kalerkantho


গণগ্রন্থাগারে একক বইমেলা শুরু

জন্মদিনে শ্রদ্ধা ভালোবাসায় হুমায়ূনকে স্মরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও গাজীপুর   

১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জন্মদিনে শ্রদ্ধা ভালোবাসায় হুমায়ূনকে স্মরণ

শাহবাগ পাবলিক লাইব্রেরিতে শুরু হয়েছে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের একক গ্রন্থমেলা। লেখকের ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষে এ মেলার আয়োজন করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলা সাহিত্যের রাজপুত্র জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন ছিল গতকাল মঙ্গলবার। এ উপলক্ষে হুমায়ূনের বইয়ের প্রকাশক, পাঠক, অনুরাগী, বন্ধু ও সান্নিধ্যপ্রাপ্তদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় উদ্যাপিত হয়েছে দিনটি। তাঁর হাজারো ভক্ত-অনুরাগীর সমাগম ঘটেছে জন্মদিন উদ্‌যাপনের নানা আয়োজনে। প্রিয় লেখকের প্রতি হূদয়ের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানিয়েছে তারা।

সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিটে ধানমণ্ডির দখিন হাওয়ায় লেখকের বসার ঘরের টেবিলে রাখা ছিল জন্মদিনের কেক। কেক কাটেন লেখকের সহধর্মিণী মেহের আফরোজ শাওন এবং দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিত।

গণগ্রন্থাগারে হুমায়ূনকে নিবেদিত বইমেলা : হুমায়ূন আহমেদের বই প্রকাশনায় সংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে গতকাল বিকেলে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী হুমায়ূন আহমেদের একক বইমেলা। বিকেলে ৭০টি বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই আহসান হাবীব এবং হুমায়ূনপত্নী মেহের আফরোজ শাওন। বক্তব্য দেন জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ।

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, হুমায়ূন আহমেদ একা যে কাজ এ দেশের প্রকাশনাশিল্পের জন্য করেছেন, তা অন্যান্য দেশে শত লেখকও করতে পারেন না। নতুন পাঠকরা তাঁকে নতুন করে আবিষ্কার করবে এবং তাঁর জীবন ও সাহিত্যকে স্মরণ করবে।

আহসান হাবীব তাঁর বক্তব্যে হুমায়ূন আহমেদের বইগুলো নির্ভুল করে প্রকাশ করতে প্রকাশকদের প্রতি অনুরোধ করেন। মেহের আফরোজ শাওন বলেন, হুমায়ূন আহমেদের ৬০তম জন্মদিন থেকে এই আয়োজন হয়ে আসছে। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার পর এর পরিসর কমে আসছে। এটা তাঁর ভক্ত ও পরিবারের সদস্যদের জন্য পীড়াদায়ক। তিনি হুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মদিন বর্ণাঢ্যভাবে পালনের ঘোষণা দেন।

মেলায় হুমায়ূন আহমেদের বই প্রকাশ করা ১৭টি প্রকাশনা সংস্থা অংশ নিচ্ছে। এগুলো হলো—অনন্যা, অন্যপ্রকাশ, অনুপম, অন্বেষা, অবসর, আফসার ব্রাদার্স, কাকলী, জ্ঞানকোষ, তাম্রলিপি, পার্ল, প্রতীক, বাংলাপ্রকাশ, মাওলা ব্রাদার্স, শিখা, সময়, সাগর পাবলিশার্স ও সুবর্ণ। মেলা আগামী ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

চ্যানেল আইয়ে হুমায়ূন মেলা : হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘হুমায়ূন মেলা’। হেমন্তের সকালে হিমুপ্রেমীরা হলুদ পাঞ্জাবি পরে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে উপস্থিত থেকে হলুদ বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, রামেন্দু মজুমদার, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ, পরিচালক জহির উদ্দিন মাহমুদ মামুন ও মুকিত মজুমদার বাবু, কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলন, সাংবাদিক রেজানুর রহমান, প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম, ফরিদ আহমেদসহ বিভিন্ন অঙ্গনের হুমায়ূনভক্ত ও বিশিষ্টজনরা।

