kalerkantho


বুড়িগঙ্গাতীর উদ্ধার অভিযান

আরো ২৫০ স্থাপনা উচ্ছেদ

চলমান অভিযানে এ পর্যন্ত ১৪৫০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



বুড়িগঙ্গা নদীর দুই পার দখলমুক্ত করার তৃতীয় ধাপের প্রথম দিন গতকাল মঙ্গলবার আড়াই শ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ)। এ নিয়ে চলমান অভিযানে ১৪৫০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলো।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বিআইডাব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন, বিআইডাব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রধান প্রকৌশলী অখিল কুমার বিশ্বাস, উপপরিচালক মিজানুর রহমান এবং সহকারী পরিচালক নুর হোসেনসহ পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। আরিফ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, অভিযান অব্যাহত থাকবে। পর্যায়ক্রম নদীর দুই পারের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

সরেজমিনে জানা গেছে, গতকাল থেকে উচ্ছেদকাজ শুরু করে বিআইডাব্লিউটিএ। কামরাঙ্গীর চর এলাকার ব্যাটারিঘাট থেকে শুরু করে লোহারপুলের পাশে শহীদনগর বালুঘাট পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিআইডাব্লিটিএর বুলডোজার একের পর অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেয়। উচ্ছেদ হওয়া স্থাপনার মধ্যে রয়েছে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের গুদাম, স্টিলের কারখানা, তিনতলা তারাবাতি (আতশবাজি) কারখানাসহ ছোট-বড় ২০-২৫টি কারখানা এবং কাঁচা-পাকা টিনশেড ঘরসহ শতাধিক বস্তিঘর।

ভুক্তভোগীরা উচ্ছেদ অভিযানের সময় কিছুটা বাধা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। তখন পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত হয়। দখলদারদের দাবি, তাদের জমির কাগজপত্র ঠিক আছে। কিছু দরিদ্র লোক তাদের বাসস্থানের বিকল্প ব্যবস্থার দাবি জানায়। তা না হলে তাদের খোলা আকাশের নিচে থাকতে হবে।

উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা নুর হোসেন, হাজি আলমাস, আলী আকবরসহ অনেকেই বলেন, উদ্ধার করা জায়গাগুলো ফেলে না রেখে দ্রুত সেখানে কোনো কিছু করা দরকার। না হলে ফের কয়েক দিন পর সে সব জায়গা ক্ষমতার দাপটে দখল হয়ে যাবে। কেউ কেউ বলেন, সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা উচিত।

এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীর পারে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। বুড়িগঙ্গার পারের সিকদার মেডিক্যাল কলেজও ভাঙা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির বৈধ কাগজপত্র থাকলে তাদের আমরা পরামর্শ দিব সরকারের কাছ থেকে অধিগ্রহণ করে জায়গা নিতে। না হলে আমরা আমাদের কাজ করে যাব।’



মন্তব্য