kalerkantho


আহমদ রফিকের জন্য ভালোবাসা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আহমদ রফিকের  জন্য ভালোবাসা

ভাষাসৈনিক আহমদ রফিকের ৯০তম জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল বাংলা একাডেমিতে স্মারকগ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বয়সের ভারে কিছুটা ন্যুব্জ হলেও প্রাণের উচ্ছ্বাসে তিনি সদা প্রফুল্ল। তারুণ্যে ভরপুর তাঁর হৃদয়-প্রাণ। ৯০ পেরিয়েও বরেণ্য ভাষাসংগ্রামী, গবেষক, কবি আহমদ রফিক জীবন্ত এক কিংবদন্তি। প্রথম যৌবনে যুক্ত হয়েছিলেন ভাষা আন্দোলনে, পরে অংশ নিয়েছিলেন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে। আন্দোলন-সংগ্রাম শুধু নয়, পাশাপাশি ক্ষুরধার লেখনীতে তুলে ধরেছেন বাঙালি জাতিসত্তার স্বরূপ। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, গবেষণাগ্রন্থ, কলামসহ নানা শাখায় তাঁর অবদান প্রশ্নাতীত। ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—তিন রাষ্ট্রের কালের সাক্ষী কিংবদন্তি আহমদ রফিকের ৯০তম জন্মদিন ছিল গত ১২ সেপ্টেম্বর। এ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমিতে জমকালো আনন্দানুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কথাপ্রকাশ। গান, নৃত্য, আলোচনা, স্মৃতিচারণা ও সম্মাননাগ্রন্থ প্রকাশের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানো হয় এই বহুপ্রজ গুণী মানুষের প্রতি।

ফুলে ফুলে সাজানো হয়েছিল বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তন। আলো ঝলমলে মঞ্চে প্রথমে শুরু হয় সমবেত নৃত্য। ‘আকাশ ভরা সূর্যতারা’ গানের সঙ্গে নেচে-গেয়ে এক দল শিল্পী ফুলেল শুভেচ্ছা জানান আহমদ রফিককে। পরে আহমদ রফিকের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। আয়োজনের মধ্যমণি আহমদ রফিক বসেছিলেন মঞ্চের মাঝখানে। জ্ঞান ও প্রজ্ঞার আলো যেন তাঁর পরিপূরক। তাঁর পাশে বসে আলো ছড়ান জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ভাষাসংগ্রামী ও প্রবীণ সাংবাদিক কামাল লোহানী, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। এ ছাড়া মঞ্চের সামনের সারিতে বসেছিলেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, গবেষক ও লেখক সৈয়দ আকরম হোসেন প্রমুখ।

বহুজনের ভালোবাসার জবাবে আহমদ রফিক বলেন, ‘সারা জীবন মানুষের সঙ্গে থাকতে চেয়েছি, মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছি। বিনিময়ে কিছুই প্রত্যাশা করিনি। তার পরও মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি, আমাকে তা আপ্লুত করেছে। যত দিন বাঁচব, মানুষের জন্যই কাজ করে যাব।’ মানুষের ঐক্যের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষে মানুষে ঐক্য বড় প্রয়োজন। হাতে হাত ধরে দেশের জন্য সবাই যদি কাজ করতে পারে, তবে দেশের যেমন উন্নয়ন হবে, তেমনি মানুষের মধ্যে বাড়বে মমত্ববোধ ও ভালোবাসা।’

আলোচনা পর্বের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী। পরে মানপত্র পাঠ করেন হাসান আরিফ। দ্বিতীয় পর্বে ছিল সম্মাননাগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন। পরে আলোচনা ও স্মৃতিচারণায় অংশ নেন অতিথিরা। এর আগে অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে শোনান শিল্পী রোকাইয়া হাসিনা।

 

 



মন্তব্য