kalerkantho

আমপাঁচালি

ফখরে আলম   

৩০ মে, ২০১৫ ০০:০০



আমপাঁচালি

মোগল রমণীর আম পাড়া

আ-তে আম-শিশুপাঠ। আম ছালা সবই গেল-প্রবাদ। খনার বচনও আছে, আমে ধান, তেঁতুলে বাণ। 'ঝড়ের দিনে মামার বাড়ি আম কুড়াতে সুখ, পাকা আমের মধুর রসে রঙিন করি মুখ'-কবিতা (পল্লীকবি জসীমউদ্দীন)। আবার সুকুমার রায়ও কম যাননি-আম পাকে বৈশাখে, কুল পাকে ফাগুনে, কাঁচা ইট পাকা হয় পোড়ালে তা আগুনে। বোঝাই যাচ্ছে বাঙালি আমময়। ফলের রাজা আম আবার রাজার পছন্দের ফলও আম। কবি আমির খসরু চতুর্দশ শতাব্দীতে আমকে হিন্দুস্তানের সেরা ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রখ্যাত উদ্যানবিদ পোপেনো আমকে প্রাচ্যের ফলের রাজা আখ্যা দিয়েছেন। মোগল সম্রাট আকবর (১৫৫৬-১৬০৫) তাঁর শাসন আমলে ভারতের লাখবাগের দাঁড়ভাঙায় এক লাখ আমের চারা রোপণ করে একটি আধুনিক আমবাগান গড়ে তোলেন।

বাংলাদেশের আদি ফল ও ভারত উপমহাদেশের নিজস্ব ফল আম। চীনা পর্যটক হিউয়েন সং (৬৩২-৬৪৫) ভারতবর্ষ বেড়িয়ে আমের সুখ্যাতি করেছেন। জনশ্রুতি আছে, গৌতম বুদ্ধকে একটি আমবাগান উপহার দেওয়া হয়েছিল। যেন তিনি আমের ছায়ায় ঘুমাতে পারেন, বিশ্রাম নিতে পারেন। কবি রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রিয় শান্তিনিকেতনে নিজ হাতে আমের চারা লাগিয়েছেন। সংস্কৃতে এ ফলটির নামকরণ হয় আম। আমের অর্থ হচ্ছে রসদ। আমের বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাঙ্গিফেরা ইনডিকা। উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চল, মিয়ানমার ও মালয়েশিয়া। এখনো চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন ঝোপ-জঙ্গলে মাইলাম নামের এক ধরনের বুনো আম দেখা যায়। ২০১০ সালে আম বৃক্ষ বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষের মর্যাদা লাভ করে। এখন দেশের সর্বত্র আমের চাষ হয়। পরিসংখ্যান বিভাগের হিসাব মতে, দেশের ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়। আম গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য হচ্ছে, প্রতি হেক্টরে ৪.৫ টন আম উৎপাদন হয়। তাতে দেখা যায়, বছরে দেশে আম ফলে এক লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টন। দেশে মাথাপিছু আম উৎপাদনের পরিমাণ এক কেজির মতো। ভারতে মাথাপিছু ১১ কেজি, পাকিস্তানে ছয় কেজি, মেক্সিকোয় ৯ কেজি, ফিলিপাইনে ছয় কেজি, তানজানিয়ায় সাত কেজি, সুদানে সাড়ে পাঁচ কেজি, জায়ারে সাড়ে চার কেজি, হাইতিতে ৫৫ কেজি। আমাদের দেশে উন্নত জাতের আম হয় রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে।

