kalerkantho


মামলাজট কমাতে উদ্যোগ

আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ শুরু করেছে এনজেসিসি

রেজাউল করিম   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ শুরু করেছে এনজেসিসি

আদালতগুলোতে মামলাজট প্রকট। জাতিসংঘের জাস্টিস সেক্টর ফ্যাসিলিটি প্রজেক্ট (জেএসএফ) বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে কাজের অভিজ্ঞতায় জটের নেপথ্যের কারণগুলো খুঁজে বের করেছে। এর মধ্যে বিচার বিভাগের সঙ্গে অংশীদারদের যোগাযোগ, সমন্বয় ও সহযোগিতার অভাব অন্যতম। সমস্যাগুলোর সমাধানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে ন্যাশনাল জুডিশিয়াল কো-অর্ডিনেশন কমিটি (এনজেসিসি) বা (জাতীয় বিচারিক সমন্বয় কমিটি)। এই কমিটি এরই মধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, এনজেসিসির সদস্যদের গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে মাঠপর্যায়ে বিচার ও মামলা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো মনিটর করা হবে এবং জেলা পর্যায়ের অংশীদাররা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হবেন সেগুলো তাঁরা জাতীয় পর্যায়ে জানাবে। এনজেসিসির কাজ হলো মাঠপর্যায়ে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও সমস্যাগুলো সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করে ঝুলে থাকা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা। বিভিন্ন উন্নত দেশে এ রকম কমিটি কাজ করছে। সেগুলোর অভিজ্ঞতা নিয়ে এনজেসিসি কাজ করছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নেতৃত্বে এনজেসিসির সদস্য হিসেবে কাজ করবেন আইনসচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, আইন কমিশনের প্রতিনিধি, বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রসচিব, স্বাস্থ্যসচিব, অর্থসচিব, সলিসিটর, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি, পুলিশের আইজি, ডিআইজি প্রিজনস, জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার পরিচালক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং  মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি।

আইনমন্ত্রী কালের কণ্ঠকে বলেন, এনজেসিসি দেশের মামলাজট কমানোর জন্য একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। এই কমিটি সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে দেশে মামলাজট অনেকটা কমে আসবে। তিনি বলেন, ২০০৭ সালে উচ্চ নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আসে। কিন্তু দেখা যায় বহু মামলা জট বেঁধে আছে। এই জটের নেপথ্যে বেশ কিছু কারণ ছিল। সেসবের মধ্যে আদালতের অবকাঠামোগত সমস্যা, বিচারকের অপ্রতুলতার মতো বাধা সরকার দূর করতে পেরেছে। বিচারসংশ্লিষ্ট সংস্থা-পক্ষগুলোর সুষ্ঠু যোগাযোগ ও সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। পক্ষগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগের অভাবে মামলার নিষ্পত্তি পিছিয়ে যায়। আনিসুল হক বলেন, কমিটি বিচার বিভাগের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে পুরনো মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেবে। এই কমিটিতে অংশীদারদের মধ্য থেকে একজন করে প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) বিকাশ কুমার সাহা বলেন, এনজেসিসি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাজ্যের ক্রিমিনাল জাস্টিস বোর্ড, নেপালের জাস্টিস সেক্টর কো-অর্ডিনেশন কমিটি, ফিলিপিন্সের জাস্টিস সেক্টর কো-অর্ডিনেটিং কাউন্সিল ও নিউজিল্যান্ডের জাস্টিস সেক্টর লিডারশিপ বেকার্ডের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হয়েছে। কমিটি ২৭ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করেছে।

কমিটির কাজ কী হবে—এসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বিকাশ কুমার সাহা বলেন, বিচারাধীন অনেক আসামিকে নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ প্রতিবন্ধকতায় পড়ে। অনেক সময় একই আসামির নামে দেশের ভিন্ন ভিন্ন জেলায় মামলা থাকে। ভিন্ন ভিন্ন জেলার আদালতে বিচার চলায় আসামি হাজির করতেও সমস্যা হয়। আবার অনেক সময় বিচারকের অসুস্থতায় মামলার বিচারের তারিখ পরিবর্তন হয়। দেখা যায় অনেক ফৌজদারি মামলায় সাক্ষ্যের অভাবে বছরের পর বছর বিচার আটকে থাকে। আবার তদন্ত কর্মকর্তাও অনেক মামলায় সাক্ষ্য দিতে বছরের পর বছর সময় নেন। এসব কারণে অনেক মামলা এক দশক বা তারও বেশি সময় ধরে অনিষ্পন্ন রয়েছে। এনজেসিসি মূলত এসব বিষয় সমন্বয় ও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। প্রাথমিকভাবে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায়ও (এডিআর) মামলা জট কমানো সম্ভব।

প্রসঙ্গত, এনজেসিসি হলো আইন মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের যৌথ প্রকল্প। এটি পরিচালনার জন্য রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউিটে একটি কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।



মন্তব্য