kalerkantho

অমূল্য রতন

বরেন্দ্রর বই

১৯১০ সালে বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি প্রতিষ্ঠা করে বরেন্দ্র জাদুঘর। শতবর্ষী জাদুঘরটিতে একটি বড় গ্রন্থাগারও আছে। এতে অনেক দুষ্প্রাপ্য বই আছে। জাদুঘরের দ্বিতীয় তলায় এ গ্রন্থাগার। দেখে এসেছেন উদয় শংকর বিশ্বাস

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বরেন্দ্রর বই

নাটোরের দিঘাপতিয়ার জমিদার কুমার শরত্কুমার রায় (১৮৭৬-১৯৪৬) বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (১৮৬১-১৯৩০), প্রত্নতাত্ত্বিক রমাপ্রসাদ চন্দ (১৮৭৩-১৯৪২) ও আরো অনেকের নাম এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ‘বরেন্দ্র রিসার্চ সোসাইটি’ গড়ে তুলেছিলেন তাঁরা। সোসাইটির তরফে সংগ্রহ করা হয়েছিল এক হাজার ২০০-র বেশি প্রত্নবস্তু ও প্রায় ১৪ হাজার বই। এমন অনেক বই আছে বরেন্দ্র গ্রন্থাগারে, যা দেশের আর কোথাও নেই। জাদুঘরের দ্বিতীয় তলায় উঠলেই দেখবেন সারি সারি কাঠের আলমারি। সেগুলো বইয়ে ঠাসা। বসে পড়ার ব্যবস্থাও সুন্দর। গ্রন্থাগারটি পরিচালনা করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

 

Paradise Regaind : A Poem 

মিল্টনের এ গ্রন্থটি বহুল পঠিত। ১৭১৩ সালে প্রকাশিত সংস্করণের একটি সংখ্যা বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে।

৩৮৮ পৃষ্ঠার ছোট আকৃতির বইটির পৃষ্ঠাগুলো এখনো ভালো, পড়তে এতটুকু অসুবিধা হয় না। বইটি স্যার যদুনাথ সরকারের (১৮৭০-১৯৫৮) পারিবারিক লাইব্রেরি থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে লন্ডনে। এটিকেই  গ্রন্থাগারের সবচেয়ে পুরনো সংগ্রহ বলা যায়।

 

ইতিহাসমালা

বাংলা গদ্য সাহিত্যের প্রাণপুরুষ উইলিয়াম কেরি (১৭৬১-১৮৩৪) যে কয়টি বাংলা বইয়ের জন্য আজও সমাদৃত, তার অন্যতম ইতিহাসমালা। বাংলার মেয়েদের কথন-ঢঙের বর্ণনা গল্পগুলোতে পাওয়া যায়। আছে মেয়ে মহলে চালু থাকা ছড়া, ধাঁধা, প্রবাদ, রূপকথা, উপকথা, নীতিকথা ইত্যাদি। এটি ১৮১২ সালে শ্রীরামপুর মিশন ছাপাখানা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। কাঠের ব্লকে ছাপা বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা ৩২০। বইটির একটি কপি বরেন্দ্র গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে।  

 

দুর্গেশনন্দিনী

বঙ্কিম চট্টোপাধ্যায়ের (১৮৭৮-১৮৯৪) দুর্গেশনন্দিনীর প্রথম সংস্করণটি আছে এই গ্রন্থাগারে। বইটি ১৮৬৫ সালে কলকাতার বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। পৃষ্ঠাসংখ্যা ৩১০ এবং মূল্য ধরা হয়েছিল এক টাকা। এটির আরো কয়েকটি সংস্করণের কপি এখানে আছে। এ লাইব্রেরিতে দুর্গেশনন্দিনীর ইংরেজি সংস্করণটিও আছে। ১৮৮১ সালে কলকাতার সেন্ট্রাল প্রেস থেকে সেটি প্রকাশিত হয়। ইংরেজি সংস্করণটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মাত্র ১৭৩।

 

ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়

বাংলার লোকধর্মবিষয়ক প্রথম বই ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়। অক্ষয়কুমার দত্ত (১৮২০-১৮৮৬) এটির রচয়িতা। তিনি বইটিতে বাউল, মতুয়া, কর্তভজা, খুশিবিশ্বাসী, রায়ধনী ইত্যাদি লোকধর্ম সম্প্রদায়গুলোর কথা বলেছেন। কলকাতার বসুমতী বা সংস্কৃত প্রেস থেকে বইটির প্রথম ভাগ ১৮৭০ সালে ও দ্বিতীয় ভাগ ১৮৮৩ সালে প্রকাশিত হয়। দুই খণ্ডেরই প্রথম সংস্করণ এখানে সংরক্ষিত আছে। তবে বইটি খুব নাজুক অবস্থায় আছে।

 

লীলাবতী

মহামহোপাধ্যায় ভাস্করাচার্যের সংস্কৃত রচনা থেকে গোবিন্দমোহন রায়বিদ্যাবিনোদ লেখেন লীলাবতী। ১৮৮০ সালে কলকাতার স্টানহোপ ছাপাখানা থেকে বইটি বের হয়। এখানে লেখক বাংলায় গণিত বোঝার চেষ্টা করেছেন। ১০ গুণোত্তর সংখ্যা, গুণন, ঘনফল, ঘনমূল ইত্যাদি বিষয় তিনি সহজ করে বাংলায় বলেছেন।

 

সিরাজউদ্দৌলা

ইংরেজরা নবাব সিরাজউদ্দৌলার চরিত্রে সে কালিমা লেপন করেছিল, অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের বইটি দিয়ে তার অনেকটা মোচন হয়। বিশেষ করে অন্ধকূপ কাহিনির ভ্রান্তি দূর হয়। কলকাতার কর্নওয়ালিস স্ট্রিটের গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় অ্যান্ড সন্স প্রকাশনী থেকে ১৮৯৮ সালে প্রথম বের হয় সিরাজউদ্দৌলা। প্রথম সংস্করণটি এখানে ভালো অবস্থায়ই আছে।

বরেন্দ্র গ্রন্থাগারে এমন আরো অনেক বই আছে। আছে অনেক বাংলা সাময়িকপত্র। যেমন হিন্দু-রঞ্জিকা, সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকা ইত্যাদি।


মন্তব্য