হরেক জাত

শতাধিক জাতের আম পাওয়া যায় এখন বাংলাদেশে। কিছু আম উন্নত আর কিছু দেশি গুটি আম হিসেবে পরিচিত। উন্নত জাতের আমের মধ্যে রয়েছে ফজলি, আলফানসো, ল্যাংড়া, হিমসাগর, বোম্বাই, কৃষাণভোগ, গোপালভোগ, খিরসাপাত, মোহনভোগ, কোহিতুর, গোলাপখাস, আম্রপালি, মল্লিকা, গোবিন্দভোগ, সুরাট বোম্বাই, ক্ষীরমোহন, দাদাভোগ, আলমশাহী, জামাইপছন্দ, আশ্বিনা, জগৎমোহিনী, রানিভোগ, বাতাসা, রাজভোগ, লতা বোম্বাই ও চৌষা। এ ছাড়া মিশ্রিদানা, কালোপাহাড়, রাজলক্ষ্মী, গোল্লাছুট, স্বর্ণলতা, বউভোলানী, মিছরিমালা, মোহনবাসি, রাজভোগ, মধুকুলকুলি, হাঁড়িভাঙা, লক্ষ্মণভোগ, কালিদাসবাবু খায়, মাধুরী, আচাররাজ, ফালুয়া, বেগমবাহার, রত্না, লুবনা, মিক্সড স্পেশাল, বারি-৪, গৌড়মতি, সূর্যডিম, কমলাভোগ, বেলখাস, বিশ্বনাথ, বনখাসা, ভারতি, রাখালভোগ, নাকফজলি, মনোহারা, সিঁদুরে, গুটুলে, নিলাম্বরী, তোতামুখী, রস খাজা, তিলে বোম্বায়, আলতাবানু, সাহেব খাস, চম্পা, শীতলপাটি, দুধস্বর, উড়িআম, সিন্ধু, রত্না, মহানন্দা, বৃন্দাবনী, ছাটিয়াকরাসহ নানা জাতের টকমিষ্টি আম রয়েছে। পাকিস্তান থেকে আমাদের দেশে এসেছে আনোয়ার আতাউল, ফিলিপাইন থেকে এসেছে সুপার সুইট, থাইল্যান্ড থেকে বারোমাসি কাঁচামিঠা, ব্যানানা ম্যাংগো, মালয়েশিয়া থেকে এসেছে লুবনা, মিয়ানমার থেকে রাঙ্গু আই বুকসেলাই আম।

 

সেরা পাঁচ আম

ফজলি

রাজশাহী অঞ্চলের ফজলি আম খুবই বিখ্যাত। ৫০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি ওজনের ফজলির সঙ্গে ফজলি বিবির গল্প জড়িয়ে আছে। বাংলার স্বাধীন সুলতানদের ধ্বংসপ্রাপ্ত গৌড়ের একটি প্রাচীন কুটিতে ফজলি বিবি বাস করতেন। ওই বাড়ির আঙিনায় বড় একটি আমগাছ ছিল। ফজলি বিবি সেই আম দিয়ে ফকির-সন্ন্যাসীদের আপ্যায়ন করাতেন। ইংরেজ শাসনামলে মালদহের কালেক্টর র‌্যাভেনস অবকাশ যাপন করতে এসে ফজলি বিবির বাড়ির পাশে শিবির স্থাপন করেন। ফজলি বিবি তাঁর গাছের আম নিয়ে কালেক্টরের সঙ্গে দেখা করেন। আম খেয়ে র‌্যাভেনস মুগ্ধ হয়ে ফজলি বিবির নামে এর নামকরণ করেন ফজলি। আম গবেষণা কেন্দ্র গবেষণায় দেখেছে, এই আম গড়ে লম্বায় ১৩.৮ সে.মি. পাশে ৯.৫ সে.মি. উচ্চতায় ৭.৮ সে.মি. হয়। গড়ে ওজন হয় ৬৫৪.৪ গ্রাম। পাকা আমের ত্বকের রং সবুজ ও হালকা হলুদাভ। আঁশবিহীন রসালো সুগন্ধযুক্ত সুস্বাদু মিষ্টি এই আমের মিষ্টতার পরিমাণ ১৭.৫ শতাংশ। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে ফজলি আম পাকে। রাজশাহী অঞ্চলের ফজলি বিখ্যাত।

 

ল্যাংড়া

আকবরের প্রিয় ল্যাংড়া আম ভারতের দাঁড়াভাঙা থেকে এ দেশে চলে এসেছে। যশোর, সাতক্ষীরা অঞ্চলে বড় আকৃতির সাদাটে এই আম দাঁড়াভাঙা ল্যাংড়া নামেই পরিচিত। এর পাশাপাশি রাজশাহী অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে উন্নতজাতের ল্যাংড়া আম ফলে। উন্নত জাতের আমের মধ্যে ল্যাংড়া সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। ল্যাংড়ার আদি নিবাশ ভারতের বেনারস। এখানকার একজন ল্যাংড়া ফকিরের নামেই এর নামকরণ হয়। এই আমের খোসা পাতলা। আঁটি ছোট। শাঁস হলুদাভ, সুগন্ধি, সুস্বাদু, সুমিষ্ট ও আঁশবিহীন। গড়ে ৯.৭ সে.মি. লম্বা, ৭.৩ সে.মি. চওড়া ও ৫.২ সেমি উচ্চতার ল্যাংড়া আম দেখা যায়। এর গড় ওজন ৩১৪.১ গ্রাম। মিষ্টতার পরিমাণ ১৯.৭ শতাংশ। জ্যৈষ্ঠের শেষে এই আম পাকে। আষাঢ় মাসজুড়েই ল্যাংড়া আমের দেখা মেলে।

 

