kalerkantho


ধলেশ্বরী দখলের তালিকায় সংসদ সদস্যের প্রতিষ্ঠান

হাইকোর্টে দাখিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



ধলেশ্বরী দখলের তালিকায় সংসদ সদস্যের প্রতিষ্ঠান

মানিকগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর জমি অবৈধভাবে দখলকারী তিন প্রতিষ্ঠান ও ৪৩ ব্যক্তির নামের তালিকা গতকাল সোমবার হাইকোর্টে দাখিল করেছে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এই তালিকায় সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্যের ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান মানিকগঞ্জ পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডও রয়েছে। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ তালিকা দাখিল করা হয়েছে। আদালত আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।

নদীর জমি দখল করে ‘মানিকগঞ্জ পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড’ নামের যে বিদ্যুেকন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে তার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে নির্বাচিত সরকারদলীয় সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী।  প্রতিষ্ঠানটি সাড়ে ১১ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘ডরিন পাওয়ার’। এ ছাড়া ‘জাগরণী চক্র’র পরিচালক আজাদুল কবির আরজু, ঢাকার বাড্ডার পেন্টা প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম আক্তারুজ্জামানের নাম রয়েছে তালিকায়।

জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী দখলকারীদের মধ্যে মানিকগঞ্জের সিংগাইরের ধল্লা ইউনিয়নের কামাল মিয়া, আবেদ আলী, সামছুল হক, বছিরন, ইব্রাহীম মিয়া, নোমাজ আলী, ইদ্রিস আলী, আছিয়া খাতুন, জুলফিকার, আব্দুল বারেক, কমর উদ্দিন, আব্দুল খালেক, রিয়াজ উদ্দিন, আনোয়ারা বেগম, আলী আকবর, সাহেদ আলী, সামছুদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, আব্দুল আলী, জিন্নাত আলী, আব্দুল জলিল, সুন্দর আলী, দেলোয়ার হোসেন, ঢাকার মোহাম্মদপুরের জিয়াউদ্দিন আহাম্মেদ, নিজাম উদ্দিন, বিজয়নগরের মনিরুল ইসলাম, লালমাটিয়ার রাকিবা আক্তার, সলিম, নিজামউদ্দিন, মনিরুল ইসলাম, মজিদ মোল্লা, আবদুল হক, মোস্তাক আহাম্মদ, শাকিল আহাম্মদ, তাহের মোল্লা, মোসলেম উদ্দিন, হাবিবুর রহমান, আব্বাস আলী, সিদ্দিকুর রহমান, সরবত আলী, তোফাজ্জল হোসেন, ফরিদ আহাম্মদ, কালীবাড়ীর রমজান আলীর নাম রয়েছে।

মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন এ তালিকা দাখিল করে। এ ছাড়া জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন নদীর জমি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও রক্ষার জন্য ১০ দফা সুপারিশ দাখিল করেছে। 

গতকাল সোমবার আদালতে এইচআরপিবির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পূরবী সাহা। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক। ‘মানিকগঞ্জ পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড’-এর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। 

এর আগে গত বছর ২৩ অক্টোবর হাইকোর্ট এক আদেশে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, অবৈধ স্থাপনা অপসারণে কেন এই তালিকার বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। রুলে একই সঙ্গে ধলেশ্বরী নদী দখল করে ‘ডরিন পাওয়ার’ নামের একটি কম্পানির বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ওই দুটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়।

‘ধলেশ্বরী দখল করে ডরিন পাওয়ারের বিদ্যুেকন্দ্র’ শিরোনামে গত ২৪ জুলাই প্রকাশিত সংবাদ সংযুক্ত করে এ রিট আবেদন করা হয়।



মন্তব্য