kalerkantho


জোটগত প্রতীক প্রদান

বিধি-নিষেধ জানতে নির্বাচন কমিশনে বিএনপির চিঠি

বিশেষ প্রতিনিধি   

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোকে ধানের শীষ প্রতীক প্রদানে কোনো বিধি-নিষেধ বা জটিলতা রয়েছে কি না তা জানতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে বিএনপি। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ নিয়ে জটিলতা এড়াতে ইসির নির্দেশনা চেয়ে এই চিঠি দিয়েছে দলটি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে একটি আসনে একাধিক প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হলে পরে চূড়ান্তভাবে একক প্রার্থী কিভাবে নির্ধারণ হবে এবং জোটের প্রার্থীর প্রতীক কিভাবে নির্ধারিত হবে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিব বরাবর পাঠানো ওই চিঠি গতকাল সোমবার ইসিতে পৌঁছে দেন বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বিজন কান্তি সরকার।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৩৯টি দলের প্রায় অর্ধেকই নিজেদের জোটের বড় শরিকের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী। ইসিকে আওয়ামী লীগ জানিয়েছে যে তারা নিজেরাসহ ১৬টি রাজনৈতিক দল নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়। অন্যদিকে বিএনপিসহ ১২টি নিবিন্ধত দল যৌথভাবে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছে। এর মধ্যে নিবন্ধন নেই একটি দলের।

কিন্তু গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১২(৩) (বি) ধারায় প্রাথমিক মনোনয়ন এবং ১৬(২) ধারায় চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়ে চিন্তায় পড়েছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি।

মির্জা ফখরুলের চিঠিতে বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্রের ফরম-২-এ ‘প্রাথমিক মনোনয়ন’ বলে কিছুর উল্লেখ নেই। এতে কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক ও চূড়ান্ত মনোনয়ন কিভাবে দেওয়া হবে তা স্পষ্ট করা দরকার। ২০ দলীয় জোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে আলাদাভাবে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে কি না, একটি আসনে দল বা জোটের একাধিক প্রার্থী প্রাথমিক মনোনয়ন নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর জোটগতভাবে একজনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হলে অন্যদের প্রার্থিতাও বৈধ থেকে যাবে কি না, চূড়ান্ত মনোনয়নের পর জোটের প্রার্থীদের প্রতীক কিভাবে নির্ধারণ হবে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, কোনো আসনে একই দলের একাধিক প্রার্থী প্রাথমিক মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে দলীয় সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক/সমপদমর্যাদার একজন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষরিত মনোনয়নের বিষয়ে প্রত্যয়ন থাকতে হবে মনোনয়ন ফরমের সঙ্গে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগে দল চূড়ান্ত মনোনীত একজনকে প্রত্যয়ন দেবে। সে ক্ষেত্রে বাকিরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাহারের তালিকায় চলে যাবেন। কিন্তু জোটভুক্ত অভিন্ন প্রতীক ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আসনে দুই দলের সম্মতিপত্র (যার প্রতীক ব্যবহার করবে এবং যে দল ব্যবহার করবে) রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগেই এ কাজ করতে হবে। প্রত্যাহারের সময় শেষে নির্বাচন কমিশন প্রতীক বরাদ্দ করবে।

এ বিষয়ে হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) বিষয়টি স্পষ্ট করা আছে। তবু এ বিষয়ে বিএনপির কাছে আইনি ব্যাখ্যা পাঠানো হবে।

প্রসঙ্গত, নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট একক প্রার্থী দিয়েছিল। কিন্তু অনেক আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় প্রধান দুই দলকে বিভিন্ন কারণে ‘ঝামেলায়’ পড়তে হয়। ২০০৮ সালের ওই নির্বাচনে মহাজোটের আওয়ামী লীগ ২৬৪ আসনে, জাতীয় পার্টি ৪৯ আসনে, জাসদ সাত আসনে, ওয়ার্কার্স পার্টি পাঁচ আসনে এবং চারদলীয় জোটের বিএনপি ২৬০ আসনে, জামায়াতে ইসলামী ৩৯ আসনে, বিজেপি দুই আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন ১৫১ জন। দলের মনোনয়ন না পেয়ে তাঁদের অনেকে যেমন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন, তেমনি মতবিরোধের কারণে মহাজোট ও চারদলীয় জোট বেশ কিছু আসনে একক প্রার্থী দিতে পারেনি।



মন্তব্য