kalerkantho


নতুন দিগন্ত

চার তরুণের ইমেগো

স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি ‘ইমেগো’। চার তরুণ মিলে গড়ে তুলেছেন এ প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে ক্রিকেটার মাহমুদুল্লাহ, গলফার সিদ্দিকুর রহমানসহ আরো কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়ের এক্সক্লুসিভ এজেন্ট হয়েছে ইমেগো। লিখেছেন আতিফ আতাউর

২০ আগস্ট, ২০১৬ ০০:০০



চার তরুণের ইমেগো

ইমেগো স্পোর্টসের ওয়েবপেইজ

ক্রীড়া সাংবাদিকতার সঙ্গে অনেক দিন ধরেই জড়িত আহমেদ রাকিব। বিভিন্ন দেশে বিশ্বকাপ অথবা আন্তর্জাতিক কোনো ম্যাচ কাভার করতে গিয়ে পরিচিত হন নামিদামি খেলেয়াড় ও ক্লাবের সঙ্গে। এসব ক্লাব ও খেলোয়াড়দের পেছনে বিভিন্ন এজেন্টের কাজ আকৃষ্ট করে রাকিবকে। একজন খেলোয়াড়কে বাইরে থেকে অন্য কেউ সাপোর্ট দিলে তাঁর জন্য মাঠের খেলা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। তা ছাড়া খেলোয়াড়দেরও প্রফেশনাল এজেন্ট থাকা দরকার। তাতে তাঁরা বিভিন্নভাবে উপকৃত হন। দেশে ফিরে একটি স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি গড়ার চিন্তাভাবনা শুরু করেন। দেখলেন অনেকেই এ রকম করছেন, তবে তাঁদের কাজটাকে পুরোপুরি স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট বলা যায় না। বেশ কয়েক বছর এটা ভাবনায়ই থেকে গেল। একদিন বন্ধু কাজী সাবিরকে ডেকে নিজের ভাবনাটা শেয়ার করেন। আমেরিকান এমবাসিতে কাজ করে আসা কাজী সাবিরের মনে ধরে রাকিবের ভাবনা। ছোটবেলা থেকেই খেলাপাগল। খেলা পারুন আর না পারুন তাঁর মাঠে থাকা চাই। বন্ধুর আইডিয়ার সঙ্গে নিজেরটা মিলিয়ে কাজে নেমে পড়েন। কাছের আরো দুই বন্ধু—তামজিদুল ইসলাম ও রেজওয়ান-উজ-জামানকে নিয়ে গড়ে তোলেন স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি ‘ইমেগো’। এই নামের ব্যাখ্যা দিলেন ইমেগোর প্রধান নির্বাহী আহমেদ রাকিব, ‘বিশ্বসেরা স্পোর্টস এজেন্সিগুলোর বেশির ভাগের নামই এক শব্দের। আমরাও এক শব্দের একটি নাম বেছে নিয়েছি। ইমেগো আসলে ইমেজ শব্দ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নেওয়া। যেকোনো কিছুর একটা পজিটিভ ইমেজ আমাদের মনে অন্য রকম প্রভাব ফেলে। সেই জায়গা থেকেই ইমেগো।’

ইমেগোর প্রথম সাফল্য কী? রাকিব ও সাবির দুজনেই বলেন, ‘আমাদের শুরুটা বেশি দিন হয়নি। আর বাংলাদেশে স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি ধারণাটাই নতুন। একটা কমপ্লিট স্পোর্টস এজেন্সি হিসেবে ২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে ইমেগো। এর আগে অন্যরা আলাদাভাবে কেউ ক্রিকেট, কেউ ফুটবল নিয়ে এজেন্সি করত। আমরা প্রথম এক্সক্লুসিভ এজেন্ট হই ক্রিকেটার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের। কিছুদিন আগেই তিনি বিশ্বকাপে পর পর দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। শুরুতে তাঁর এক্সক্লুসিভ এজেন্ট হওয়াটাই আমাদের জন্য বাড়তি পাওয়া ছিল। এ জন্য আমরা তাঁকে বিশেষ ধন্যবাদ দিতে চাই। কারণ একটা খেলোয়াড়ের এক্সক্লুসিভ এজেন্ট ধারণাটাই বাংলাদেশে প্রথম। তিনি একটা কম্পানির অধীনে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। তার সব পিআর (পাবলিক রিলেশন) এবং মিডিয়ার কাজ আমরা করব।’

