kalerkantho

মঙ্গলবার। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হামিদার ভাষা আন্দোলন

শুধু চিঠি লিখেই থেমে থাকেননি হামিদা। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব নিয়ে কারফিউ ভেঙে মিছিল করেছেন। হুলিয়া মাথায় নিয়ে পুরুষের ছদ্মবেশ ধরেছিলেন। লিখেছেন ফখরে আলম। ছবি তুলেছেন ফিরোজ গাজী

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



হামিদার ভাষা আন্দোলন

“বাঙালি হিসেবে যেমন আমরা পুরো বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের ভেতর দাবি করেছিলাম, তেমনি আজ বাংলাদেশের বাংলা ভাষাকে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে দাবি করব না কেন? পূর্ব পাকিস্তানের জনপ্রিয় পত্রিকা ‘আজাদের’ পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষায় পরিণত করার বিরুদ্ধে যুক্তি দেখে খুবই দুঃখ হয়। পাকিস্তান জনগণের রাষ্ট্র। তাই তার ভাষা হবে জনগণের ভাষা। বাংলার সাড়ে চার কোটি লোক যে ভাষায় কথা বলে,  যে ভাষায় সাহিত্য রচনা করে, যে ভাষায় মনের ভাব ব্যক্ত করে, সে ভাষা তাদের নিজস্ব ভাষা হবে না, এ-ও কি বিশ্বাস করতে হবে? স্বাধীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ভাষার সঙ্গে তাদের প্রাণের কোনো যোগই থাকবে না, এ-ও কি সত্য হবে?” (হামিদা রহমানের চিঠির অংশবিশেষ)

 

একজন হামিদা রহমান

হামিদা রহমান ১৯২৭ সালের ১৯ জুলাই যশোর শহরের পুরনো কসবায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম বজলুর রহমান। হামিদা যখন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী, তখন তাঁর এক আত্মীয় স্বদেশি আন্দোলনে যুক্ত হওয়ায় হামিদার মধ্যে দেশপ্রেম জেগে ওঠে। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় হামিদা কলকাতা এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট থেকে মাসিক ছয় টাকা বৃত্তি পান। এই বৃত্তির টাকা দিয়ে তিনি নিজ বাড়িতে একটি স্কুল গড়ে তোলেন। মাদুর, বই, স্লেট, পেনসিল, চক কিনে দেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের লেখাপড়া শেখান। ১৯৩৮-৩৯ সালে মাইকেল মধুসূদন গার্লস স্কুলে পড়ার সময় তাঁর রাজনীতিতে হাতে খড়ি। ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুতে তাঁর ছবি নিয়ে হামিদা শোক মিছিলে অংশ নেন। এদিন ভৈরব নদের পাশে বসে হামিদা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে ‘রবি বিয়োগ গীতি’ নামে একটি কবিতা লেখেন। ১৯৪২ সালে তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন। ওই বছরই তাঁর সঙ্গে সিদ্দিকুর রহমানের বিয়ে হয়। পরে হামিদা কলকাতা ক্যাম্বেল মেডিক্যাল কলেজে ‘এলএমএফ’-এ পড়তে যান। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। বিহারের জামসেদপুর ক্যাম্পে বেশ কিছুদিন কর্মরত ছিলেন। ১৯৪৫ সালে তিনি যশোর কলেজে ভর্তি হন। এ সময় তিনি ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৪৭ সালে আইএ পাস করেন। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব নিয়ে ভাষার জন্য রাজপথে নামেন। ওই বছরই তাঁর নামে হুলিয়া জারি হয়। ১৯৪৯ সালে পারিবারিক কারণে তিনি রাজনীতি থেকে সরে আসেন। এ বছর তিনি যশোর কলেজ থেকে বিএ পরীক্ষা দিয়ে ঢাকায় যান। ১৯৫০ সালে নারায়ণগঞ্জের মরগ্যান গার্লস হাই স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি নেন। ১৯৫৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৫৮ সালে এমএ পাস করেন। ১৯৪৯ সালে ঢাকার তেজগাঁও ভিলেজ একাডেমির হোম ইকোনমিক কলেজের প্রশিক্ষকের চাকরি নেন। হামিদা ১৯৬০ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত চাঁদপুর লেডি প্রতিমা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৩ সালে তিনি জগন্নাথ কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপিকা হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৮ সালে এখান থেকে ইস্তফা দিয়ে পুরানা পল্টন গার্লস কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগ দেন। ১৯৭০ সালে ‘গণশক্তি’ পত্রিকায় রিপোর্টার হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০০৫ সালের ১৪ আগস্ট তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

