kalerkantho


হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য

মোহাম্মদপুরে চার হাসপাতাল সিলগালা, ১৫ লাখ টাকা দণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



লাইসেন্স না থাকলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ১৪টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হাইকোর্টের নির্দেশের পর অভিযান শুরু করেছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে এর মধ্যে চারটি হাসপাতাল গোপনে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছিল। এ কারণে ওই চারটি হাসপাতাল সিলগালা করে করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদারত। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মোহাম্মদপুরে ওই হাসপাতালগুলোতে অভিযান চালান র‌্যাবের নির্বাহী হাকিম সারওয়ার আলম।

হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কিছু হাসপাতাল বাইরের প্রধান ফটকে তালা মেরে ভেতরে গোপনে কার্যক্রম চালাচ্ছিল—এমন তথ্য পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত হাসপাতালগুলোতে অভিযান চালান।

র‌্যাবের নির্বাহী হাকিম সারওয়ার আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, দুপুর ১২টা থেকে অভিযান শুরু হয়। ছয়টি হাসপাতালে তল্লাশি চলে বিকেল পর্যন্ত। এর মধ্যে চারটি হাসপাতালকে মোট ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে এসব হাসপাতাল সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার লাইসেন্স দেখাতে না পারায় ১৪টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

র‌্যাবের নির্বাহী হাকিম সারওয়ার আলম বলেন, ছয়টি হাসপাতালের মধ্যে দুটি হাসপাতাল তাদের কাগজপত্র ঠিক করেছে। এ কারণে তাদের কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি। বাকিগুলোর কাগজপত্র ঠিক না থাকায় শাস্তি দেওয়া হয়। কারণ এরা আদালতের নির্দেশনার পরও গোপনে কার্যক্রম চালাচ্ছিল।

অভিযুক্ত হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো হচ্ছে বিডিএম হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সেবিকা জেনারেল হাসপাতাল, জনসেবা নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লাইফ কেয়ার নার্সিং হোম, রয়্যাল মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটাল, নবাব সিরাজ উদ-দৌলা মানসিক ও মাদকাসক্ত হাসপাতাল, মনমিতা মানসিক হাসপাতাল, প্লাজমা মেডিক্যাল সার্ভিস অ্যান্ড ক্লিনিক, শেফা হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ইসলামিয়া মানসিক হাসপাতাল, ক্রিসেন্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স, মক্কা-মদিনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক, নিউ ওয়েল কেয়ার হাসপাতাল ও বাংলাদেশ ট্রমা স্পেশালাইজড হাসপাতাল।

একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ লাইসেন্স না থাকলে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন।



মন্তব্য