kalerkantho


টাইম টিভিকে সিনহা

হুমকির মুখে দেশ ত্যাগে বাধ্য হই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা এবার নিউ ইয়র্ক থেকে সম্প্রচারিত টাইম টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বললেন, সরকারের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তাদের চাপ ও হুমকির মুখেই তিনি দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। ‘এ ব্রোকেন ড্রিম : রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক বইটি অনলাইনে প্রকাশ শেষে তুমুল আলোচনা শুরুর পর সিনহা এ সাক্ষাৎকার দেন।

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই সিনহা বলেন, ‘একটা হ-য-ব-র-ল অবস্থা। আমি কিছুই বুঝলাম না। ওয়াহাব মিয়া বলছেন যে তিনি সারারাত ঘুমাননি; অভিযোগগুলো নিয়ে অনেক চিন্তা করেছেন; অভিযোগগুলো সিরিয়াস। আমি বললাম, এসব কী অভিযোগ যে আমি জানলাম না। আমাকে রাষ্ট্রপতি জানালেন না। আর তোমরা আমার বিচার করবা? সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছো? প্রধান বিচারপতিকে যদি এত তাড়াতাড়ি সরানো যায়, এত তাড়াতাড়ি যদি সরকারের ফর্মুলা হয়ে যায়, তাহলে (বিচার বিভাগ) থাকবে? ওয়াহাব মিয়া কিছুই বলছেন না।’

সাবেক প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, ‘তাঁর সেক্রেটারি এসে তাঁকে বলেন, একজন কর্মকর্তা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। কর্মকর্তাটি এসে বললেন, স্যার আপনাকে লম্বা ছুটিতে যেতে হবে।’ সিনহা ‘হোয়াট’ বলে বিস্ময় প্রকাশ করলে কর্মকর্তাটি বলেন, ‘হাই অথরিটি থেকে আমাকে অর্ডার দেওয়া হয়েছে।’ এস কে সিনহা সাক্ষাৎকারে আরো বলেন, ‘এর মধ্যে আবার ডাক্তার আসলো। আমি বললাম আপনাদের তো ইনভাইটেশন দেই নাই। কেন এসেছেন? আমি আরো বললাম, আপনাদের কানে যে দেয়, ওইটা কোথায়? ব্লাড প্রেসার মাপে ওই যন্ত্র কোথায়?’

এস কে সিনহা টাইম টিভির এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমি ষোড়শ সংশোধনীর রায় দেওয়ার আগের দিন পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ ছিল না।’

এস কে সিনহা বলেন, উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা ৬ তারিখ এসে আবারও চাপ প্রয়োগ করেন। কর্মকর্তাটি তাঁকে বলেন, ‘স্যার, আপনার তো বিদেশ যাওয়ার কথা। আমাকে চার্জ করছে। স্যার আপনি হসপিটালে ভর্তি।’ তখন এস কে সিনহা বলেন, ‘হোয়াট? আমি কেন ভর্তি হব।’ কর্মকর্তাটি ‘স্যার আপনি অসুস্থ’ বললে সিনহা উত্তর দিলেন ‘আমি ভণ্ডামি করব না আপনার মতো। আপনি হয়ে করেন আমি তো ভণ্ডামি করব না।’

তখন কর্মকর্তাটি বলেন, ‘স্যার আপনি বিদেশ চলে যাচ্ছেন।’ আমি বললাম, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ না করে আমি যাব না। .........। কর্মকর্তাটি তখন বলেন, ‘স্যার প্রধানমন্ত্রী আপনার সাথে কথা বলবেন না।’

 



মন্তব্য