kalerkantho


পর্দার পেছনে

দ্য মার্শিয়ান

সৈয়দ আশফাকুল হাসান   

২৪ অক্টোবর, ২০১৫ ০০:০০



দ্য মার্শিয়ান

ওয়াদি রামে ম্যাট ডেমন ও রিডলি স্কট

মঙ্গল নামের রক্তিম এই গ্রহ নিয়ে মানুষের আগ্রহ বহু দিনের। একে নিয়ে লেখা হয়েছে কল্পকাহিনী, নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র। তবে দ্য মার্শিয়ান নামের চলচ্চিত্রটি আগেরগুলোর চেয়ে আলাদা। আগের ছবিগুলোয় ভিনগ্রহের বাসিন্দাদের ব্যাপক ভূমিকা থাকত। দ্য মার্শিয়ান ছবিটায় বরং দেখানো হয়েছে, গ্রহটিতে একজন মানুষ আটকা পড়লে কিভাবে বেঁচে থাকবে। অ্যান্ডি উইয়ার দ্য মার্শিয়ান বই থেকে ছবির গল্প নেওয়া হয়েছে। ছবির গল্প যেমন রোমাঞ্চকর, ছবি তৈরির গল্পও কম যায় না।

গল্পটি এমন এক জায়গার, যা শুধু ছবিতেই দেখা সম্ভব। আর ছবিগুলো আছে কেবল নাসার কাছে। তাই নাসার সাহায্য ছাড়া ছবির পাত্রপাত্রীর হাঁটাচলা করা দুঃসাধ্য। নাসা কর্তৃপক্ষ গল্প শুনে আগ্রহ দেখিয়েছে এ কারণে যে তারাও প্রায় একই রকম গবেষণা চালাচ্ছে এখন। বিষয়টি হলো-মানুষ কিভাবে মঙ্গল গ্রহে জীবনধারণ করবে। তাই তারা সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। তথ্য ও উপাত্ত দিয়ে সাহায্য করা শুরু করে।

ছবিটির নির্মাণ শুরু হয় ২০১৪-র ২৪ নভেম্বর। হাঙ্গেরি ও জর্দানের ছয়টি জায়গা বেছে নেওয়া হয় লোকেশন হিসেবে। আর সেগুলো হলো-ওয়াদি রাম (জর্দান), বুদাপেস্ট (হাঙ্গেরি), কোর্ডা স্টুডিও ( হাঙ্গেরি), বুদারস এয়ারপোর্ট ( হাঙ্গেরি) এবং জর্দান ও হাঙ্গেরির আরো কিছু অংশ। সবচেয়ে বেশি চিত্রায়িত হয় কোরদা স্টুডিওতে।

 

স্টুডিওর নাম কোর্ডা

স্যার আলেকজান্ডার কোর্ডার নামে এর নামকরণ হয়। কোরদা ছিলেন হাঙ্গেরিতে জন্মগ্রহণকারী ব্রিটিশ প্রযোজক ও পরিচালক। ২০০৭ সালে এপ্রিলে স্টুডিওটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মোট ছয়টি স্টুডিও নির্মাণে খরচ হয়েছে ৯০ মিলিয়ন ডলার। এর সাউন্ড স্টেজটির আয়তন সাড়ে ৬৪ হাজার বর্গফুট। স্টুডিওটির ১০ হেক্টর জমিতে তিনটি সেট বসানো আছে। একটি নিউ ইয়র্কের, যেখানে আছে একটি মুভি থিয়েটার, রেস্টুরেন্ট, মালামাল খালাসের ডক এবং রিপেয়ার শপ। দ্বিতীয় সেটটি রেনেসাঁ যুগের, যেখানে আছে অনেক ভবন, যেমন-বেল টাওয়ার, ভ্যাটিকান, রোম প্যালেস, ফ্লোরেন্স ক্যাথেড্রাল, প্রিজন সেল ইত্যাদি। এ ছাড়া আছে উঠান, সদর দরজা ইত্যাদি। তৃতীয়টি হলো মধ্যযুগের একটি গ্রাম। এখানে ঘর-বাড়ি, দুর্গ, প্রাচীর ইত্যাদি আছে।