 

সেই দিনগুলোতে ভাষার দাবিতে এভাবেই আন্দোলনে অংশ নিতেন হামিদা রহমান। প্রতীকী এই ছবি এমএম কলেজ প্রাঙ্গণে তোলা। মডেল : মাহমুদা

 

তখনো পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়নি, নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের ভাষা কী হবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। হামিদা রহমান তখন যশোর এমএম কলেজের ছাত্রী। বাংলাকে এই অঞ্চলের রাষ্ট্রভাষা করার যুক্তি দেখিয়ে পত্রিকায় চিঠি লেখেন হামিদা রহমান। তারপর কারফিউ ভেঙেছেন। হুলিয়া মাথায় নিয়ে পুরুষের ছদ্মবেশ ধরে আন্দোলন চালিয়ে গেছেন।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি। কিন্তু নতুন রাষ্ট্রের ভাষা কী হবে তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছিল আগে থেকে। আজাদ তখন প্রকাশ হতো কলকাতা থেকে। বাংলা পত্রিকা হয়েও এটি উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিল। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে আজাদে বাংলা ভাষার বিরোধিতা করে একটি নিবন্ধ ছাপা হয়। প্রতিবাদে ১০ জুলাই হামিদা রহমান কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকায় ‘পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ শিরোনামে একটি চিঠি লেখেন। বিচারপতি কে এম সোবহান দৈনিক সংবাদে ১৯৮৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ‘একুশের চিন্তা’ শিরোনামে এক প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত বলা যায় এখান থেকেই। ’

পরের ঘটনা হামিদা রহমানের কাছ থেকেই জানা গেল। ‘জীবন স্মৃতি’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘আমি ও আলমগীর সিদ্দিকী যুগ্ম কনভেনর হিসেবে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তুলি (১৯৪৮)। আমাদের সভাপতি ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি ডা. জীবন রতন ধর। সদস্য ছিলেন উকিল হাবিবুর রহমান, উকিল মসিউর রহমান, অনন্ত মিত্র, জালাল আহমেদ, আফজাল হোসেন প্রমুখ। ১১ মার্চ সমস্ত শহরময় হরতালের ডাক দেওয়া হলো। প্রতিটি স্কুল-কলেজ সেই ধর্মঘটে যোগ দিল। শুধু দিল না যশোরের মোমিন গার্লস স্কুল ও যশোর জিলা স্কুল। তখন যশোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন নোমানী সাহেব। তাঁর মেয়ে মোমিন গার্লস স্কুলে পড়ত। সে সক্রিয়ভাবেই সব মেয়েকে ধর্মঘটে যোগ দিতে বাধা দিয়েছিল। আমার আজও মনে আছে, নোমানীর মেয়েকে জোরে ধাক্কা দিয়ে সিঁড়ির ওপর থেকে নিচে ফেলে দিয়েছিলাম। ঠোঁট কেটে রক্ত ঝরে গিয়েছিল তার, কেউ কেউ বলে তার একটি দাঁতও ভেঙে গিয়েছিল। এই ধর্মঘটের পর আমার নামে ‘হুলিয়া’ জারি হয়। ছাত্রদের নামেও হুলিয়া ছিল। আমরা কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী মিটিংয়ে যোগ দিয়েছিলাম। আমাদের কলেজের বেয়ারা কেশবচন্দ্র সেদিন অত্যন্ত বিপদের ঝুঁকি নিয়ে কলেজের সব দরজা-জানালা বন্ধ করে কলেজ একেবারে অন্ধকার করে দিয়েছিল। ওপরের ঘরে একটি মাত্র মোমবাতি জ্বালিয়ে সেদিন আমরা খুব তাড়াতাড়ি মিটিং শেষ করি। হোস্টেল থেকে কেশব একটা পাজামা, একটা শার্ট ও একটা গামছা এনে দিয়েছিল আমাকে। আমি শাড়ি বদলে পাজামা ও শার্ট পরে, মাথায় গামছা বেঁধে, একটা বিড়ি ফুঁকতে ফুঁককে কলেজের পেছনের দরজা দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লাম। ওই পোশাকে কেউ আমায় সেদিন চিনতে পারেনি। ’

