kalerkantho


রোহিঙ্গা শিবিরে জগাখিচুড়ি অবস্থা

ব্যবস্থাপনায় এনজিও কর্মীরা, প্রশ্ন উদ্বেগ

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ব্যবস্থাপনায় এনজিও কর্মীরা, প্রশ্ন উদ্বেগ

ফাইল ছবি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রথম দফার উদ্যোগ আটকে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয়শিবিরগুলোর ব্যবস্থাপনায় জগাখিচুড়ি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পর্যাপ্ত জনবলের অভাবের সুযোগ নিয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) কর্মীরা রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে অনেকটা শাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এমনকি সরকারি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে এনজিওকর্মীরাই শিবিরের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করছেন। আর এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা শিবিরে গিয়ে দেখা গেছে, প্রত্যাবাসনের কাজ নিয়ে বিতর্কিত আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা খ্রিস্টিয়ান এইডের কর্মীরাই শিবিরটি তদারকে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানটির সমন্বয়কারীর পরিচয়ধারী লাইজু নামের এক নারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিবিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিআইসি) ছুটিতে রয়েছেন। তাই আমি শিবিরটি দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছি।’

সিআইসি উপসচিব শফিক উদ্দীনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ছুটিতে থাকার কথা জানিয়ে বলেন, ‘খ্রিস্টিয়ান এইড এনজিও শিবিরটির সাইট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে রয়েছে।’

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নিকারুজ্জামান এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একটি শিবির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীবিহীন থাকার কথা নয়। কেননা সিআইসি ছুটিতে থাকলে সহকারী সিআইসি অথবা অন্য কোনো সরকারি কর্মচারী থাকার কথা। কিন্তু এনজিওর হাতে পুরো শিবিরটি কিভাবে থাকবে?’ কক্সবাজারের অতিরিক্ত রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত আরআরআরসি) মো. শামসুদ্দৌজা বলেন, ‘শিবিরটিতে রবিবারের পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে আগামীকাল (আজ সোমবার) জানাব।’

অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের ২৫ আগস্টের পর অনুপ্রবেশ করা সাড়ে সাত লাখসহ ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে দেখভালের নামে এনজিওগুলোর কর্মীরা প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করে আসছেন। অথচ এ সময়ে শিবির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সরকারের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরতে উদ্বুদ্ধকরণে এগিয়ে আসেননি। শিবির ব্যবস্থাপনায় সরকারের অন্যান্য প্রশাসনের সঙ্গেও ব্যাপক সমন্বয়হীনতা লক্ষ করা গেছে।

একদিকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ১৪ মাস সময় ধরে এনজিওগুলো রোহিঙ্গাদের দেশে না ফিরতে উদ্বুদ্ধ করে আসছে, তদুপরি শিবির ব্যবস্থাপনায় সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবেই প্রত্যাবাসনের প্রাথমিক উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। নতুন করে কখন প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া শুরু হবে তা-ও বলা মুশকিল হয়ে পড়েছে।

এদিকে জামতলী রোহিঙ্গা শিবিরে খ্রিস্টিয়ান এইড এনজিওর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডসহ শিবিরে কর্মরত অন্যান্য এনজিওর কার্যক্রম নিয়ে গত ১৫ নভেম্বর কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ‘প্রত্যাবাসনবিরোধীদের হাতে ৩২ রোহিঙ্গা নিহত/রোহিঙ্গারা ফেরত যাক চায় না এনজিওগুলো’ শিরোনামের সংবাদটি নিয়ে তোলপাড় চলছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কালাম এ প্রসঙ্গে জানান, এনজিওগুলোর কার্যক্রম তদারকিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে খ্রিস্টিয়ান এইড নামের এনজিওটির বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তবে এনজিওটির সমন্বয়কারী লাইজু তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে হিরন ডেল নামের অপর একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার ২৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েও রোহিঙ্গা শিবিরে তোলপাড় চলছে। ওই সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অস্ট্রেলিয়ান এক নাগরিক ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে এখন অবস্থান করছেন কক্সবাজারে। সংস্থাটির অনুদান নিয়ে এত দিন খ্রিস্টিয়ান এইড আশ্রয়শিবিরে কাজ চালিয়ে আসছিল। কিন্তু কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর হিরন ডেল নামের এনজিওটি তাদের অনুদানের টাকা প্রত্যাহার করে কোস্ট নামের অপর একটি এনজিওর সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা শিবিরে রেডিও প্রচারণা খাতে এই বিপুল অঙ্কের টাকা ব্যয় করার কথা রয়েছে।



মন্তব্য