kalerkantho


টুইট করে আলোচনায় জার্মান দূত

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমা কূটনীতিকরা যখন সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন, তখন অনেকটাই ব্যতিক্রম ঢাকায় জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ। নির্বাচন, শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরের লিংক টুইট করে নিজের মন্তব্য জুড়ে দিচ্ছেন। বিষয়টি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলেও আলোচনায় এসেছে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ও শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় গত শুক্রবার এক বার্তায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার বিজয়ে বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন জানানোর বিষয়ে একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেছেন। সজীব ওয়াজেদ জয় সেখানে লিখেছেন, অবিশ্বাস্য জয়ের জন্য বিশ্বনেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের ওই টুইট রিটুইট করে জার্মান রাষ্ট্রদূত গতকাল শনিবার লিখেছেন, ‘উত্তর কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও লেবানন।’

জার্মান রাষ্ট্রদূত গতকালই আরেকটি টুইট বার্তায় একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেছেন। এতে উল্লেখ রয়েছে, নির্বাচন নিয়ে সংলাপের দাবিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন। এ ছাড়া পরিবহন খাতে অনিয়মের ব্যাপারে নিয়মিত অভিযান চালাতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর নির্দেশনার তথ্যও রয়েছে ওই প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনটি শেয়ার করে জার্মান রাষ্ট্রদূত তাঁর টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘পরিবহন নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কিছু করা খুব ভালো। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো গণতান্ত্রিক দেশ অভিনন্দন জানিয়েছে?’

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুদিন পর ১ জানুয়ারি ইউরোপের ২৮টি দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি বিবৃতি দেয়। সেখানে নির্বাচনী অনিয়মগুলোর ব্যাপারে স্বচ্ছতার সঙ্গে যথাযথ তদন্ত করতে এ দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে আহ্বান জানানো হয়।

এর পরপরই জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিকবিষয়ক উপমহাপরিচালক পেট্রা সিগমুন্ড তাঁর টুইটারে ইইউর বিবৃতি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি ভালো। অনিয়মের অভিযোগগুলো সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত এবং সব পক্ষেরই সংঘাত থেকে বিরত থাকা উচিত। বাংলাদেশ গণতন্ত্রের দিকে অগ্রসর হবে এবং মৌলিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারকে সম্মান জানানো হবে—এটিই আমরা আশা ও সমর্থন করি।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভের সময় জার্মান রাষ্ট্রদূত এক টুইট বার্তায় শান্তিপূর্ণ ও ন্যায্য সমাধান দেখার প্রত্যাশা জানান। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দিতে কারখানা মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রদূত লেখেন, ‘আমি এই শ্রমিক সংঘাতের শান্তিপূর্ণ ও ন্যায্য সমাধানের পক্ষে।’

আরেক টুইট বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘আন্দোলনরত পোশাককর্মীদের দমনের চেষ্টা পুলিশের করা উচিত নয়। শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব কারাখানা মালিকদের। তাদের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ দিন। দুর্ঘটনা বীমা চালু করুন। এগুলোর জন্য সরকারকে সামনে এনে নিজেরা লুকাবেন না।’



মন্তব্য