kalerkantho


‘২১ ফেব্রুয়ারি দো আবো লা গিট জাওগে উদগাও...’

ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



‘২১ ফেব্রুয়ারি দো আবো লা গিট জাওগে উদগাও...’

‘২১ ফেব্রুয়ারি হামনিকের চিরদিনকের প্রেরণা আর মুক্তি সংগ্রামকের উৎস। শহিদমানকের দিন আর আন্তর্জাতিক মায়কের ভাষাদিন ২০১৯ এখান অন্যমানকের ভাষা আর সংস্কৃতিকে সন্মানকারেক আন্তর্জাতিক পারাব।’ বাংলা শোনালেও ভাষাটি বাংলা নয়, আবার ভাষাটি দূরেরও নয়। এ দেশেরই কয়েকটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা, যার নাম সাদরী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন এবার জাতীয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর তিন ভাষায় অতিথিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ভাষা তিনটি হচ্ছে সাদরী, সাঁওতাল ও কোল।

আমন্ত্রণপত্রে প্রথমেই রয়েছে বাংলা। প্রথম বাক্যটি জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক লিখেছেন এভাবে, ‘সুধী, ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের চিরন্তন প্রেরণা ও মুক্তি সংগ্রামের উৎস।’ এ কথাটিই সাঁওতাল ভাষায় লেখা হয় এভাবে, ‘২১ ফেব্রুয়ারি দো আবো লা গিট জাওগে উদগাও আর বান কাও লারহাই রিয়াক বুমবুক।’ আর কোল ভাষায় এসেছে এ রকম, ‘২১ ফেব্রুয়ারি আবোয়া জাইজুগ নেনা পেরোনা আর ফারে কুরুমুতুনেনা ভুংকু।’ এভাবে পুরো আমন্ত্রণপত্রটিই পাঁচ ভাষায় লেখা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ কে এম তাজকির উদ জামান জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। তাদের ভাষাগুলো হারিয়ে যাওয়ার পথে। এসব ভাষাকে সাধারণ মানুষের মাঝে পরিচিত করতেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আমন্ত্রণপত্রে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সাদরী, সাঁওতাল ও কোল ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর নেতারা। নাচোল উপজেলা আদিবাসী একাডেমির সভাপতি যতিম হেমব্রম বলেন, নিজ নিজ সম্প্রদায়ের বাইরে এসব ভাষার চর্চা হয় না। এবার জেলা প্রশাসন এই তিন ভাষায় আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়ে এসব ভাষার সঙ্গে সবার পরিচিতি ঘটিয়েছে।



মন্তব্য