ইমেগো কী কী কাজ করে? কাজী সাবির বলেন, ‘ইমেগোর সব কাজ খেলা নিয়ে। বিভিন্ন দলের স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট, বিদেশ থেকে খেলোয়াড় আনা, বিখ্যাত খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিভিন্ন করপোরেট কম্পানির চুক্তি, তাঁদের এক্সক্লুসিভ এজেন্ট, বিভিন্ন ক্লাবের স্পোর্টস পোর্টফোলিও করি আমরা। একই সঙ্গে আমরা যেসব খেলোয়াড়ের এক্সক্লুসিভ এজেন্ট, তাঁদের বিভিন্ন পরামর্শও দিয়ে থাকি। যেমন—কোনো ব্র্যান্ডের অ্যাম্বাসাডর হতে পরামর্শ দেওয়া। আবার তাঁদের বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে সহায়তা করে থাকি।’ এক বছরের মধ্যে স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি হিসেবে অনেকটাই গুছিয়ে এনেছেন ইমেগোকে। বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়ের এজেন্ট হয়েছেন। এর মধ্যে আছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তাজা, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, জাতীয় দলের ফুটবলার মামুনুল ইসলাম, গলফার সিদ্দিকুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে ক্রিকেট বোর্ডের অফিসিয়াল প্লেয়ার্স ম্যানেজমেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন; ইউনাইটেট স্টেট অব আমেরিকা, প্রাইম ব্যাংক, আড়ং ডেইরি, স্ক্যান সিমেন্ট, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, ভিটা মল্টের সঙ্গে কাজ করেছে ইমেগো। প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আয়োজিত একটি টুর্নামেন্টে মার্শা বার্নিকাট কিছুক্ষণ ব্যাটিং করেছিলেন। ছবিটা যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে টাঙানো আছে। এটাকে ইমেগোর একটি আনন্দময় অর্জন বলে মনে করেন কাজী সাবির। বর্তমানে ইমেগোর ব্যস্ততা সাবেক ক্রিকেটারদের নিয়ে। ‘মাস্টার্ড ক্রিকেট কার্নিভাল’ আসছে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর ম্যানেজমেন্ট দেখছে ইমেগো। এবার সেখানে ছয়টি টিমে সাবেক লিজেন্ড খেলোয়াড়েরা অংশ নিচ্ছেন।

আমেরিকান এমবাসিতে পাঁচ বছর চাকরি করেছেন কাজী সাবির। তারপর শুরু করেন ইমেগো। এ রকম একটা চ্যালেঞ্জিং কাজকে পেশা হিসেবে নিতে আপনার অনুপ্রেরণা কী ছিল? সাবির বলেন, ‘খেলাধুলার প্রতি টান তো ছিলই। পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করেছি। উদ্যোক্তা হওয়ার একটা ইচ্ছা আগে থেকেই ছিল মনে। এ কারণে রাকিবের আইডিয়ার সঙ্গে নিজেরটা যুক্ত করে কাজে নেমে পড়ি।’ তবে সিদ্ধান্তে আসতে তাঁকে পরিবার সাহায্য করেছে। ‘মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে চাকরি ছেড়ে এ ধরনের কাজে আসাটা অনেক কঠিন। কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। তবুও ঝুঁকিটা নিয়েছিলাম। এখন আমরা এই এক বছরে অনেকটাই এগিয়ে গেছি বলে মনে করি।’ বললেন কাজী সাবির। সাবিরসহ চার তরুণের চিন্তা এখন ইমেগোকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পৌঁছে দেওয়া।



মন্তব্য