kalerkantho


ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোর লেন

নানা জটিলতা মহাসড়কে

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফোর লেনে রূপান্তর ছিল দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ১৯২ কিলোমিটার মহাসড়কের নির্মাণকাজ শেষ না হতেই দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা। কোথাও দেবে গেছে কয়েক কিলোমিটার সড়ক, কোথাও আবার সৃষ্টি হয়েছে পিচের স্তূপ।

মহাসড়কের ফোর লেনের কাজ শেষে উদ্বোধনের এক বছরের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে ওই সব জটিলতার কারণে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কখনো পিচের স্তূপ চেঁছে সমান করছে আবার কখনো দেবে যাওয়া অংশসহ গর্ত ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ করে যে লেনে হেভিওয়েট গাড়িগুলো বেশি চলাচল করে ওই লেনে গাড়ির চাকার সমান দেবে যাচ্ছে। আর ওই দেবে যাওয়া অংশের পাশেই পিচের স্তূপ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।

সরেজমিনে ঘুরে  দেখা গেছে, মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা কাঠেরপুল এলাকা থেকে দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় এ পর্যন্ত কয়েক দফা চাঁছাছোলার কাজ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবারও মহাসড়কের কাবিলা ও সৈয়দপুর এলাকায়  পিচের স্তূপ কেটে সমান করতে দেখা গেছে। আবার কোথাও দেবে যাওয়া অংশে কার্পেটিং চলছে।

তুলনামূলকভাবে ১৯৯৪ সালে নির্মিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পুরাতন দুই লেন এখন অনেকটাই মজবুত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। 

গাড়িচালক আলী আজ্জাম বলেন, ‘আমি ২৬ বছর ধরে এ সড়কে গাড়ি চালাই। মহাসড়কের দাউদকান্দি টোল প্লাজা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত

ফোর লেনের বর্ধিত অংশের বিভিন্ন স্থান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ব্রিজ ও স্টেশন এলাকায় তো গর্ত আছেই। এ ছাড়া যে অংশ দিয়ে যানবাহন লাইনে চলে ওই লেনে গাড়ির চাকার দাগে সমপরিমাণ স্থান দেবে সড়কের

পাশে পিচের স্তূপ হচ্ছে। আর ওই পিচের স্তূপে ধাক্কা লাগলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে।’

জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি টোলপ্লাজা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ১৯২ কিলোমিটার মহাসড়ক এলাকায় ফোর লেনে রূপান্তর কাজ শুরু হয় ২০১০ সালের জানুয়ারিতে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় দ্বিগুণ সময় নিয়ে ২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে মহাসড়কের নির্মাণকাজ শেষ হলে ২০১৬ সালের ২ জুলাই উন্নীতকরণ মহাসড়ক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। আর কাজ শেষ হওয়ার প্রায় এক বছর পর ২০১৭ সালের ৩০ জুন সড়ক ও জনপদ বিভাগের কাছে মহাসড়কের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন ফোর লেন প্রকল্প। কিন্তু ফোর লেন প্রকল্প থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কের ওই সব সমস্যায় বাড়তি চাপে রয়েছেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহাদ উল্লাহ বিভিন্ন ত্রুটির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ওভার লোডের গাড়িগুলো ডিভাইডারের পাশ ঘেঁষে সারিবদ্ধভাবে চলার কারণে দেবে গেছে। সেগুলো সংস্কারে আমাদের কাজ চলছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আরো গুরুত্ব সহকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করব।’



মন্তব্য