kalerkantho


ঝড়ের কবলে পড়ে সাগরে নিখোঁজ ৯০

পাথরঘাটা (বরগুনা) ও শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



গভীর সমুদ্রে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারডুবির ঘটনার দুদিন পর ভাসমান অবস্থায় বরগুনা এলাকার ১১৩ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই এলাকার আরো ১৫ জন ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সাতটি ট্রলারসহ ৯০ জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছে। অন্যদিকে বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার দুটি ট্রলার ১৮ জেলেসহ এখনো নিখোঁজ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত গভীর সমুদ্রের ফেয়ারওয়ে বয়া, নারিকেলবাড়িয়া, দুবলাসহ একাধিক জায়গায় অন্তত ৯টি ট্রলার ডুবে যায়। ভাসমান অবস্থায় উদ্ধারের পর গতকাল শনিবার দুপুরে ১১৩ জেলেকে পাথরঘাটায় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন সংস্থায় (বিএফডিসি) আনা হয়। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে নিখোঁজদের মধ্যে আছে পাথরঘাটার জসিমের মালিকানাধীন এফবি মা ট্রলারের ১৭ জেলে, আলম মোল্লার এফবি মহসিন আউলিয়া-৫-এর ২২ জেলে, পনু আকনের এফবি সুজনের ১৭ জেলে, হারুন হাওলাদারের এফবি তানজিলা ট্রলারের ১১ জেলে, ছগির পহলানের এফবি আরমান ট্রলারের চার জেলে এবং মহিপুরের জাকিরের মালিকানাধীন এফবি জাহানারা ট্রলারের এক জেলে। এই পাঁচটি ট্রলার ও জেলেদের খোঁজ গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এফবি জাহানারা ট্রলারের ১৬ জেলের মধ্যে ১৫ জন ভারতীয় জলসীমায় ভাসতে দেখে ওই দেশের জেলেরা উদ্ধার করে কাকদ্বীপের পার্থপ্রতিম থানায় হস্তান্তর করেছে বলে ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রঞ্জন মণ্ডল নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধারকৃত জেলেদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসআই রঞ্জন মণ্ডলের তত্ত্বাবধানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, নিখোঁজ জেলেদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তাদের বাড়িতে চলছে আহাজারি। অনেকের স্বজনরা সমিতির কার্যালয়ে এসে খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছে।

কোস্ট গার্ডের পশ্চিম জোনের অপারেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট মাহমুদ আলী বলেন, সুন্দরবনের আউটপোস্টের সব ক্যাম্প থেকে বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে নেমে পড়েছেন।

সাগরে ঝড়ের কবলে পড়া বাগেরহাটের শরণখোলার দুটি ট্রলারসহ ১৮ জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নিখোঁজ জেলেদের পরিবার ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শরণখোলার মৎস্য ব্যবসায়ী বিলাশ রায় কালু জানান, ঝড়ে তাঁর এফবি সাগর-১, মালেক মোল্লার এফবি শাওন, তহিদুল তালুকদারের এফবি আজমীর শরীফ-১ ও ইউনুচ শিকদারের একটিসহ চারটি ট্রলার ৬০ জেলে নিয়ে নিখোঁজ হয়। এর মধ্যে ইউনুচ শিকদারের ট্রলার ও এর ১০ জেলের খোঁজ মেলেনি।

জাতীয় মৎস্য সমিতির শরণখোলা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, নিখোঁজ জেলেদের পরিবার ও স্বজনরা উৎকণ্ঠায় রয়েছে। মোংলা কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট জাদি আল হাসান জানান, নিখোঁজ জেলে ও ট্রলারের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন বাহিনীর সদস্যরা।



মন্তব্য