মি. আর্থার ম্যাক্স

দ্য মার্শিয়ানের প্রোডাকশন ডিজাইনার ছিলেন আর্থার ম্যাক্স। তিনি একবার নয়, দুবার একাডেমি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন-গ্ল্যাডিয়েটর এবং আমেরিকান গ্যাংস্টারের জন্য। মার্শিয়ানে হাত দিয়ে কি অভিজ্ঞতা পাচ্ছিলেন, বলেছেন আর্থার ম্যাক্স-এটা মূলত একটি ফিকশন ছবি। একই সঙ্গে অনেক অগ্রসর। এখানে সব কিছু হতে হবে আরো অনেক পরের। এক অর্থে তো এটি ভবিষ্যতেরই ছবি। আমি বেশি চিন্তায় পড়েছিলাম নেভিগেশন ল্যাব, এক্সপেরিমেন্ট ল্যাব আর সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রকৃতি নিয়ে। নাসার সহযোগিতা না পেলে গোটা কাজটা আরো বেশি কঠিন হয়ে যেত। নভোযান ওঠা-নামার সঙ্গে তার পারিপার্শ্বিক দৃশ্য ঠিক রাখা আবার সেটিকে কৃত্রিম মঞ্চের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ রাখা আর পরের দৃশ্যগুলোতেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা-যথেষ্টই জটিল কাজ। জর্দানের মরুভূমিতে শুরু হলো দৌড় আর থামল গিয়ে কোরদায়। ভাবুন তো, একটু বেচাল হতে রক্ষে থাকবে? নভোযান নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে শুরু করে মঙ্গল গ্রহের দৃশ্য পর্যন্ত কোনোটাই যেন মেকি না মনে হয়, তার জন্য প্রতি ইঞ্চিতে খেয়াল রাখতে হয়েছে। ছবিটির বেশ কিছু অংশ থ্রিডিতে ধারণ করা হয়েছে, তাই সাধারণের একটু বেশিই কষ্ট হচ্ছিল। ম্যাক্স আর্থারের জন্ম ১৯৪৭ সালে নিউ ইয়র্কে। ষাটের দশকে তিনি মঞ্চে লাইট ডিজাইনের কাজ করেছেন। পরে ইংল্যান্ড ও ইতালিতে স্থাপত্য বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। আশির দশকের মধ্যভাগে তিনি চলচ্চিত্রে আসেন।

 

রিডলি স্কট ও ওয়াদি রাম

স্যার রিডলি স্কট দ্য মার্শিয়ানের পরিচালক। নাসার ল্যাবগুলো ঘুরে দেখার পর তাঁর আগ্রহ বেড়ে গেল। জনসন স্পেস সেন্টার আর জেট প্রপালশন ল্যাব দেখেই তিনি প্রাথমিক মঞ্চ নকশা করতে লেগে যান। ওদিয়া রাম যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা নাসার মঙ্গলের ছবিগুলো দেখলেই বুঝতে পারেন, পৃথিবীতে মঙ্গলের মতো জায়গা ওই একটিই। ওয়াদি মানে উঁচু জায়গা। ওয়াদি রাম জর্দানের সবচেয়ে বড় ওয়াদি। জাবালিয়া বেদুইনরা এখানকার প্রধান বাসিন্দা। তারা ট্রেকার বা ক্লাইম্বারদের গাইড হিসেবে কাজ করে। ১৯৬২ সালে ডেভিড লিন এখানে লরেন্স অব আরাবিয়ার শুটিং করেন। তারপর ট্রান্সফরমারস, প্রমিথিউসসহ অনেক ছবির শুটিং হয়েছে।

 

এক নজরে মার্শিয়ান

* মূল গল্পটিকে বলা হয় 'বিজ্ঞানের প্রেমপত্র'।

* ছবিটি রিলিজ হওয়ার আগের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল নাসার অনুমতি।

* মোট ৭৫ দিন শুটিং হয়েছে।

* নায়ক ম্যাট ডেমনের পোশাক তৈরিতে সময় লেগেছে ১৫ দিন। খেটেছে ছয়জন কর্মী।

* ছবিতে আলু চাষের দৃশ্যটি স্টুডিওর ভেতরে নিয়মমাফিক করা।

* মুভিং পিকচার কম্পানি স্পেশাল এফেক্টের দায়িত্বে ছিল। তারা প্রায় ৪০০টি এফেক্ট তৈরি করে।

* রেড এপিক ড্রাগন, প্যানাভিশন প্রিমো, এঞ্জিনাক্স আর গো প্রো ক্যামেরা দিয়ে চিত্র ধারণ করা হয়েছে।

* ছবিটি তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

* ১৪১ মিনিটের ছবিটি অক্টোবরের ২ তারিখে মুক্তি পায়।

 



মন্তব্য