kalerkantho


বুড়িগঙ্গা সেতুর টোল নিয়ে আন্দোলন

লুঙ্গি পরে অ্যাকশনে যে কারণে পুলিশ

শ্রমিক সোহেলের হত্যাকারীরা শনাক্ত হয়নি ১৩ দিনেও

রেজোয়ান বিশ্বাস   

৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পোস্তগোলায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতু টোলমুক্ত করার দাবিতে ২৬ অক্টোবর ট্রাকচালক-শ্রমিকদের আন্দোলন এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় লুঙ্গি পরে এক কনস্টেবলের অ্যাকশনে নামার ঘটনা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। পুলিশের পোশাক ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দায়িত্ব পালনের এমন ঘটনায় অনেকে সমালোচনাও করে। তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের সঙ্গে আলাপচারিতায় যে চিত্র উঠে এসেছে তা ভয়াবহ। এদিকে ওই দিন আন্দোলন-সংঘর্ষকালে পরিবহন শ্রমিক সোহেল নিহত হওয়ার ঘটনার রহস্য উন্মোচন হয়নি গত ১৩ দিনেও। এই হত্যার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত—জানা যায়নি তা-ও।

আন্দোলনের সময় লুঙ্গি পরে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিটি হলেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ কনস্টেবল মোহাম্মদ ইবাদত হোসেন। রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে সেদিনের ঘটনার আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন।

কনস্টেবল ইবাদত হোসেন বলেন, ‘বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতুর টোল বৃদ্ধি নিয়ে শ্রমিক আন্দোলনের কারণে পুরো এলাকা স্থবির হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা একসঙ্গে ১২ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্বে ছিলাম। পুলিশের পোশাকে সবাই সশস্ত্র অবস্থায়ই ছিলাম। একপর্যায়ে আমাকে একা পেয়ে মারতে মারতে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় আন্দোলনরত পরিবহন শ্রমিকরা। ওরা আমার শরীর থেকে পুলিশের পোশাক খুলে নেয়। আগ্নেয়াস্ত্র ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। বিবস্ত্র অবস্থায় রাস্তায় ফেলে ওরা আমার গলায় ছুরি ধরে। একই সঙ্গে চলতে থাকে কিল-ঘুষি ও লাথি। একপর্যায়ে আনসার সদস্যরা এগিয়ে এলে ওরা পালিয়ে যায়। আমাকে উদ্ধার করে নেওয়া হয় পাশের আনসার ক্যাম্পে। সেখানে লুঙ্গি পরে কিছুটা সুস্থ হই। এরপর সহকর্মীরা এগিয়ে এলে তাদের সঙ্গে লুঙ্গি পরেই প্রতিরোধে রাস্তায় নামি।’

ইবাদত হোসেন বলেন, ‘আমাকে নাজেহাল করার সময় কিছু শ্রমিকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। ধারালো ছুরি ছিল অনেকের হাতেই। শ্রমিকদের হাতে এসব অস্ত্র দেখে মনে হয়েছে, ওরা বহিরাগত। পুলিশকে আঘাত করতেই শ্রমিকরা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে।’

এদিকে ২৬ অক্টোবর সকালে আন্দোলনরত ট্রাকচালক-শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় গুলিতে সোহেল (৩০) নামের এক শ্রমিক নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হয় ৯ শ্রমিক। সোহেল পুলিশের নাকি অন্য কারো গুলিতে নিহত হয়েছেন তা শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করলেও পরিবারের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো মামলা করা হয়নি।

পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের গুলিতেই সোহেল নিহত হয়েছেন। হাসপাতালের ফরেনসিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, রাইফেলের গুলিতে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তবে পুলিশ বরাবরই দাবি করে আসছে, পুলিশের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়নি। তাঁকে পেছন থেকে কেউ গুলি করে হত্যা করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শফিউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, কনস্টেবল ইবাদতের পোশাক খুলে নিয়ে জবাই করতে চেয়েছিল আন্দোলনকারীদের মধ্যে থাকা দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলের আশপাশের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আর শ্রমিক আন্দোলন উসকে দিতে কারা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং সেই সঙ্গে একজন শ্রমিককে পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করে তা জানতে তদন্ত চলছে।



মন্তব্য