kalerkantho


হত্যা, নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহের ১১ মামলা

খালেদা জিয়ার পরবর্তী হাজিরা ১৭ ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



হত্যা ও নাশকতার ১০ মামলা এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দায়ের করা অন্য এক মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হাজিরার তারিখ আবার পেছানো হয়েছে। গতকাল রবিবার খালেদা জিয়ার হাজিরার দিন ধার্য ছিল ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এ। কিন্তু মামলাগুলো হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত থাকায় বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ ধার্য করেছেন। রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়।

২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ীতে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা হামলায় ৩১ যাত্রী দগ্ধ ও জখম হয়। তাদের মধ্যে নূর আলম নামে একজনের মৃত্যু হয় চিকিৎসাধীন অবস্থায়। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইন এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা করা হয়। দণ্ডবিধিতে উদ্ভূত হত্যা মামলার তারিখ ধার্য ছিল গতকাল। এ ছাড়া একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার তারিখ ধার্য ছিল। রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের এক আলোচনাসভায় খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে বলা হয়, এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছেন। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে আসলে কত লক্ষ লোক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। নানা বই-কিতাবে নানা রকম তথ্য আছে।’ ওই বক্তব্যে ‘দেশদ্রোহী’ মনোভাবের পরিচয় রয়েছে অভিযোগ করে ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে খালেদার বিরুদ্ধে মামলা করেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী।

নাশকতার  ৯ মামলা : রাজধানীর দারুসসালাম থানায় ২০১৫ সালে করা ৯টি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয় গত বছরের বিভিন্ন সময়ে। ওই সব মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়ার পর মহানগর দায়রা আদালতে বিচারের জন্য স্থানান্তর করা হয়। এসব মামলায় খালেদা জিয়া জামিন নেওয়ার পর অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন তারিখে সময় নেওয়ার কারণে বারবার শুনানি পেছানো হয়। গত কয়েক মাসে বেশির ভাগ মামলা হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিত করা হয়। এসব মামলার হাজিরা ছিল গতকাল।

গত বছরের ৬ জানুয়ারি দারুসসালাম থানাধীন শাহ আলী মাজার রোডে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা গাড়ি ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা দেয়। এ ঘটনায় পুলিশের এসআই কামরুল হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। একই বছরের ২৯ জানুয়ারি একই থানার মিরপুর ১ নম্বর মুক্তি প্লাজার পূর্ব পাশের রাস্তার ওপর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এ ঘটনায় এসআই মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন একটি মামলা করেন। এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

একই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি একই থানার এপেক্স শোরুমের সামনে, ৩ ফেব্রুয়ারি একটি মিনিবাসে দারুসসালাম এলাকায়, ৪ ফেব্রুয়ারি হজরত শাহ আলী মাজারের খালি বালুমাঠের পূর্ব পাশে দুটি গাড়িতে, ২০ ফেব্রুয়ারি দিয়াবাড়ীতে, ৩ মার্চ গাবতলী বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় একটি মিনিবাসে, একই মাসে দারুসসালাম এলাকায় আরো দুটি স্থানে হামলার অভিযোগে করা মোট ৯টি মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।



মন্তব্য