ভাষাসৈনিক হামিদা রহমান কোনো পদক পাননি। ফেব্রুয়ারি মাসেও তাঁকে নিয়ে কোনো আলোচনা হয় না। তবে তাঁর নামে যশোর মাইকেল মধুসূদন কলেজে কয়েক বছর আগে একটি ছাত্রী হলের নাম রাখা হয়েছে। কিন্তু কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাঁর সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না। এ জন্য কলেজের প্রাক্তন ছাত্র দৈনিক জনতার সম্পাদক আহসান উল্লাহ ঢাকা থেকে এসে গত ডিসেম্বর মাসে কলেজ কর্তৃপক্ষকে হামিদা রহমানের লেখা ‘জীবন স্মৃতি’ গ্রন্থটি উপহার দিয়ে গিয়েছেন। এখন অনেকেই সেই গ্রন্থটি পড়ে হামিদা রহমানকে জানার চেষ্টা করছেন।

 

হামিদা খালাকে দূর থেকে দেখতাম

সাংবাদিক আহসান উল্লাহ (দৈনিক জনতার সম্পাদক। তাঁর শৈশব কেটেছে যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকায়। এমএম কলেজের পুরনো ভবনের সামনেই ছিল তাঁর সত্মার বাড়ি। হামিদা রহমানের বাড়িও ছিল কাছে। একতলা টিনের বাড়ি)।

হামিদা খালাকে খুব রাগী মনে হতো। ভয়ে কথা বলতাম না। দূর থেকে দেখতাম শাড়ি পরে বুকে বই নিয়ে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন। খালার দুই বোন মহুয়া আর শিরিন ছিল আমার সমবয়সী। তাঁদের দুই ভাই চারু ও পারু একাত্তরে শহীদ হন। ভাষা আন্দোলনে হামিদা খালার ভূমিকার কথা আমি বড় হয়ে জেনেছি। ঢাকার নীলক্ষেতে আমি একবার হামিদা খালার ‘জীবন স্মৃতি’ বইটা দেখতে পাই। ১০ টাকা দিয়ে কিনেও নিয়েছিলাম। নওরোজ কিতাবিস্তান ১৯৯০ সালে বইটি প্রকাশ করে। বইটি পড়ে হামিদা খালার প্রতি আমার শ্রদ্ধা বেড়ে যায়। ১৯৯৩ সালে আমি হামিদা খালার সঙ্গে তাঁর ঢাকার ধানমণ্ডির বাসায় দেখা করি। আমি তখন যশোর সমিতি ঢাকার ‘সাগরদাড়ি’ সাময়িকীর সম্পাদক। একটি লেখার কথা ভেবেই তাঁর কাছে গিয়েছিলাম। তিনি তাঁর ভাষা আন্দোলন, সংগ্রামীজীবন, শিক্ষাজীবনসহ আরো সব বিষয় নিয়ে একটি লেখা তৈরি করে দেন।

 

গুপি আপার আঁচলে ইটের টুকরা থাকত

ভাষাসৈনিক বিমল রায় চৌধুরী (৯৩ বছর বয়স বিমল চৌধুরীর। শহরতলীর বিরামপুরের এক সম্পন্ন পরিবারের সন্তান। এখন থাকেন শহরের বেজপাড়ায়। ১৯৪৮ সালে ছাত্র ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভাষার জন্য লড়াই করেছেন। তিনি তেভাগা আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন)।

১৯৪৭ সালে যশোর এমএম কলেজের প্রথম ছাত্রী আমাদের গুপি আপা (হামিদা রহমান)। ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ দাবিতে পত্রিকায় চিঠি লিখেছিলেন। তাঁর শাড়ির আঁচলে ইটের টুকরো থাকত। আমরা সেই ইট পুলিশকে ছুড়ে মারতাম। তিনি খুব সাহসী ছিলেন। তাঁকে থানার বড় বাবুও ভয় পেতেন। আমরা যশোরের ছাত্র-জনতা বাংলা ভাষার জন্য ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ধর্মঘট করেছি। যশোরের ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল একটি সফল আন্দোলন। আর এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন গুপি আপা।

