kalerkantho


শক্ত অবস্থানে আ. লীগ, অগোছালো বিএনপি

লায়েকুজ্জামান, রাজবাড়ী থেকে   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



শক্ত অবস্থানে আ. লীগ, অগোছালো বিএনপি

স্বাধীনতার পর এ আসনে চারবার জিতেছে আওয়ামী লীগ, দুইবার বিএনপি, দুইবার জাতীয় পার্টি,  একবার জাসদ ও একবার জামায়াত। আসনটিতে আওয়ামী লীগ এখন  শক্তিশালী অবস্থানে, বিপরীতে অনেকটাই অগোছালো বিএনপি।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সারা দেশের যে কয়েকটি জায়গায় ব্যাপক মাত্রায় অত্যাচার, নির্যাতন, হামলা-মামলা ও লুটপাট হয় তার অন্যতম রাজবাড়ীর পাংশা ও বালিয়াকান্দি উপজেলা। সে সময়ের চাদ-সুরুজ-নেপাল বাহিনীর নির্যাতনের কথা এখনো এলাকার মানুষের মুখে মুখে। বিএনপি সে ক্ষত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ২০০১ সালের পর পাংশাতে চরমপন্থীদের ব্যাপক উত্থান ঘটে। চরমপন্থী সংগঠন মার্ক্সবাদী চর্চা কেন্দ্রের সামরিক শাখা পৈরাত সমিতির প্রধান নেতা ডা. বুলু ওরফে সাগরকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয় বিনা টেন্ডারে একাধিক ঠিকাদারি কাজ দিয়ে। এই পৈরাত সমিতির হাতেই খুন হয়েছিলেন পাংশা থানার ওসি মিজানুর রহমান।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এলাকায় চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার কারণে এলাকা থেকে চরমপন্থী প্রায় নির্মূল হয়ে যায় এবং আইন-শৃৃঙ্খলার উন্নতি ঘটে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ২০০১ সালের নির্যাতনের প্রতিশোধ নেয়নি। এতে লাভবান হয় আওয়ামী লীগ।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি জিল্লুল হাকিম। বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি নাসিরুল হক সাবু। জিল্লুল হাকিম রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, নির্বাচনী এলাকায় তিনি একক নেতা। এলাকায় আওয়ামী লীগ সংগঠিত। নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে একাট্টা।

অন্যদিকে তিন ভাগে বিভক্ত বিএনপি। এক ভাগে দলীয় প্রার্থী নাসিরুল হক সাবু, আরেক ভাগ নিয়ন্ত্রণ করেন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশিদ, অন্য ভাগে আছেন অ্যাডভোকেট আবদুর রাজ্জাক। বিএনপি তিনজনকেই মনোনয়নপত্র দিয়েছিল। অন্য দুজন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলেও চূড়ান্ত মনোনয়নপ্রাপ্ত নাসিরুল হক সাবুর পক্ষে তাঁরা কেউ এখনো মাঠে নামেননি। বিভক্তি আছে তৃণমূল পর্যন্ত। এখনো সংগঠিতভাবে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামতে পারেনি বিএনপির কর্মীরা।

তবে বিএনপি প্রার্থী নাসিরুল হক সাবু বলছেন ভিন্ন কথা। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ ও পুলিশি অ্যাকশনের কারণে তাঁর কর্মীরা মাঠে দাঁড়াতেই পারছে না। পুলিশ বিএনপির কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি করছে। নানা অজুহাতে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করছে। তিনি বলেন, ‘এলাকায় বিএনপির মধ্যে বিভক্তি নেই। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।’

আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিল্লুল হাকিম কালের কণ্ঠকে বলেন, গত ১০ বছরে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বিএনপির সময়ে এলাকায় কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখন সাধারণ মানুষ দুুই আমলের পার্থক্যটা বুঝতে পারছে। তিনি বলেন, ‘২০০১ সালের পর এলাকায় চরমভাবে অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে, আওয়ামী লীগের সময়ে আমরা প্রতিশোধ নেইনি। আবারও এলাকার মানুষ আওয়ামী লীগকেই বেছে নেবে।’

পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালী তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে রাজবাড়ী-২ আসন। একটি পৌরসভা ও ২৪টি ইউনিয়নে ভোটার চার লাখ ৬২ হাজার। নির্বাচন একেবারে দোরগোড়ায় এসে পৌঁছালেও এলাকার মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে তেমন উত্তাপ নেই। সাধারণ মানুষের মধ্যে সংশয় আছে নির্বাচন নিয়েও। নির্বাচনী এলাকার বালিয়াকান্দি উপজেলার নাড়ুয়া গ্রামের আশরাফ আলী বলেন, বিএনপির কর্মীরা তো ভোট চাইতে পারছে না। আওয়ামী লীগের লোকেরা তাদের বাধা দিচ্ছে। সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মনে হয় শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারে।’ 

পাংশা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা রাজনীত করি না, বুঝিও না। তবে শান্তিমতো ভোটটা দিতে চাই।’ 

পাংশা পৌরসভার মেয়র মাসুদ বিশ্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, বিএনপি প্রার্থী নাসিরুল হক সাবু বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দল করেছেন। বিএনপির কর্মীদের কাছেই তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নেই। আওয়ামী লীগ প্রার্থী জিল্লুল হাকিম একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি এলাকায় কাউকে চাকরি দিয়ে টাকা নেননি. টিআর কাবিখার ভাগ নেননি। নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি গ্রাম পর্যন্ত পাকা রাস্তা করেছেন। বিপদে আপদে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়ান। সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও তিনি বিপুল ভোটে পাস করবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিএনপি নেতা বলেন, দেশে যতই উন্নয়ন হোক মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারলে বিএনপিই জয়লাভ করবে। মানুষ টানা ১৫ বছর আওয়ামী লীগকে চাইবে না। মানুষ পরিবর্তন দেখতে চায়।



মন্তব্য