kalerkantho


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ২৩ ‘টাকার কুমির’

ব্যবস্থা নিতে দুদকের চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ২৩ ‘টাকার কুমির’

চাকরিতে নিয়োগ পেয়ে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে টাকার কুমির বনে গেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে ফ্ল্যাট, দামি গাড়ি, বাড়িসহ অঢেল সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার তথ্য-উপাত্ত পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযুক্ত এই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর থেকে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে দুর্নীতির আখড়া বানিয়েছেন সরকারের সেবাদান প্রতিষ্ঠানগুলোতে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জরুরি ভিত্তিতে ওই সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলির পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে দুদক। গতকাল বুধবার এসংক্রান্ত দুদকের সচিব মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরীর সই করা চিঠি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে। দুদকের পাঠানো ওই চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো, তা-ও দুদককে জানাতে অনুরোধ করা হয়।

চিঠিতে বদলি এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে যে ২৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কথা বলা হয়েছে তাঁরা হলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের সহকারী প্রধান (পরিসংখ্যানবিদ) মীর রায়হান আলী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফারুক হাসান, প্রধান সহকারী আশরাফুল ইসলাম, প্রধান সহকারী সাজেদুল করিম, উচ্চমান সহকারী তৈয়বুর রহমান, উচ্চমান সহকারী সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কার্যালয়ের প্রধান সহকারী ফয়জুর রহমান, প্রধান সহকারী মাহফুজুল হক, কম্পিউটার অপারেটর আজমল খান, ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, প্রধান সহকারী-কাম-হিসাবরক্ষক আব্দুল কুদ্দুস, সিলেটের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কার্যালয়ের প্রধান সহকারী নুরুল হক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা গিয়াস আহমেদ, উচ্চমান সহকারী আমান আহমেদ, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর নেছার আহমেদ চৌধুরী, খুলনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কার্যালয়ের ব্যক্তিগত সহকারী ফরিদ হোসেন, অফিস সহকারী মো. মাসুম, প্রধান সহকারী আনোয়ার হোসেন, বরিশাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. রাহাত খান, উচ্চমান সহকারী জুয়েল, রংপুর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী আজিজুর রহমান, স্টেনোগ্রাফার সাইফুল ইসলাম ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম।

দুদকের ওই চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনস্থ বিভিন্ন কার্যালয়ে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে চাকরি করায় দুর্নীতির শক্তিশালী বলয় তৈরি করেছেন, যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁরা অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। দুদকে তাঁদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে অনেক অভিযোগ জমা পড়েছে, যা আমাদের গোয়েন্দা ইউনিটের অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে।

অনুসন্ধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন দুদক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতির চিত্র দেখে তাঁরাও হতবাক। গুটিকয়েকজনকে বাদ দিলে বেশির ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীই দুর্নীতি করে কোটিপতি বনে গেছেন। কেউ কেউ ২০ থেকে ৫০ এবং ১০০ কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। শুধু নিজেরাই সম্পদশালী হননি, তাঁদের স্ত্রী, পুত্র, কন্যাসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নামেও সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

এর আগে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অন্তত এক ডজন বাড়ি ও ফ্ল্যাটসহ অঢেল সম্পদের মালিক বনে যাওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিক্যাল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী একই অধিদপ্তরের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার স্টেনোগ্রাফার রুবিনা খানমকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেয় দুদক।



মন্তব্য

Rumki commented 23 days ago
খাদ্য না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর???