kalerkantho


আবার রক্তাক্ত নানিয়ার চর

দল ছেড়ে ইউপিডিএফে আসায় দুজনকে গুলি করে হত্যা!

ফজলে এলাহী, রাঙামাটি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আবার রক্তাক্ত নানিয়ার চর

প্রতীকী ছবি

পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোর বিরোধের কারণে আবার রক্তাক্ত হলো রাঙামাটির নানিয়ার চর উপজেলা। এবার ‘দল ত্যাগ’ করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টে (ইউপিডিএফ) যোগ দেওয়ায় দুই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার রামসুপারিপাড়ায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

ইউপিডিএফ দাবি করেছে, সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) ত্যাগ করায় প্রতিশোধ নিতেই তারা ওই দুজনকে হত্যা করেছে। তবে সংস্কারপন্থী জনসংহতি সমিতি বলছে, ইউপিডিএফের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে তাঁরা খুন হয়েছেন।

নিহত দুজন হলেন রামসুপারিপাড়ার আকর্ষণ চাকমা (৪২) ও শ্যামল কান্তি চাকমা সুমন্ত (৩০)।

উল্লেখ্য, নানিয়ার চরে গত ছয় মাসে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) নেতা শক্তিমান চাকমা, ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা বর্মাও রয়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, কিছুদিন আগে আকর্ষণ ও শ্যামল ইউপিডিএফে যোগ দেন। তাঁরা রামসুপারিপাড়ায় সংগঠনটির ‘কালেক্টর’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে দাবি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্রের। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এক দল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁদের নিজ বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যা করে। শুক্রবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে।

ইউপিডিএফের স্থানীয় সংগঠক সচল চাকমা জানিয়েছেন, নিহত দুজনই সংস্কারবাদী হিসেবে পরিচিত জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-এমএন লারমা) ত্যাগ করে ইউপিডিএফে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

অন্যদিকে জেএসএসের (এমএন লারমা) মুখপাত্র ও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহতথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত চাকমা বলেন, ‘এই ঘটনায় আমাদের দূরতম কোনো সম্পর্কও নাই। ইউপিডিএফের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে ওই দুজনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। আমাদের ওপর দায় চাপানো তাদের অভ্যাস।’

ইউপিডিএফের নানিয়ার চর উপজেলার সংগঠক সচল চাকমা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সংস্কারবাদী জেএসএসের নানা দুর্নীতি-অনিয়ম ও জাতীয় স্বার্থপরিপন্থী কার্যকলাপের কথা জনসমক্ষে প্রকাশ করে দেওয়ার কারণে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আকর্ষণ ও শ্যামলকে হত্যা করা হয়েছে।’ তিনি অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নানিয়ার চর থানার ওসি আব্দুল লতিফ জানিয়েছেন, রামসুপারিপাড়ায় ইউপিডিএফের দুই কর্মীকে গুলি করে হত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ব্যাপারে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে তিনি জানান।

ইউপিডিএফের ‘উল্টো বিবৃতি’

হত্যাকাণ্ডের পর শুক্রবার সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সচল চাকমা দাবি করেছিলেন, ‘নিহতরা জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) ছেড়ে ইউপিডিএফে আশ্রয় নিয়েছিলেন।’ তিনি হত্যাকাণ্ডের জন্য জনসংহতির সংস্কারপন্থীদের দায়ী করে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছিলেন।

এর মাত্র আড়াই ঘণ্টা পর ১টা ২৬ মিনিটে পাঠানো আরেকটি বিবৃতিতে ‘নিহত উক্ত দুই ব্যক্তি ইউপিডিএফের সাথে যুক্ত নন’ দাবি করে সচল চাকমা বলেন, ‘তারা কয়েক মাস আগে সংস্কারবাদী জেএসএস ত্যাগ করে ইউপিডিএফের সাথে বোঝাপড়ার ভিত্তিতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে গ্রামে বসবাস করছিলেন।’ প্রতিশোধ নিতেই সংস্কারবাদীরা তাঁদের হত্যা করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।



মন্তব্য