kalerkantho


চরভদ্রাসনে স্কুল মাঠে ১৪৪ ধারা

মঞ্চে উঠলেও জনসভা করেননি এমপি নিক্সন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সমর্থকদের নিয়ে স্কুল মাঠের মঞ্চে উঠলেও জনসভা করেননি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন। নির্ধারিত স্থান থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে চরভদ্রাসন সরকারি কলেজের মাঠে গিয়ে তিনি জনসভা করেন।

১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও গতকাল শনিবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে এমপি নিক্সন সমর্থকদের নিয়ে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী হাজিডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে পুলিশের বাধা অগ্রাহ্য করে মঞ্চে ওঠেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই মঞ্চে উঠলেও পরক্ষণেই তিনি নেমে যান। এরপর তিনি সমর্থকদের নিয়ে হেঁটে আনুমানিক এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চরভদ্রাসন সরকারি কলেজ মাঠে যান এবং সেখানে জনসভা করেন।

ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মুরাদ হোসেন, চরভদ্রাসনের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার মাস্টার ও আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা শাহজাহান মোল্লা।

ওই সভায় এমপির হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল জলিল ও তাঁদের সমর্থকরা।

ওই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মজিবুর রহমান বলেন, তিনি যখনই এ সংসদীয় এলাকায় কোনো সভার আয়োজন করেন তখনই প্রতিপক্ষের সমর্থকরা পাল্টা সভা ডেকে প্রশাসনের মাধ্যমে ১৪৪ ধারা জারি করিয়ে সভা পণ্ড করে দেয়। তিনি বলেন, ‘আমি ডিসির কাছ থেকে এ সভা করার অনুমতি নিয়েছি। তাহলে কেন ওইখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হলো?’

হাজিডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গতকাল বিকেল ৩টার দিকে কিছু ব্যক্তির এমপির সঙ্গে যোগ দেওয়া উপলক্ষে এক জনসভার আয়োজন করে এমপির সমর্থকরা। এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার সকালে মাইকিং করা হয়। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কাওসার ওই দিন বিকেলে ওই সভাস্থল থেকে দেড় শ মিটার দূরে তাঁর বাড়িতে দলের কর্মিসভা আহ্বান করেন। এ প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে জনসভাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। গতকাল সকাল থেকেই পুলিশ ওই জনসভাস্থল ঘিরে রাখে।

এদিকে গতকাল বিকেল ৩টার দিক থেকে এমপির সমর্থকরা উপজেলা সদরে খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করে। তারা পাল্টা সভা ডাকার জন্য আওয়ামী লীগ নেতা কাওসারের বিচার দাবি করে।

এমপির সমর্থক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলী মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগ কি এতই দেউলিয়া হয়ে গেছে যে দলের কর্মিসভা উপজেলা সদরে নিজস্ব কার্যালয় বাদ দিয়ে সম্পাদকের বাড়িতে আহ্বান করতে হবে!’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কাওসার বলেন, ‘যে স্কুলের মাঠে এমপির সভা আয়োজন করা হয়েছে, সেটি আমার বাড়ির এলাকার মধ্যে অবস্থিত। ওই স্কুল আমার বাবা করেছেন। ওই স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আমার ভাই। স্কুলের মাঠ বলে কিছু নেই, যা আছে তা আমাদের বাড়িরই অংশ। আমার বাড়ির ওপর যদি তিনি মিটিং না ডাকতেন তাহলে কোনো সমস্যা ছিল না। উনি এমপি হিসেবে আমার এলাকায়, আমার বাড়িতে আসতেই পারেন; কিন্তু আমার বাড়িতে কেন জনসভা করবেন?’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুন্নাহার বলেন, একই সময়ে দুটি পরস্পরবিরোধী দলের প্রায় স্বল্প দূরত্বে সমাবেশ আয়োজন করায় শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হতে পারে—এ শঙ্কায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।



মন্তব্য