kalerkantho


‘ভুল’ পুলিশ ভেরিফিকেশন সাজা খাটছে নির্দোষী

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



‘ভুল’ পুলিশ ভেরিফিকেশন সাজা খাটছে নির্দোষী

ইনকোয়ারি স্লিপের মাধ্যমে যাচাই শেষে মামলার আসামির নাম-ঠিকানা নিশ্চিত করে পুলিশ। কিন্তু স্লিপে আসামির ছবি যুক্ত না থাকার সুযোগ নিয়ে অনেক অভিযুক্তই নিজের নাম-ঠিকানা ভুল দিচ্ছে। তা পুলিশ ভেরিফিকেশনেও ধরা পড়ছে না। ফলে মামলার বিচারে আসামির সাজা হলেও সেই সাজা ভোগ করতে হচ্ছে অন্যজনকে।

চট্টগ্রামের সদরঘাট থানায় এমন একটি ঘটনা ধরা পড়েছে। অস্ত্র মামলায় দণ্ডিত আসামি হিসেবে কারাগারে বন্দি অমর দাস নামের এক ব্যক্তি। অথচ প্রকৃত অপরাধী তাঁর চাচাতো ভাই স্বপন দাস। এই স্বপনই ২০০৪ সালে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের পর নিজের নাম অমর দাস বলে প্রকাশ করেছিল। সেই সূত্র ধরেই নিরীহ অমর দাস কারাভোগ করছেন। দুই মাস ধরে কারাভোগ করলেও আর্থিক অসংগতির কারণে তিনি উচ্চ আদালতে যেতে পারছেন না। আর সে কারণে মুক্তিও মিলছে না।

এর আগে ২০০৭ সালে কক্সবাজার জেলায় অপরাধ না করে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যেতে হয় এক প্রবাসী দম্পতিকে। ওই দম্পতি পরে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে দীর্ঘ কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তি পান। এরপরই ২০০৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছবিসহ ইনকোয়ারি স্লিপ তৈরির নির্দেশনা জারি করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই সিদ্ধান্ত আর বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বিজি প্রেসে ছাপা হওয়া পুলিশের ইনকোয়ারি স্লিপে আসামির ছবি যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়নি।

জানা যায়, ২০০৪ সালে র‌্যাব-৭-এর অভিযানে বন্দর নগরের ডবলমুরিং থানার সানাই সিনেমা হলের সামনে থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয় স্বপন দাসসহ পাঁচ সন্ত্রাসীকে। স্বপন নিজের নাম অমর দাস ও বাবার নাম রেবতি জলদাস উল্লেখ করে। সে অনুযায়ী অমর দাসের নামেই ডবলমুরিং থানায় আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা করে র‌্যাব। অমর দাস নামেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যায় স্বপন এবং পরবর্তী সময়ে আদালত থেকে জামিনে মুক্তিও পায়। এ মামলার বিচার শেষে আদালত আসামিকে ২২ বছরের সাজা দেন। জামিনের পর থেকেই ‘অমর’ পলাতক ছিল।

সদরঘাট থানার ওসি নেজাম উদ্দিন এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে জানান, অমরের বক্তব্য জানার পর এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করে পরবর্তী অনুসন্ধান চালিয়ে প্রকৃত আসামি স্বপনকে গত ১৪ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করে আদালতে সোপর্দ করি। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে স্বপন নাম-পরিচয় নিয়ে নিজের প্রতারণার কথা স্বীকার করে।

নেজাম উদ্দিন বলেন, ২২ বছর কারাদণ্ডের সাজা পরোয়ানা তামিল করার পরই ‘ভুল’ আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরপর প্রকৃত আসামি স্বপনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। অমর ও স্বপন বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। এদের মধ্যে অমর সাজা খাটছেন অস্ত্র মামলার কয়েদি হিসেবে। আর প্রতারণা মামলায় হাজতি বন্দি স্বপন।

ভুল আসামির সাজা বিষয়ে অতীতেও প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার। কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমি কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার পদে কর্মরত অবস্থায় সেখানে এ ধরনের একটি ঘটনা ২০০৭ সালে ধরা পড়েছিল। ওই ঘটনার পর ২০০৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি আদেশ জারি হয়েছিল, বিজি প্রেস থেকে ছাপানো পুলিশের ইনকোয়ারি স্লিপে আসামির ছবি যুক্ত করার বিষয়ে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি। ইনকোয়ারি স্লিপে আসামির ছবি যুক্ত করা হলে এ ধরনের ভুল হতো না।’

 

 

 



মন্তব্য