kalerkantho


সামনে আছে সারা বিশ্ব

সাইদুর রহমান শাহিন

২০ মে, ২০১৭ ০০:০০



সামনে আছে সারা বিশ্ব

এবার সবচেয়ে বেশি আম রপ্তানি করছেন সাইদুর রহমান শাহিন। মেহেরপুর সদরের সরকারি মহিলা কলেজপাড়ার আব্দুল মান্নানের ছেলে সাইদুর রহমান শাহিনকে সবচেয়ে বেশি আম জোগানোর জন্য চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে।

তিনি ৩০ বিঘা জমির বাগানের মালিক। তাঁর বাগানে আমগাছ আছে প্রায় দুই হাজার। দুই লাখ আম তিনি ব্যাগিং করছেন।

 

কিভাবে বাগান করা শুরু করলেন?

আমার দুটি শখ। একটি হচ্ছে ছবি তোলা, অপরটি বাগান করা। সেই ছোটবেলা থেকেই। ১৯৯৮ সালে আমি আমবাগান শুরু করি। প্রথম বছর ৬৪টি গাছ লাগিয়েছিলাম। তার মধ্যে মারা যায় ৫৮টি।

দুই বছর পর একসঙ্গে প্রায় দুই হাজার হিমসাগর আমের চারা লাগালাম। প্রতিদিন আমি বাগান পরিচর্যা করতাম। গাছগুলোকে নিজের সন্তান বলে মনে হতো। প্রতিটির আলাদা করে যত্ন নিয়েছি। এখন ওইটিই একটি স্বপ্নের বাগানে পরিণত হয়েছে। বাগানের জন্য একটি নার্সারিও করেছি।   

 

রপ্তানি প্রক্রিয়ায় গেলেন কিভাবে? 

প্রতিবছর আমের সময় পুরো বাগান বিক্রি করে দিতাম। মাঝেমধ্যে ঢাকায় গেলে দেখতাম, মেহেরপুরের হিমসাগরকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বলে বিক্রি করছে। তখন খুব কষ্ট পেতাম। এলাকার লোকদের এসে বলতাম ঘটনা। তারপর দুই বছর আগে যখন মেহেরপুরের আম রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হলো, আমি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। বললাম, প্রশিক্ষণ নিতে চাই। প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর বুঝলাম, আমি এটা পারব। প্রথমবার পাঁচ হাজার আম দিয়েছিলাম। এবার দুই লাখ আম ব্যাগিং করেছি। আশা করি সামনে আমরা আমেরিকা আর চীনের বাজারও ধরতে পারব। আমি পত্রপত্রিকায় পড়েছি, চীনের মানুষ আম পছন্দ করে খুব। তারা বেশি দাম দিয়ে হলেও সংগ্রহ করে।

 

আপনার বাগানে কতজন কাজ করছে এখন?

ব্যাগিংয়ের কাজ করতে পারে কলেজের ছাত্ররাও। আমার বাগানে ছাত্রসহ প্রায় ৩০ জন কাজ করছে। একটি আম ব্যাগিংয়ের জন্য ৫০ পয়সা করে দেওয়া হয়। দিনে এক হাজার আম ব্যাগিং করা যায়। তাতে আয় হয় ৫০০ টাকা।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

আমি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। মনে হয় একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখব মেহেরপুরের সব সড়কের দুই পাশে সারি ধরে দাঁড়িয়ে আছে শত-সহস্র হিমসাগর আমগাছ। সারা দেশ থেকে লোক এসে জড়ো হচ্ছে মেহেরপুরে। আমগাছের সঙ্গে তারা ছবি তুলছে। আমের মৌসুমে মেহেরপুরে বসছে মিলনমেলা। মেহেরপুরের হিমসাগর জিতে নিয়েছে সারা বিশ্ব।


মন্তব্য