kalerkantho


ফের উৎপাদনে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



৫২ দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে আবারও উৎপাদনে গেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ার দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। সম্প্রতি কয়লাসংকটের কারণে ৫২৫ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেলে বিদ্যুত্সংকটে পড়ে দিনাজপুরসহ রংপুর বিভাগের আট জেলা।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ম্যানেজার (উৎপাদন) প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান গতকাল বিকেলে বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে কেন্দ্রের স্টিমে আগুন দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে রাত ১০টার মধ্যে যেকোনো সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা উৎপাদন শুরু হয়। কয়েক দিনের কয়লা মজুদ হওয়ায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে ২৭৫ মেগাওয়াটের একটি ইউনিটে উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। কয়লা সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে  ১২৫ মেগাওয়াট শক্তির বাকি দুটি ইউনিটও চালু করা হবে। তিনি জানান, কয়লা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কম্পানি (বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি) কর্তৃপক্ষ কয়লা সরবরাহ করতে না পারায় গত ২২ জুলাই রাত সাড়ে ১১টায় কেন্দ্রটি বন্ধ করে দিতে হয়।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে উত্তোলনকৃত কয়লার মধ্যে এক লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লা গায়েব হয়ে যায়। এ জন্য কয়েকজন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও কয়েকজনকে সাময়িক বহিষ্কারও করা হয়। যদিও খনির কর্মকর্তাদের দাবি—এক লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লা গায়েব হয়নি, এটি ছিল সিস্টেম লস।

বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নর্দার্ন ইলেকট্রিক সাপ্লাই কম্পানির (নেসকো) রংপুর জোনের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেন সরকার বলেন, রংপুর বিভাগের আট জেলায় প্রতিদিন ৬৫০ মেগওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। এর মধ্যে ৫২৫ মেগাওয়াট আসে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে। তবে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন রেজিস্টার সূত্রে জানা গেছে, এই পরিমাণ উৎপাদন আসে না জ্বালানি ঘাটতির কারণে।

 



মন্তব্য