kalerkantho


হিউম্যানিটেরিয়ান ও স্পেশাল ডিসটিংকশন অ্যাওয়ার্ড ফর লিডারশিপ

প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদে প্রস্তাব গৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদে প্রস্তাব গৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ইন্টার প্রেস সার্ভিস নিউজ এজেন্সি, ইউএন কর্তৃক ‘হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাওয়ার্ড’ এবং গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন কর্তৃক ‘স্পেশাল ডিসটিংকশন অ্যাওয়ার্ড ফর লিডারশিপ’ সম্মাননায় ভূষিত হওয়ায় তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

এই প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা বিএনপি, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়াকে নিয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, জামায়াত ও তারেক রহমানের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন যে বক্তব্য দিয়েছেন তা জাতির সঙ্গে প্রতারণা। ফ্রন্টের কার্যক্রম ভণ্ডামি ছাড়া কিছুই নয়। শেখ হাসিনাকে সরিয়ে অপশক্তিকে ক্ষমতায় আনতেই নীতি-আদর্শহীন ষড়যন্ত্রের এই জোট। এই জোটকে নিয়ে সকর্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে সংসদ অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ বিধিতে প্রস্তাবটি আনেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নওগাঁ-২ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি শহীদুজ্জামান সরকার। তাঁর উত্থাপিত প্রস্তাবটি ছিল ‘সংসদের অভিমত এই যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক ও উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, দর্শন-চিন্তা দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ও সমাদৃত হচ্ছে। ফলে ইন্টার প্রেস সার্ভিস নিউজ এজেন্সি, ইউএন কর্তৃক ‘হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাওয়ার্ড’ এবং গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন কর্তৃক ‘স্পেশাল ডিসটিংকশন অ্যাওয়ার্ড ফর লিডারশিপ’ সম্মাননায় তাঁকে ভূষিত করা হয়েছে। এসব সম্মাননা অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলতর করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জাতীয় সংসদে বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে ধন্যবাদ জানানো হোক।’

সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শুধু আমাদের নেতা নন, তিনি বিশ্বের তিন-চারজন নেতার একজন। তাঁর সব ধ্যান-ধারণা কর্মকাণ্ড সবই জনকল্যাণে নিবেদিত। তাঁর অধীনে কাজ করা, তাঁর কাজে সহায়তা আমার জন্য অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য সৌভাগ্য।’

১০ বছরে সরকার অনেক উন্নয়ন করলেও এখনো তিন কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে আছে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের সুযোগ করে দেওয়া আমাদের কর্তব্য, রাষ্ট্রের প্রধান কর্তব্য। আমরা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একান্তই নিবেদিত। আপনারা যারা আবার আসবেন এটা মনে রাখবেন।’ তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাছে দোয়া চাই। আমার জীবনে যা করতে সক্ষম হয়েছি, তার প্রধান কারণ মানুষের দোয়া, মানুষের সমর্থন।’

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, যাঁরা ঐক্য করেছেন, তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি না। তারা স্বাধীনতার শক্তি না। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তাঁরা সহ্য করতে পারছেন না।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক বিশ্বের সম্মানিত ও মর্যাদাশীল নেতা। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বিশ্বের ইতিহাসে শেখ হাসিনার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

ঐক্যফ্রন্ট সম্পর্কে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ড. কামাল হোসেন বলেছেন, তিনি তারেক জিয়ার সঙ্গে ঐক্য করেননি, জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করেননি। যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সেই বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করে তিনি কী করে বলেন তারেক রহমানের সঙ্গে ঐক্য করেননি। স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে ঐক্য করে তিনি কী করতে চান, সেটা সবার কাছে স্পষ্ট। আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের স্বপ্ন পূরণ হবে না। সরকার থাকবে, সংসদ থাকবে, নির্বাচন কমিশনও নির্বাচন করবে। আর এই নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আবারও সরকার গঠন করবে।



মন্তব্য