আটচল্লিশ সালের জানুয়ারি মাসে যশোরের ছাত্রনেতারা ভাষার দাবিতে একটি বিবৃতি প্রচার করেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি শহরের চুড়িপট্টি এলাকার আলমগীর সিদ্দিকীর বাসায় এক জরুরি সভা হয়। ওই সভায় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ১৫-২০ জন ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সমাবেশ থেকে গঠন করা হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। এর যুগ্ম আহ্বায়ক হন আলমগীর সিদ্দিকী ও হামিদা রহমান, সভাপতি ছিলেন ডা. জীবন রতন ধর। এরপর ২ মার্চ এমএম কলেজে পূর্ণ ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। কিন্তু মোমিন গার্লস স্কুলের ছাত্রীদের ধর্মঘটে যোগ দিতে দেয়নি ওই স্কুলের ছাত্রী ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটের মেয়ে। তখন অগ্নিমূর্তি ধারণ করে ছুটে আসেন গুপি আপা। তিনি কোমরে কাপড় বেঁধে স্কুলে ঢুকে ডিসির মেয়েকে চুলের মুঠি ধরে ক্লাস থেকে বের করে আনেন। কিল-ঘুষিও দেন। গুপি আপার কারণেই মোমিন গার্লস স্কুলের ছাত্রীরা ধর্মঘটে যোগ দিতে পেরেছিল। ১১ মার্চ পূর্ববঙ্গে ঢাকার রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ধর্মঘট আহ্বান করলে আমরাও ওই দিন যশোরে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিই। ১০ মার্চ পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে। ১১ মার্চ আমরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করি। পুলিশ আমাদের ২০ সহযোদ্ধাকে আটক করে। ১৩ মার্চ সকালে আমরা মিছিল বের করি। বিশাল সেই ছাত্র-জনতার মিছিল কালেক্টরেট অফিসের দিকে এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে ছাত্র-জনতা ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটের অফিস ভাঙচুর করে। পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। লাঠিচার্জও করে। শতাধিক ছাত্র-জনতা আহত হয়। আহত হন নেতা আলমগীর সিদ্দিকী। পরের দিন ১৪ মার্চ শহরে হরতাল পালিত হয়। ১৮ মার্চ পালিত হয় বন্দি মুক্তি দিবস। যশোরের খবর ঢাকায় পৌঁছে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক ছাত্র এসে আমাদের আন্দোলনে যোগ দেন।

 

ফুফুর সঙ্গে শহীদ মিনার গিয়েছি

মোস্তফা আরিফ রহমান (হামিদা রহমানের ভাতিজা আরিফ। বয়স ৪০। বসবাস করেন হামিদা রহমানের বাড়িতেই)।

আমার তখন ১০-১১ বছর বয়স। ফুফুু আমাকে নিয়ে ঢাকায় গিয়েছেন। আমার হাত ধরে শহীদ মিনারে নিয়ে গিয়ে বলেছেন, এই শহীদ মিনার আমাদের। আমরাই বুকের রক্ত দিয়ে তৈরি করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরিয়ে দেখাতে দেখাতে ভাষা আন্দোলনের গল্প শুনিয়েছেন। এমএম কলেজের একটি হলের নাম রাখা হয়েছে তাঁর নামে। সহজে হয়নি। অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। আমাদের আরো দাবি, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে যে রাস্তাটি পুরাতন কসবায় গেছে ফুফুর (হামিদা রহমান) নামে তার নাম রাখা হোক।

 

মনে হয় আমিই হামিদা

কথা আর কণ্ঠ (হামিদা রহমানের নাতনি। মোস্তফা আরিফ রহমানের যমজ মেয়ে। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী)।

দাদি আমাদের স্কুলে লেখাপড়া করেছেন। মা-বাবার কাছে দাদির অনেক গল্প শুনেছি। স্কুলের বান্ধবীদের কাছে সে গল্প বলেছি। তিনি আমাদের সাহসের দাদি। বাংলা ভাষার সংগ্রামী সৈনিক। আমরাও তাঁর মতো হতে চাই।


মন্তব্য