোনেশীয়দের প্রধান খাবার ধানের ওপর তিনি কর্তৃত্ব রাখেন। তাই লোকে তাঁকে ভয় পায়,  পূজা দিয়ে বাঁচতে চায় অনাহার আর দারিদ্র্য থেকে। আহার দেয় বলে সম্মানও করে। সাধারণত সুন্দর ও কমনীয় করে তাঁর যৌবনকালের মূর্তিই তৈরি করে বালির লোক। ছবি আঁকলে তাঁর পরনে দেয় সবুজ, সাদা বা সোনালি রঙের পোশাক। গলায়, হাতে, কোমরে অনেক অলংকার থাকে তাঁর। কখনো কখনো তাঁর এক হাতে ধানের গোছাও দেওয়া হয়। উৎসবের সময় বালির লোক ধান দিয়ে ছোট ছোট দেবী শ্রীর প্রতিকৃতি বানায়। দেবী শ্রীর সঙ্গে সাপেরও যোগ আছে।   

 

প্রথমে দেবী শ্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়  

ধান তোলার আগেই হয় মন্ত্রপাঠ। আমন্ত্রণ জানানো হয় দেবী শ্রীকে। জাভানিজ ভাষায় এ আচারকে বলা হয় ম্যাপাগ শ্রী। অর্থ শ্রীকে তোলা বা ডেকে আনা। লোকে তাঁকে আহ্বান জানায়, আসুন এবং গোলা ধানে পূর্ণ করুন।

 

উৎসব যেমন হয়

বিশেষ বিশেষ খাবার রান্না করা হয় উৎসবের অংশ হিসেবে। গাঁয়ের বড় কোনো মাঠে ম্যারাপ বাঁধা হয়। বড় বড় হাঁড়িতে রান্না চড়ানো হয়। গাঁয়ের সব লোক জড়ো হয় মাঠে। সবাই মিলেই আনন্দ-ফুর্তিতে রান্নাবান্না করে। মাঠের এক ধারে মেলা বসে। বাঁশের তৈরি নানা জিনিস পাওয়া যায় মেলায়। মুখোশও বানায় লোকে। একপর্যায়ে গায়ে রং মেখে আর মুখে মুখোশ এঁটে শোভাযাত্রা করে গাঁয়ের লোক। ষাড়ের দৌড় এ উৎসবে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বড় ষাড়ের দৌড়টি হয় পেরানচক নামের এক জায়গায়। বালির জীবনযাত্রায় ধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ধানের জীবনচক্র আর মানুষের জীবনচক্র একই রকমে আবর্তিত হয়। ধানের চারা রোপণ, পরিচর্যা, পানি দেওয়া আর শেষে ধান ঘরে তোলা মিলিয়েই বালির জীবন।


মন্তব্য