আলফানসো

পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ও জনপ্রিয় আম আলফানসো। ভারতে এক কেজি উন্নতমানের হিমসাগর বা ল্যাংড়া আমের দাম ২৫-৩০ রুপি। কিন্তু আলফানসোর কেজি ৪০০-৫০০ রুপি। ভারতের সবচেয়ে উন্নত জাতের আম হচ্ছে আলফানসো। ভারত বেশির ভাগ আলফানাসো আম বিদেশে রপ্তানি করে। গাছ হয় মাঝারি আকৃতির। ফল গোলাকার। পাকলে হলুদ হয়। শাঁসের রংও হলুদ। সুগন্ধি আর স্বাদের জন্য এই আম বিশ্ব বিখ্যাত। আমে কোনো আঁশ নেই। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও মহারাষ্ট্র, ব্যাঙ্গালুরুতে আলফানসো ফলে। ভারতের মহারাষ্ট্রের রত্নাগিরির আলফানসো সবার সেরা। স্থানীয়রা একে বলে 'কাকডি হাপুস'। এর অর্থ হচ্ছে কাগজের মতো পাতলা খোসা। পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের সুবিমল চন্দ্র দের বাগানে প্রচুর পরিমাণ আলফানসো ফলে। তিনি বলেছেন, 'পাকা আলফানসো হাতে এক মিনিট রাখার পর হাত সুগন্ধি হয়ে যায়।' এই প্রতিবেদক পাঁচ বছর আগে নিজ বাড়িতে ভারত থেকে সংগ্রহ করে একটি আলফানসোর চারা রোপণ করেন। দুই বছর ধরে চারাটিতে ফল ধরছে। স্বাদ ভারতের আলফানসোর মতোই। তাতে মনে হচ্ছে আমাদের দেশেও আলফানসোর চাষ করা যেতে পারে। এই আম বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। আলফানসো আষাঢ় মাসে পাকে।

 

আম্রপালি

ভারতের গবেষকরা পৃথিবীর বিস্ময়কর এক আম সৃষ্টি করেছেন। নাম আম্রপালি। ভারতের শ্রেষ্ঠ নর্তকীর নাম ছিল আম্রপালি। ১৯৭৮ সালে ভারতের আম গবেষকরা দশহোরি ও নিলাম-এই দুটি আমের মধ্যে সংকরায়ণের মাধ্যমে আম্রপালি আমের জাত উদ্ভাবন করেন। এই জাতের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রথমত আমাদের দেশের আবহাওয়ার কারণে উন্নত জাতের আম এক গাছে এক বছর ফলে পরের বছর ফলে না। কিন্তু আম্রপালি প্রতিবছর ফলে। এর মিষ্টতার পরিমাণ ল্যাংড়া বা হিমসাগরের চেয়ে বেশি। গাছ বামন আকৃতির। ফলনও বেশি। পাঁচ হাত দূরত্বে এক হেক্টর জমিতে এক হাজার ৫০০ আম্রপালির চারা রোপণ করা যায়। আমের আকার লম্বাটে। আষাঢ় মাসে পাকে। গড় মিষ্টতার পরিমাণ ২৩ শতাংশের বেশি। আঁটি সরু। সুস্বাদু আঁশবিহীন। ১৯৯০ সালে প্রথম আমাদের দেশে আম্রপালির চারা আসে। বর্তমানে দেশে ৩০ থেকে ৫০ টাকায় আম্রপালির চারা কিনতে পাওয়া যায়। যশোর, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা জেলায় আম্রপালির অনেক বড় বড় বাগান রয়েছে। এ ছাড়া পার্বত্য এলাকায়ও এখন প্রচুর পরিমাণে আম্রপালি চাষ হচ্ছে। প্রতি হেক্টরে ১৬ মেট্রিক টন আম্রপালি ফলে। আম্রপালি অনেকটা সবজির মতো। প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ সার দেওয়া প্রয়োজন। ১২-১৪ বছর বয়স হলে গাছ কেটে নতুন চারা লাগালে ভালো হয়। এর কারণ হচ্ছে, বয়সী আম্রপালি গাছের ফল ছোট হয় ও ফলন কমে যায়।

 

হিমসাগর

দেশের জনপ্রিয় আরেকটি আম হচ্ছে হিমসাগর। আকার অনেকটা ডিম্বাকৃতির। লম্বায় ৮.৭ সে.মি. পাশে ৭.১ সে.মি. উচ্চতায় ৬.৬ সে.মি. গড়ে এর আকার। গড় ওজন ২১৯ গ্রাম। ত্বকের রং সবুজাভ হলুদ ও মসৃণ। শাঁস গাঢ় হলুদ, সুগন্ধযুক্ত, সুস্বাদু, রসালো, আঁশবিহীন ও মিষ্টি। জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়ে হিমসাগর পাকে। যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা জেলায় প্রচুর পরিমাণে উন্নতজাতের হিমসাগর উৎপন্ন হয়।

