kalerkantho


দ্রুত বিচার দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



দ্রুত বিচার দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিতে গতকাল প্রতিবাদ সমাবেশ করে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি। ছবি : কালের কণ্ঠ

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ডের বিচার ত্বরান্বিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নেতারা। এমন দাবি জানিয়ে তদন্ত ও বিচার দ্রুত শেষ করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়েছে। 

গতকাল সোমবার সেগুনবাগিচার ডিআরইউ চত্বরে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে ডিআরইউ নেতারা। সমাবেশে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সভাপতিত্ব করেন। এ সময় ডিআরইউয়ের সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, মুরসালিন নোমানী, নির্বাহী সদস্য বাদল নূর, বিএফইউজের একাংশের মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ প্রমুখ বক্তব্য দেন। এ সময় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান ও ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ উপস্থিত ছিল।

ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে আমরা ব্যথিত, শোকাহত। আমরা দেখলাম সাত বছর ধরে এ ঘটনার শুধু তদন্তই চলছে। কত আন্দোলন-সংগ্রাম করলাম; কিন্তু লাভ হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘আন্দোলন করেছি, প্রয়োজনে যুগপৎ আন্দোলন। এ জন্য দরকার সাংবাদিকদের ঐক্য। অনৈক্যের কারণেই আমরা সাংবাদিক হত্যার বিচার পাচ্ছি না। প্রধানমন্ত্রীকে সুবিধাবাদীরা হয়তো বুঝিয়েছে, নইলে এত দিনে সাগর-রুনি হত্যার বিচার হতো।’

সাংবাদিক নেতারা স্মারকলিপি দিতে গেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে সরকার আন্তরিক। আমরা প্রতিনিয়ত এ বিষয়ে খোঁজখবর রাখছি। আশা রাখি, দ্রুত এর একটা সমাধানে পৌঁছতে পারব। খুনিরা দ্রুত ধরা পড়বে।’ এই দীর্ঘ সময়ে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় তিনি বিব্রত বলে জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাংবাদিক নেতারা বলেন, আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এবং প্রকৃত খুনিদের মুখোশ উন্মোচন করে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি যে তারিখ নির্ধারিত রয়েছে, সেই তারিখেই যেন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনি নিজ বাসায় খুন হন। পরে রুনির ভাই নওশের আলম রোমান রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত সাত বছরে আদালতের ধার্য করা ৬২টি তারিখেও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি।

আসকের উদ্বেগ : গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ ও র‌্যাব। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বারবার সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে বেশ কয়েকবার। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে কোনো ধরনের অগ্রগতি নেই। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মনে করে, এ নিকৃষ্টতম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।

আসক দ্রুততার সঙ্গে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান এবং বিচারপ্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দৃষ্টান্ত স্থাপনের দাবি জানাচ্ছে।



মন্তব্য