মেলার উন্মুক্ত মঞ্চ থেকে পরিবেশিত হয় হুমায়ূন আহমেদের লেখা গান। সংগীত পরিবেশন করেন ফকির আলমগীর, রফিকুল আলম, আকরামুল হক, চন্দনা মজুমদার, কিরণ চন্দ্র রায়, আগুন, সেলিম চৌধুরী, সেরাকণ্ঠ, ক্ষুদে গানরাজ ও বাংলার গানের শিল্পীরা।

হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে স্মৃতিকথায় অংশ নেন স্কয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, চলচ্চিত্র প্রযোজক এ কে এম জাহাঙ্গীর খান, প্রফেসর নূরজাহান সরকারসহ বিশিষ্টজনরা। অনুষ্ঠানে হিমু ও রূপারা কেক কেটে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উদ্‌যাপন করেন। গান ছাড়াও অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় নৃত্য। মেলায় ছিল হুমায়ূন আহমেদের বইসহ অন্যান্য সামগ্রীর স্টল। রংতুলির আঁচড়ে ছবি এঁকেছে শিশুশিল্পীরা।

জাদুঘরে সেমিনার : গতকাল জাতীয় জাদুঘর আয়োজন করে ‘হুমায়ূন সাহিত্যে বাঙালির জীবন ও সমাজ’ শীর্ষক সেমিনার। জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এই সেমিনারে সম্মানিত অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিসচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। মুম রহমানের মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন মেহের আফরোজ শাওন, অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম ও অভিনেতা ডা. এজাজ আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

শিল্পকলায় ‘দেবী’ মঞ্চস্থ : গতকাল সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘দেবী’। নাট্যদল বহুবচন প্রযোজিত হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে ইকবাল হোসেনের নাট্যরূপে দেবীর ১১৫তম মঞ্চায়ন হয়েছে।

নুহাশপল্লীতে আয়োজন : জন্মদিনে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিটে দুই হাজার ৫০০ মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন সকালে দুই ছেলে নিষাদ-নিনিতসহ স্বজন এবং ভক্তদের নিয়ে এখানে কেক কাটেন। এর আগে হুমায়ূন আহমেদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, কবর জিয়ারত ও আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

নুহাশপল্লীতে ভাস্কর আসাদ খান দিনব্যাপী একক শিল্পকর্মের প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। এ ছাড়া গাজীপুর জেলা শহর থেকে হিমু পরিবহনের ৩০ জনের দল গতকাল সকালে নুহাশপল্লীতে গিয়ে জনপ্রিয় ওই সাহিত্যিকের কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

ময়মনসিংহ থেকে আঞ্চলিক প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন। দিসবসটি উদ্‌যাপন উপলক্ষে গতকাল দুপুরে পৌর শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, কেক কাটা ও আলোচনাসভার আয়োজন করে স্থানীয় সংগঠন ‘কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ স্মৃতি পরিষদ’। আলোচনাসভা থেকে ভক্তরা গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনে হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য ‘হুমায়ূন চত্বর’ নির্মাণ এবং হুমায়ূন আহমেদের নামে একটি আন্ত নগর ট্রেনের নামকরণের দাবি জানান।

ফরিদপুর থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ফরিদপুরে নানা আয়োজনে হুমায়ূন আহমেদের জন্মবার্ষিকী পালিত হয়। গতকাল সকালে ‘উঠোন’ পত্রিকার উদ্যোগে শহরের টেপাখোলা এলাকায় অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে হুমায়ূন আহমেদ রচিত বই ও সিনেমার পোস্টার এবং আলোকচিত্রশিল্পী নাসির আলী মামুনের তোলা ছবির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।



মন্তব্য