 

অসময়ের আম

অগ্রহায়ণের শীতে একেবারে অসময়ে আব্বাস আলী বিশ্বাসের দুই হাত উঁচু একটি গাছে বেশ কয়েকটি আম ধরেছে। এর মধ্যে একটি আম পেকেও গেছে। যশোর শহরের খালধার রোড এলাকার আব্বাস আলীর সংগ্রহে অসময়ে ধরার বেশ কয়েকটি জাত রয়েছে। প্রায় ১২ মাসই তাঁর গাছে মুকুল, আমের গুটি, কাঁচা-পাকা আম দেখা যায়। অসময়ে আম ধরার মতো জাত এ দেশে অনেক আগে থেকেই ছিল। ত্রিফলা, বারোমাসি নামে পরিচিত ওইসব আমের গুণগত মান উন্নত না হওয়ায় তা জনপ্রিয় হতে পারেনি। কিন্তু এখন বিদেশ থেকে নতুন নতুন জাতের আগমন ঘটছে। এ জাতগুলো অনেকেরই আস্থা অর্জন করছে। কেউ কেউ অসময়ে আম ফলিয়ে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আম গবেষণা কেন্দ্রও অসময়ে আম ফলনের জাত উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা শুরু করেছে।

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আম ধরে বৈশাখ মাসে। পাকে জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে, পৌষ-মাঘ মাসেও গাছে আম পেকে রয়েছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, যশোরে আব্বাস আলীর সংগ্রহে রয়েছে বামন প্রজাতির 'মিঙ্ড স্পেশাল', 'রয়েল ফোর' ও 'থাইল্যান্ডের বারোমাসি আম'। মিঙ্ড স্পেশাল ও বারোমাসি গাছে আম ধরে রয়েছে। মিঙ্ড স্পেশালের একটি আম পেকে হলুদ হয়ে গেছে। কিন্তু গাছে গুটিও আছে। রয়েল ফোরের ডাল অনেকটা লাল রঙের। আমের রংও এমন। আব্বাস আলী বিশ্বাস বলেন, 'তিনি ভারত থেকে এই জাতগুলো সংগ্রহ করেছেন। যশোরের সার্কিট হাউসে একটি বামন আকৃতির আমগাছ রয়েছে। প্রায় সময় গাছটিতে ফল দেখা যায়। শহরের চাঁচড়া তেঁতুলতলা এলাকায় নাসিমা আলমের বাড়িতে 'ভাসতারা' নামের একটি আমগাছ রয়েছে। এ গাছটিতে মুকুল, গুটি, কাঁচা আম, পাকা আম একসঙ্গে দেখা যায়। গাছটিতে এখন মুকুল ও গুটি রয়েছে। তবে দেশের বিস্ময়কর আমগাছ রয়েছে কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার হাইওয়ে নার্সারিতে। অসময়ে ১২ মাসই এই গাছটিতে কাঁচা আম, পাকা আম পাওয়া যায়। নার্সারির মালিক রেজাউল মোস্তফা বর্তমানে প্রতি কেজি আম বিক্রি করছেন ৫০০ টাকা। গাছটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে-ঘড়ির কাঁটার মতো প্রতি মাসেই আম ধরে। এ কারণে অনেকে একে 'ক্লক ম্যাংগো' বলে থাকে। তবে এই জাতটির নাম হচ্ছে বারোমাসি লুগনা। এটি মালয়েশিয়ার একটি উন্নত জাতের আম। অসময়ে ফলে। পাকা আম খুবই মিষ্টি। রেজাউল মোস্তফা কালের কণ্ঠকে বলেন, '১৬ বছর আগে এই জাতটি আমি মালয়েশিয়া থেকে সংগ্রহ করি। এখন আমার এই জাতের ৩০টি বড় গাছ রয়েছে। অসময়ে প্রতি কেজি আম বিক্রি করি ৫০০ টাকায়। কলম বিক্রি করি ৪০০ টাকায়। গত বছর একটি গাছের আম আমি ৪৮ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। গাছটিতে সব সময়ই ফল থাকে। এখন কাঁচা আম, পাকা আম দুইই রয়েছে।' এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আম গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, 'দেশে দুবার-তিনবার ধরে এমন জাতের আম রয়েছে। অসময়ে যাতে আম ধরে এ জন্য আমরা গবেষণা শুরু করেছি। কিছু জাতও সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এসব আমের গুণগত মান ভালো না হওয়ায় ও কম ফলনের কারণে জাতগুলো জনপ্রিয় হতে পারেনি। আমরাও অসময়ের আম উদ্ভাবন করতে পারিনি।'

লেখক : বৃক্ষরোপণে দুবার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত

 

 



মন্তব্য