kalerkantho


মায়ের সামনে ছেলে, ছেলের সামনে মায়ের মৃত্যু

নিরাপদ সড়ক দিবসে লাশের মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



মায়ের সামনে ছেলে, ছেলের সামনে মায়ের মৃত্যু

বান্দরবান-কেরানিরহাট সড়কের লালব্রিজ এলাকায় বাসের নিচে মোটরসাইকেল। গত রবিবারের এ ঘটনায় মৃত্যু হয় দুই শিক্ষার্থীর (বাঁয়ে); একই দিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মায়ের কোল থেকে পড়ে নিহত হয় শিশু নাবিলা। এ ছবি এখন শুধুই স্মৃতি। ছবি : কালের কণ্ঠ

গতকাল সোমবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা। সাময়ের পার্থক্য তিন ঘণ্টা। এর মধ্যে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তিনজন। প্রথম ঘটনায় মায়ের সামনে ছেলে ও দ্বিতীয় ঘটনায় ছেলের সামনে মা দুর্ঘটনার শিকার হন। গতকাল ছিল নিরাপদ সড়ক দিবস। এই দিবসে যেখানে গাড়ি সাবধানে চালানোর কথা, সেদিনই বেপরোয়া গাড়ি সারা দেশে কেড়ে নেয় আরো কিছু প্রাণ। এর মধ্যে চাঁদপুরে একই পরিবারের তিন সদস্য রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, গতকাল দুপুর ১টার দিকে যাত্রাবাড়ী মোড়ে মাকে নিয়ে রাস্তা পারাপারের সময় দুই ভাই সেলিম মিয়া দুই বাসের চাপা খেয়ে গুরুতর আহত হন। উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথেই সেলিম মিয়ার মৃত্যু হয়।

সেলিমের মা মনোয়ারা বেগম জানান, তিনি হার্টের সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসার জন্য ছেলে সেলিম মিয়া মাদারীপুরের শিবচরের আলেপুর গ্রাম থেকে তাঁকে ঢাকা নিয়ে আসেন। তাঁরা ঢাকা মেডিক্যালের দিকে যাচ্ছিলেন। যাত্রাবাড়ী মোড়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

দুই বাসের চাপার ওই ঘটনায় জুয়েল নামের একজন আহত হন। তাঁকে হাসপাতাল পর্যন্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। বিকেল ৫টার দিকে মারা যান। জুয়েল গাড়িচালক। বাড়ি বরিশালে। বাবা মতলব হাওলাদার। তিনি রাজধানীর দয়াগঞ্জ বটতলা মোড়ে দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন।

অন্যদিকে গতকাল বিকেল ৪টার দিকে যাত্রাবাড়ীর সাদ্দাম মার্কেটের সামনে বাসের ধাক্কায় ছেলের সামনে মা মোর্শেদা বেগম (৫০) গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোর্শেদার ছেলে গিয়াস উদ্দিন জানান, মাকে নিয়ে ১৫-১৬ দিন আগে তিনি গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সিদলাই গ্রাম থেকে বড় ভাই মহিউদ্দিনের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। গতকাল ভাবি ফাতেমা, দুই ভাতিজি তাসফিয়া (৮), মুসফিকা (৪) ও মাকে নিয়ে তিনি বাড়ি যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন। সাদ্দাম মার্কেট মেইন রোড এলাকা দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি যাত্রাবাহী বাস ধাক্কা দেয়। এতে মোর্শেদা এবং তাসফিয়া আহত হয়। উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোর্শেদাকে বিকেল পোনে ৬টায় মৃত ঘোষণা করেন। তাসফিয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, একটি দুর্ঘটনায় ট্রান্স সিলভা পরিবহনের দুটি বাস জব্দ ও এক চালককে আটক করা হয়েছে। চালকের লাইসেন্স পাওয়া যায়নি।

চাঁদপুর ও হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল ভোরে উপজেলার বাকিলা বাজারে সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন এলেম হোসেন (৫৫), তাঁর ছেলে ইকরাম হোসেন (২৮) ও আবু সুফিয়ান (৩৫)। তাঁদের বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক এলাকায়। বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপ ভ্যানের চাপায় তাঁরা মারা যান। একই সড়কে বাসচাপায় ফাতেমা বেগম (৭০) নামের এক পথচারী বৃদ্ধা গতকাল প্রাণ হারান। তিনি এলাকার মৃত ওয়ালী উল্লাহর স্ত্রী।

বান্দরবান থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, বান্দরবান-কেরানির হাট সড়কের লালব্রিজ এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন কলেজপড়ুয়া দুই যুবক। রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি উল্টে গেলে তাঁরা প্রাণ হারান। বান্দরবান সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, এর আগে মোটরসাইকেলটি সিগন্যাল অমান্য করে দ্রুতগতিতে রেইচা পুলিশ চেকপোস্ট অতিক্রম করে। এ সময় চালক বা সহযাত্রী কারো মাথায়ই হেলমেট ছিল না। নিহত সুমন তঞ্চঙ্গ্যা (২২) ও বনফুল তঞ্চঙ্গ্যা অভিজিৎ (২৪) বান্দরবান সরকারি কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বলে জানা গেছে।

এদিকে চাঁদপুরের আরেক শিশু এক বছরের নাবিলা গত রবিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার সামনে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির মায়ের নাম নাজমা বেগম। বাবা ইমরান হোসেন। গতকাল চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর গ্রামে নাবিলার লাশ দাফন করা হয়েছে।



মন্তব্য