kalerkantho


চতুর্থ টিকফা বৈঠক

শ্রম ইস্যুতে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



শ্রম ইস্যুতে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

চতুর্থ টিকফা বৈঠকে বাংলাদেশে শ্রম সংস্কার ইস্যুতে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াশিংটনে ওই বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) দপ্তর এ কথা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ফোরাম চুক্তির (টিকফা) আওতায় ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি (অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউএসটিআর) মার্ক লিন্সকট।

বৈঠকের আগেই ঢাকার কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৩ সালে স্থগিত হওয়া বাংলাদেশি পণ্যের ‘অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা’ (জিএসপি) বাংলাদেশ আর ফেরত চাইবে না। বাংলাদেশ মনে করে, ফিরে পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যেসব শর্ত দিয়েছিল সেগুলো ইতিমধ্যে পূরণ হয়েছে। এর পরও বাংলাদেশকে জিএসপি ফেরত না দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতের বৈঠকে বাংলাদেশ টিকফা চুক্তির বাস্তবায়ন দাবি করে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য সম্প্রসারণেরও অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে বালিতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ।

টিকফা বৈঠকে বাংলাদেশের নার্স ও ধাত্রীদের অন্যান্য সেবামূলক খাতে অংশ নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার আবেদন জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকারের নেওয়া বেশ কিছু উদ্যোগও বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে।

টিকফা বৈঠক শেষে ইউএসটিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বাংলাদেশের জিএসপি স্থগিত থাকার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়, শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে। ২০১৭ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৭২০ কোটি মার্কিন ডলার।

ইউএসটিআর বলছে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পণ্য ও সেবা খাতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে টিকফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশ টিকফার আওতায় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলার প্রবেশাধিকার সুবিধা, ডিজিটাল অর্থনীতিতে রূপান্তর, সরকারি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং শ্রম সংস্কারের মতো বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

বৈঠকে দুই দেশের সরকারই বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং এর পরিধি বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের শ্রম সংস্কার ইস্যুতে উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপত্তায় বেসরকারি খাতের সঙ্গে চলমান সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছে।



মন্তব্য