kalerkantho


হিমসাগর ইউরোপ যায়

মেহেরপুরের হিমসাগর যাচ্ছে ইউরোপে। খাচ্ছে বিদেশিরা। বলছে, ওয়াও! লিখেছেন ইয়াদুল মোমিন

২০ মে, ২০১৭ ০০:০০



হিমসাগর ইউরোপ যায়

এবার ইউরোপে বেশি যাচ্ছে শাহিনের বাগানের আম

অনেক রকম আম হয় দেশে। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় হিমসাগর।

আঁশহীন এই আম ৩৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ আর বাংলাদেশের রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে বেশি হয় হিমসাগর। আর এর মধ্যে সবচেয়ে সুস্বাদু হিমসাগর হয় বাংলাদেশের মেহেরপুরে। জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। গত বছর থেকে মেহেরপুরের হিমসাগর সাত সাগর পাড়ি দেওয়া শুরু করেছে। রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে। সেবার পরীক্ষামূলকভাবে ১২ মেট্রিক টন আম পাঠানো হয়েছিল। লোকে খেয়ে মাত হয়ে যাওয়ার খবর এসেছে। এবার তাই পাঠানো হচ্ছে ২৫০ মেট্রিক টন। সে লক্ষ্যে ৭০টি বাগানের ৯ লাখ আম ফ্রুট প্রটেক্টিং ব্যাগে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। মেহেরপুরের হিমসাগরকে জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যের স্বীকৃতি পেতে কাজ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। উল্লেখ্য, মেহেরপুরের দুই হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। উৎপাদন হয় প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিক টন আম। এর মধ্যে হিমসাগরই ৭০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২৩ হাজার মেট্রিক টন।

 

মোস্তাফিজুর রহমান উদ্যোক্তা

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস এম মোস্তাফিজুর রহমান। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আসেন মেহেরপুরে। আম খেয়ে অভিভূত হন। বুঝতে পারেন চাঁপাই বা সাতক্ষীরার চেয়েও ভালো হিমসাগর হয় মেহেরপুরে। মোস্তাফিজুর রহমান ফ্রুট এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে কথাবার্তা চালাতে থাকেন। একপর্যায়ে চুক্তিও করে ফেলেন। মোস্তাফিজুর ৩০ জন আমচাষিকে প্রশিক্ষণ নিতে উৎসাহিত করেন। প্রথমবার হওয়ায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি (যেমন ব্যাগিং) গ্রহণ করা যায়নি। মান ধরে রাখার ব্যাপারে যত্নবান থাকতে হয়েছে। তাই চাহিদা থাকলেও অনেক বেশি রপ্তানি করা থেকে বিরত থাকতে হয়েছে। সেবার প্রতি কেজি আমের দাম পাওয়া গিয়েছিল ৯৫ টাকা (স্থানীয় বাজারমূল্যের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ)। মোস্তাফিজুর রহমান বললেন, এবার ৭০ জন চাষিকে জড়ো করা হয়েছে। প্রায় আড়াই কোটি টাকার আম রপ্তানি করা হবে। আশা করি আগামী বছর দেড় হাজার মেট্রিক টন আম রপ্তানি করা যাবে। এখন থেকেই তার প্রস্তুতি চলছে।

 

একজন মোস্তাফিজুর রহমান

১৯৮৭ সালের ১ এপ্রিল রাজবাড়ী জেলায় বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সিতে ফিল্ড অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর নাটোর, নিলফামারী, রাজশাহী এলাকায় কাটিয়েছেন অনেক দিন। ২০০৭ সালে তিনি নাটোরের গুরুদাসপুরে কর্মরত ছিলেন। চলনবিলে রসুনের সঙ্গী ফসল হিসেবে তরমুজ ফলিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি জেলাপর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার এনে দিয়েছেন মেহেরপুরকে। ১৯৬১ সালে নাটোরের লালপুরে জন্ম মোস্তাফিজুর রহমানের। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

 

ভোক্তা যখন বিদেশি

এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ইউরোপের লোকজন ভালো মানের পণ্য ভোগ করতে আগ্রহী। মেহেরপুরের আবহাওয়া শুষ্ক আর এখানে জলাবদ্ধতা কম। তাই সবচেয়ে ভালো মানের আঁশবিহীন ও সুস্বাদু হিমসাগর হয় মেহেরপুরে। আন্তরিক হলে ভবিষ্যতে শুধু ইউরোপ নয়, সারা বিশ্বই মেহেরপুরকে খুঁজবে।  

 

চাষিদের প্রশিক্ষণ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা বাগান ঘুরে দেখে চাষিদের চুক্তিবদ্ধ করেন। চুক্তিবদ্ধ চাষিদের প্রশিক্ষণ শুরু হয় ৩০ মার্চ। ব্যাগিং পদ্ধতি তাদের শেখানো হয়েছে হাতে-কলমে।

 

আম সংরক্ষণ ও রপ্তানি প্রক্রিয়া

২০ মে থেকে বোঁটাসহ আম তোলার কাজ শুরু হবে। তারপর এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের সংরক্ষণাগারে নেওয়া হবে। বাছাই শেষ করে এক সেন্টিমিটার পরিমাণ বোঁটা রেখে আম প্যাকিং করা হবে। এক প্যাকেটে দুই কেজি পরিমাণ আম থাকে। প্যাকিংয়ের সময়ই চাষিদের টাকা পরিশোধ করে দেওয়া হয়। তারপর আমগুলো চলে যায় ঢাকায়। ঢাকা থেকে ইউরোপের দেশে দেশে।


মন্তব্য