kalerkantho


চট্টগ্রাম থেকে ২০১৯ সালে জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে ১২০০ মে.ও. বিদ্যুৎ

বোয়ালখালী ও মিরসরাইয়ে হবে আরপিসিএলের বড় দুই কেন্দ্র

মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম   

১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



চট্টগ্রাম থেকে ২০১৯ সালে জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে ১২০০ মে.ও. বিদ্যুৎ

চট্টগ্রামে স্থাপিত ও নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে চলতি বছরের শেষের দিকে ২৬৭ মেগাওয়াট এবং আগামী বছরে প্রায় এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এ ছাড়া সরকারের রুরাল পাওয়ার কম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) দেশব্যাপী দুই হাজার ৮৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের দীর্ঘমেয়াদি যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তাতে শুধু চট্টগ্রামে সম্ভাব্য দুটি কেন্দ্র থেকে উৎপাদন করা হবে দুই হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। আরপিসিএলের এ পরিকল্পনায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ৮০০ এবং মিরসরাইতে এক হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের দুটি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এ প্রকল্প দুটির প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ও পরিকল্পনা চলছে।

পিডিবি সূত্র জানায়, চলতি বছরে আগামী নভেম্বর মাসে চট্টগ্রামের জুলধা ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ১০৮ মেগাওয়াট, পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের বারাকা শিকলবাহা পাওয়ার লিমিটেড থেকে ১০৫ মেগাওয়াট এবং একই স্থানে জডিয়াক পাওয়ার চট্টগ্রাম লিমিটেড থেকে ৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

এ ছাড়া আগামী বছর জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে জুলধা ২ নম্বর ইউনিট থেকে ১০৮, শিকলবাহার কর্ণফুলী পাওয়ার থেকে ১১০, আনলিমা এনার্জি থেকে ১১৬ এবং ইউনাইটেড পাওয়ার থেকে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। উল্লিখিত এসব কেন্দ্র ছাড়াও ছোট ছোট আরো বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ চলছে। এসব কেন্দ্র উৎপাদনে গেলে নতুন কেন্দ্রগুলো থেকে ২০১৯ সালে প্রায় এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ  পাওয়া যাবে বলে জানান পিডিবি চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন।

অন্যদিকে আরপিসিএল কর্তৃপক্ষ জানায়, আরপিসিএলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জেলার বোয়ালখালী উপজেলার চর খিজিরপুর এলাকায় হবে গ্যাস বা এলএনজিনির্ভর ৮০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। সেখানে প্রায় ২৫ একর ভূমির ওপর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করা হবে। জাপান সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য পাঁচ হাজার ৮০০ কোটি টাকা প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে। কেন্দ্রটি স্থাপনের জন্য এরই মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষে প্রস্তাবিত ভূমির সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। 

আরপিসিএলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বৃহত্তর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি হচ্ছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। সেখানে এক হাজার ৮০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেবে চীন। কম্বাইন্ড সাইকেলের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মিরসরাইয়ের বিশেষ অর্থনৈতিক জোনে স্থাপন করা হচ্ছে।

আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর বলেন, দেশের ক্রমবিকাশমান শিল্পায়ন, বিভিন্ন স্থানে শিল্প জোন গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব শিল্প জোনে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে সরকার দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করছে। 



মন্তব্য